পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ (১৯৪৭-১৯৭১) • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
সর্বজনীন ভোটাধিকার কী?
- খ)(2)
ছয় দফাকে বাংলার মুক্তি সনদ বলা হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে প্রশ্ন চিহ্নিত (?) স্থানটি তোমার পাঠ্য বইয়ের কোন বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করেছে? উক্ত বিশার বৈশিষ্ট্য বর্ণনা কর।
- ঘ)(4)
জনগণের সার্বভৌম প্রতিষ্ঠা এবং মৌলিক অধিকার রক্ষার বিষয়টির গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, লিঙ্গ বা পেশা নির্বিশেষে একটি নির্দিষ্ট বয়সের (যেমন বাংলাদেশে ১৮ বছর) সকল নাগরিকের ভোটাধিকার থাকাকে সর্বজনীন ভোটাধিকার বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবি ছিল মূলত বাঙালি জাতির স্বাধিকার ও মুক্তির সনদ।
এই ছয় দফার মাধ্যমে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, প্রশাসনিক ও সামরিক বৈষম্য দূর করে স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছিল। এর মাধ্যমেই বাঙালি জাতি তাদের প্রকৃত অধিকার ও মুক্তির পথ খুঁজে পায়, যা পরবর্তীতে স্বাধীনতা আন্দোলনের পথ সুগম করে। এজন্য ছয় দফাকে বাংলার 'ম্যাগনাকার্টা' বা 'মুক্তির সনদ' বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে প্রশ্নচিহ্নিত (?) স্থানটি পাঠ্যবইয়ের '১৯৭২ সালের বাংলাদেশের সংবিধান'-এর প্রতি ইঙ্গিত করেছে। (উদ্দীপকের চিত্রে মুদ্রণজনিত কারণে '১৯৭১' লেখা থাকলেও বৈশিষ্ট্যসমূহ—১৬ ডিসেম্বর কার্যকর, লিখিত ও চারটি মূলনীতি—১৯৭২ সালের সংবিধানকে নির্দেশ করে)।
১৯৭২ সালের প্রণীত বাংলাদেশ সংবিধানের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ নিচে আলোচনা করা হলো:
১. লিখিত সংবিধান: এটি একটি লিখিত দলিল, যাতে একটি প্রস্তাবনা, ১১টি ভাগ, ১৫৩টি অনুচ্ছেদ এবং ৪টি তফসিল ছিল।
২. রাষ্ট্র পরিচালনার চার মূলনীতি: এতে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতা—এই চারটি মূলনীতি ঘোষণা করা হয়।
৩. দুষ্পরিবর্তনীয়: সংবিধানের কোনো বিধান পরিবর্তন বা সংশোধন করতে হলে জাতীয় সংসদের মোট সদস্য-সংখ্যার কমপক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ ভোটের প্রয়োজন হয়।
৪. সংসদীয় পদ্ধতির সরকার: এতে মন্ত্রিপরিষদ শাসিত বা সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়।
৫. এক কক্ষবিশিষ্ট আইনসভা: আইনসভা হিসেবে 'জাতীয় সংসদ' নামে একটি এক কক্ষবিশিষ্ট আইনসভার বিধান রাখা হয়।
৬. মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা: সংবিধানে নাগরিকদের মৌলিক অধিকারগুলো সুস্পষ্টভাবে সন্নিবেশিত করা হয় এবং তা বলবৎ করার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে নির্দেশিত ১৯৭২ সালের গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে জনগণের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা এবং মৌলিক অধিকার সংরক্ষণের গুরুত্ব অপরিসীম।
প্রথমত, জনগণের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা: সংবিধানের ৭(১) অনুচ্ছেদে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, "প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ; এবং জনগণের পক্ষে সেই ক্ষমতার প্রয়োগ কেবল এই সংবিধানের অধীন ও কর্তৃত্বে কার্যকর হইবে।" এটি নিশ্চিত করে যে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাষ্ট্র পরিচালনার চূড়ান্ত কর্তৃত্ব জনগণের হাতে ন্যস্ত। জনগণ তাদের প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার ম্যান্ডেট প্রদান করে। এর ফলে স্বৈরতন্ত্রের পথ রুদ্ধ হয় এবং গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি চর্চার পরিবেশ তৈরি হয়।
দ্বিতীয়ত, মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ: সংবিধানের তৃতীয় ভাগে নাগরিকদের জীবনধারণ, চলাফেরা, সমাবেশ, বাক ও ভাব প্রকাশ, ধর্মীয় স্বাধীনতা প্রভৃতি মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। শুধু অধিকার ঘোষণাই নয়, সংবিধানের ৪৪ ও ১০২ অনুচ্ছেদ অনুসারে কোনো নাগরিকের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হলে সুপ্রিম কোর্টে রিট পিটিশন দায়েরের মাধ্যমে প্রতিকার পাওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। এর ফলে রাষ্ট্রের অন্যায্য হস্তক্ষেপ থেকে নাগরিকের ব্যক্তিস্বাধীনতা ও মর্যাদা সুরক্ষিত থাকে।
পরিশেষে বলা যায়, জনগণের সার্বভৌমিকতা ছাড়া একটি দেশ প্রকৃত গণতান্ত্রিক হতে পারে না এবং মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা ছাড়া নাগরিকের বিকাশ অসম্ভব। তাই ন্যায়ভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে সংবিধানে জনগণের সার্বভৌমত্ব ও মৌলিক অধিকারের স্বীকৃতি ও বাস্তবায়ন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও