সাহিত্য পাঠ • যৌবনের গান • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

ষাটোর্ধো রহমান সাহেব প্রতিদিন গ্রামের পাঠশালায় শিশুদের পড়ানোর পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ অভিযান পরিচালনা করেন। অন্যদিকে বিশ বছরের যুবক তূর্য সারাদিন ঘরে বসে আলস্যে সময় কাটায় এবং কোনো ধরনের সামাজিক কাজে অংশগ্রহণ করে না। রহমান সাহেব বলেন, “শরীর বুড়ো হলেও আমার মন এখনও সজীব, আমি এখনো স্বপ্ন দেখি।”

  1. ক)

    ‘যৌবনের গান’ প্রবন্ধে শতশত তরুণ মিলে কী ফুটিয়ে তুলেছে?

    (1)
  2. খ)

    “আমি আজ তাঁহাদেরই দলে, যাহারা কর্মী নন—ধ্যানী।” — তাৎপর্য উদঘাটন কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের তূর্যর মাঝে ‘যৌবনের গান’ প্রবন্ধে বর্ণিত কোন শ্রেণির মানুষের প্রতিচ্ছবি দেখা যায়? কেন?

    (3)
  4. ঘ)

    “রহমান সাহেবের মানসিকতাই লেখকের সংজ্ঞায়িত প্রকৃত যৌবন।” — উদ্দীপক এবং ‘যৌবনের গান’ প্রবন্ধ অবলম্বনে মন্তব্যের যাথার্থ্য যাচাই কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কাজী নজরুল ইসলামের ‘যৌবনের গান’ প্রবন্ধে শতশত তরুণ মিলে ‘প্রাণের প্রাচুর্য’ বা নবজীবনের জয়গান ফুটিয়ে তুলেছে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উক্তিটির মাধ্যমে লেখক কেবল বাহ্যিক কায়িক শ্রমে যুক্ত মানুষের চেয়ে অন্তরের ভাবজগতে সত্য, সুন্দর ও নতুন স্বপ্নের সন্ধানকারী মানুষের গুরুত্বকে তুলে ধরেছেন।

    ‘যৌবনের গান’ প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক নজরুল ইসলাম স্পষ্ট করেছেন যে, জীবন কেবল গতানুগতিক স্থূল কাজের সমষ্টি নয়। সমাজকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য প্রয়োজন গভীর চিন্তা, নবচেতনা ও আদর্শের সন্ধান। যাঁরা ধ্যায়ী, তাঁরা অন্তরের আলো দিয়ে নতুনের স্বপ্ন দেখেন এবং সেই স্বপ্নই পরবর্তীকালে কর্মের অনুপ্রেরণা জোগায়। তাই লেখক নিজেকে নিছক স্থূল কর্মী না বলে ধ্যানী ও স্বপ্নদ্রষ্টাদের দলে অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের তূর্যর মাঝে ‘যৌবনের গান’ প্রবন্ধে বর্ণিত ‘বার্ধক্যের ব্যাধিগ্রস্ত’ বা স্থবির ও অসাড় শ্রেণির মানুষের প্রতিচ্ছবি দেখা যায়। বয়স কম হওয়া সত্ত্বেও কর্মহীনতা ও প্রাণের স্পন্দন না থাকার কারণে সে এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।

    ‘যৌবনের গান’ প্রবন্ধে কাজী নজরুল ইসলাম যৌবনকে কোনো নির্দিষ্ট বয়সসীমার মাপকাঠিতে সংজ্ঞায়িত করেননি। তাঁর মতে, যৌবন হলো উদ্যম, গতিশীলতা, সাহস ও সৃজনশীলতার প্রতীক। বিপরীতে, বয়সে তরুণ হয়েও যার মাঝে কোনো চাঞ্চল্য নেই, সৃষ্টির আনন্দ নেই, সমাজভাবনা নেই এবং যে অলসভাবে জড়বৎ দিন কাটায়, সে মূলত আত্মাহীন বৃদ্ধের সমান।

    উদ্দীপকের বিশ বছর বয়সী তূর্য সারাদিন ঘরে অলস বসে সময় নষ্ট করে এবং সমাজের কোনো কল্যাণকর কাজে অংশ নেয় না। এই প্রাণহীনতা, অকালবার্ধক্য ও স্থবিরতার কারণেই তূর্যর মাঝে প্রবন্ধের সেই জড়তাগ্রস্ত যুবকদের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে, যাদের দেহ তরুণ হলেও মন জরাগ্রস্ত ও মৃতপ্রায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    “রহমান সাহেবের মানসিকতাই লেখকের সংজ্ঞায়িত প্রকৃত যৌবন।” — মন্তব্যটি উদ্দীপক এবং ‘যৌবনের গান’ প্রবন্ধের ভাববস্তুর আলোকে যথার্থ ও তাৎপর্যপূর্ণ।

    কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর ‘যৌবনের গান’ প্রবন্ধে যৌবনের এক অভিনব ও মৌলিক দর্শন উপস্থাপন করেছেন। তাঁর মতে, যৌবন বয়সের মাপকাঠিতে নির্ধারিত হয় না; যৌবন হলো মনের সজীবতা, অদম্য প্রাণশক্তি এবং স্বপ্নের প্রাচুর্য। যে ব্যক্তি জরা ও বাধাকে অতিক্রম করে সর্বদা নতুন সৃষ্টিতে মেতে থাকে, কল্যাণকর্মে নিজেকে নিয়োজিত রাখে এবং হৃদয়ে চিরসবুজ স্বপ্ন লালন করে, সে-ই প্রকৃত অর্থে তরুণ। পক্ষান্তরে, কর্মহীন ও প্রাণহীন তরুণও প্রকৃত অর্থে বৃদ্ধ।

    উদ্দীপকের রহমান সাহেব ষাটোর্ধ্ব বয়সেও প্রতিদিন গ্রামের পাঠশালায় শিশুদের শিক্ষা দিচ্ছেন এবং সমাজকল্যাণে বৃক্ষরোপণ অভিযান পরিচালনা করছেন। তাঁর স্পষ্ট অভিমত—শরীর বৃদ্ধ হলেও তাঁর মন এখনও সজীব এবং তিনি এখনো স্বপ্ন দেখেন। তাঁর এই কর্মচাঞ্চল্য, সমাজপ্রীতি ও অন্তরের সজীবতাই প্রমাণ করে যে তিনি বার্ধক্যের কাছে পরাস্ত হননি।

    প্রাবন্ধিক নজরুলের ভাষায়, যার মধ্যে অদম্য প্রাণাবেগ ও সৃষ্টির আনন্দ রয়েছে, বয়সের ভার তাকে কখনোই বৃদ্ধ করতে পারে না। রহমান সাহেবের কর্মমুখর ও স্বপ্নময় জীবন নজরুলীয় চেতনার সেই ‘চিরযৌবনের’ মূর্ত প্রতীক।

    অতএব, রহমান সাহেবের মানসিকতা ও জীবনদর্শন কাজী নজরুল ইসলামের সংজ্ঞায়িত প্রকৃত যৌবনেরই যথার্থ প্রতিফলন। তাই উক্তিটি সম্পূর্ণরূপে সঠিক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন