জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • মানব শারীরতত্ত্ব : শ্বসন ও শ্বাসক্রিয়া • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
নিচের চিত্রটি লক্ষ কর:
- ক)(1)
স্বরযন্ত্র কী?
- খ)(2)
কখন কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাস প্রয়োজন হয়?
- গ)(3)
একজন নিয়মিত ধূমপায়ীর 'P' অঙ্গে কী কী পরিবর্তন হতে পারে?
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে নির্দেশিত 'Q' অংশ থেকে পরিবেশে গ্যাসের পরিবহন পদ্ধতি বর্ণনা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
গলবিলের নিচে ও শ্বাসনালির (ট্রাকিয়া) শীর্ষে অবস্থিত তরুণাস্থি নির্মিত যে প্রকোষ্ঠের ভেতরে স্বররজ্জু (ভোকাল কর্ড) থাকে এবং যা শব্দ বা ধ্বনি সৃষ্টি করে, তাকে স্বরযন্ত্র বা ল্যারিংস (Larynx) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো কারণে স্বাভাবিক শ্বাসক্রিয়া বিঘ্নিত বা বন্ধ হয়ে গেলে রোগীর জীবন বাঁচাতে সাময়িকভাবে বাইরে থেকে কৃত্রিম উপায়ে অক্সিজেন সরবরাহ ও শ্বাস পরিচালনা করার প্রয়োজন হয়। যেমন—
১. পানিতে ডুবে যাওয়া, বিষাক্ত গ্যাস গ্রহণ বা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার কারণে স্বাভাবিক শ্বাসক্রিয়া থেমে গেলে।
২. মারাত্মক নিউমোনিয়া, ফুসফুসের তীব্র সংক্রমণ, মস্তিষ্কের শ্বাসনিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের বিকলতা বা শ্বাসযন্ত্রের প্যারালাইসিসের ক্ষেত্রে রোগীর দেহে প্রয়োজনীয় গ্যাসীয় বিনিময় বজায় রাখতে কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসের প্রয়োজন হয়। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে নির্দেশিত 'P' অঙ্গটি হলো মানবদেহের ফুসফুস (Lungs)। একজন নিয়মিত ধূমপায়ীর ফুসফুসে নিম্নলিখিত ক্ষতিকর পরিবর্তন ও রোগ সৃষ্টি হতে পারে:
১. সিলিয়া ও শ্লেষ্মা নিঃসরণ ব্যবস্থার ক্ষতি: তামাকের ধোঁয়ায় থাকা বিভিন্ন বিষাক্ত রাসায়নিকের প্রভাবে শ্বাসনালির সিলিয়া ধ্বংস হয়ে যায়। ফলে শ্লেষ্মা ও ধুলাবালি স্বাভাবিকভাবে বের হতে পারে না এবং সেখানে শ্লেষ্মা জমে প্রদাহের সৃষ্টি হয় (ক্রনিক ব্রংকাইটিস)।
২. অ্যালভিওলাইয়ের দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া (এমফাইসিমা): ধূমপানের ফলে ফুসফুসের অ্যালভিওলাইয়ের প্রাচীর ফেটে বা নষ্ট হয়ে যায়। এতে ফুসফুসের গ্যাস বিনিময়ের কার্যকর তল কমে যায় এবং শ্বাসকষ্টের সৃষ্টি হয়।
৩. ফুসফুসের ক্যান্সার: সিগারেটের ধোঁয়ায় প্রায় ৪০০০-এর বেশি ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান এবং কার্সিনোজেন (যেমন- টার, বেনজোপাইরিন ইত্যাদি) থাকে, যা ফুসফুসের কোষে অনিয়ন্ত্রিত কোষ বিভাজন ঘটিয়ে ক্যান্সার সৃষ্টি করে।
৪. ফুসফুসের স্থিতিস্থাপকতা হ্রাস ও রঙ পরিবর্তন: ক্রমাগত টার ও কার্বন কণা জমার কারণে গোলাপি ফুসফুস কালচে বর্ণ ধারণ করে এবং ফুসফুসের সংকোচন-প্রসারণের স্বাভাবিক স্থিতিস্থাপকতা নষ্ট হয়ে যায়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'Q' নির্দেশ করছে মানবদেহের দেহকোষ বা কলা (Tissue) এবং 'P' হলো ফুসফুস। অতএব, প্রশ্নোক্ত প্রক্রিয়াটি হলো দেহকোষ (Q) থেকে ফুসফুসের (P) মাধ্যমে পরিবেশে কার্বন ডাই-অক্সাইড () পরিবহন। কোষীয় শ্বসনে উৎপন্ন ব্যাপন প্রক্রিয়ায় রক্তে প্রবেশ করে প্রধানত তিনটি উপায়ে ফুসফুসে পরিবাহিত হয় এবং সেখান থেকে পরিবেশে মুক্ত হয়:
১. ভৌত দ্রবণরূপে পরিবহন (প্রায় ৫%):
রক্তরসে থাকা পানির সাথে দ্রবীভূত হয়ে কার্বনিক এসিড () গঠন করে পরিবাহিত হয়:
২. কার্বামিনো যৌগরূপে পরিবহন (প্রায় ১০%–২৭%):
রক্তের প্রোটিনের সাথে সরাসরি যুক্ত হয়ে কার্বামিনো যৌগ তৈরি করে:- গ্লোবিনের সাথে যুক্ত হয়ে কার্বামিনো-হিমোগ্লোবিন গঠন:
- প্লাজমা প্রোটিনের সাথে যুক্ত হয়ে কার্বামিনো-প্রোটিন গঠন:
৩. বাইকার্বনেট যৌগরূপে পরিবহন (প্রায় ৬৫%–৮৫%):
এটি পরিবহনের প্রধান উপায়। লোহিত রক্তকণিকায় কার্বনিক অ্যানহাইড্রেজ এনজাইমের সহায়তায় ও বিক্রিয়া করে দ্রুত উৎপন্ন করে। এই এসিড বিশ্লিষ্ট হয়ে বাইকার্বনেট আয়ন () তৈরি করে।- লোহিত রক্তকণিকার পটাশিয়ামের সাথে যুক্ত হয়ে পটাশিয়াম বাইকার্বনেট () গঠন করে।
- ক্লোরাইড শিফট (হ্যামবার্গার ফেনোমেনন) প্রক্রিয়ায় রক্তরসে প্রবেশ করে সোডিয়ামের সাথে যুক্ত হয়ে সোডিয়াম বাইকার্বনেট () গঠন করে।
পরিবেশে গ্যাস মুক্ত হওয়া:
রক্ত যখন ফুসফুসের কৈশিক জালিকা অতিক্রম করে, তখন ফুসফুসের অ্যালভিওলাইয়ের কম চাপের প্রভাবে বিপরীতমুখী বিক্রিয়া ঘটে। এর ফলে বাইকার্বনেট ও কার্বামিনো যৌগগুলো বিশ্লিষ্ট হয়ে মুক্ত -এ পরিণত হয়। এই কৈশিক জালিকা থেকে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় ফুসফুসের অ্যালভিওলাইয়ে প্রবেশ করে এবং পরবর্তীতে নিঃশ্বাসের বায়ুর সাথে পরিবেশে উন্মুক্ত হয়। - গ্লোবিনের সাথে যুক্ত হয়ে কার্বামিনো-হিমোগ্লোবিন গঠন:
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও