ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯
ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন
রাফিদ ও সাবিক দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র। দুজনের আলাপচারিতায় রাফিদ বলল, মহান আল্লাহ তায়ালা বান্দার জন্য এমন একটি ইবাদতের ব্যবস্থা করেছেন, যা পবিত্র হয়ে, সকল প্রকার পাপ থেকে বিরত থেকে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আদায় করলে তার একমাত্র প্রতিদান জান্নাত। এই ইবাদত বিশ্ব ভ্রাতৃত্বকেও জাগ্রত করে। অপর পক্ষে সাবিক বলল, বন্ধু! এমন একটি ইবাদত আছে যা পালনের মাধ্যমে অশ্লীলতা, অন্যায়-অবিচার, জুলুম দূর হয়ে যায়।
- ক)(1)
সাওম অর্থ কী?
- খ)(2)
মনের সংকীর্ণতা ও কৃপণতাকে যারা অতিক্রম করতে পেরেছে, কেবল তারাই সর্বাঙ্গীন সফলকাম"- ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত জনাব রাফিদ কোন ইবাদতের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত জনাব সাবিকের বক্তব্যে কী ফুটে উঠেছে? বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সাওম শব্দের আভিধানিক অর্থ বিরত থাকা বা আত্মসংযম করা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উক্তিটি পবিত্র কুরআনের সূরা আত-তাগাবুনের ১৬ নম্বর আয়াতের ভাবার্থ। মানুষের মনের সংকীর্ণতা ও কৃপণতা তাকে আল্লাহর পথে ব্যয় করা এবং সৎকর্মে নিয়োজিত হওয়া থেকে বাধাগ্রস্ত করে। কৃপণতা আত্মার ব্যাধি, যা লোভ-লালসা ও অকল্যাণের জন্ম দেয়। যে ব্যক্তি এই কুপ্রবৃত্তি ও কৃপণতাকে নিয়ন্ত্রণ করে নিঃস্বার্থভাবে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে দান-সদকা করে এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করে, সে ইহকালে মানসিক প্রশান্তি পায় এবং পরকালে মুক্তি ও চূড়ান্ত সাফল্য লাভ করে। তাই তারাই মূলত সর্বাঙ্গীন সফলকাম।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে জনাব রাফিদ 'হজ' ইবাদতের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন।
ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম একটি স্তম্ভ হলো হজ। হাদিস অনুযায়ী, কবুল হজের একমাত্র প্রতিদান হলো জান্নাত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এমনভাবে হজ করল যাতে কোনো অশ্লীল কাজ করেনি এবং কোনো গোনাহে লিপ্ত হয়নি, সে এমন নিষ্পাপ হয়ে ফিরে আসে যেন সে আজই তার মায়ের গর্ভ থেকে ভূমিষ্ঠ হলো।"
উদ্দীপকে রাফিদ উল্লেখ করেছেন এমন এক ইবাদতের কথা, যা পবিত্র হয়ে ও সকল পাপ থেকে বিরত থেকে পালন করলে প্রতিদান জান্নাত এবং যা বিশ্ব ভ্রাতৃত্বকে জাগ্রত করে। হজের মৌসুমে বিশ্বের প্রতিটি প্রান্ত থেকে বর্ণ, ভাষা ও গোত্র নির্বিশেষে সকল মুসলিম এক স্থানে মিলিত হয়ে একই পোশাকে আল্লাহর দরবারে হাজির হয়, যা অনন্য বিশ্ব ভ্রাতৃত্বের এক জীবন্ত প্রতীক। সুতরাং রাফিদের বক্তব্যে হজের গুরুত্ব নির্দেশিত হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত জনাব সাবিকের বক্তব্যে ইসলামের অন্যতম মৌলিক ইবাদত 'সালাত' (নামাজ)-এর গুরুত্ব ফুটে উঠেছে।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, "নিশ্চয়ই সালাত অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে" (সূরা আল-আনকাবুত: ৪৫)। সালাতের মূল তাৎপর্য হলো মানুষের নৈতিক ও আত্মিক পরিশুদ্ধি অর্জন। একজন মানুষ যখন দিনে পাঁচবার আল্লাহর সমীপে উপস্থিত হয়ে তাঁর মহত্ত্ব স্বীকার করে এবং জবাবদিহিতার অনুভূতি নিয়ে সালাত আদায় করে, তখন তার অন্তর থেকে পাপপ্রবৃত্তি দূরীভূত হয়।
সালাতের মাধ্যমে ব্যক্তির মধ্যে তাকওয়া বা খোদাভীতি জাগ্রত হয়। এই তাকওয়াপূর্ণ মনোভাব তাকে ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে অশ্লীলতা, অন্যায়, অবিচার, শোষণ ও জুলুম থেকে বিরত রাখে। তাছাড়া সালাতের সুশৃঙ্খল পরিবেশ মানুষকে সময়নিষ্ঠ, পরোপকারী এবং ন্যায়পরায়ণ হতে সাহায্য করে। সাবিক যে ইবাদতের মাধ্যমে অন্যায়-অবিচার ও অশ্লীলতা দূর হওয়ার কথা বলেছেন, তা মূলত সালাতেরই অন্যতম প্রধান চারিত্রিক ও সামাজিক প্রভাব। অতএব, যথাযথ সালাত আদায়ের ফলেই ব্যক্তি ও সমাজে অশ্লীলতা এবং জুলুম প্রতিহত করা সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও