সহপাঠ • উপন্যাস: লালসালু • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬ (অনিয়মিত)
সহপাঠ প্রশ্ন
আবির ডাক্তারি পাস করে গ্রামে ফিরে আসে। উদ্দেশ্য স্বল্প টাকা ও মানবিক সেবা দিয়ে রোগীকে সুস্থ করে তোলা। তার মহৎ উদ্দেশ্যের কথা জানতে পেরে এলাকার রোগীরা ভিড় করতে থাকে। ওদিকে হাতুড়ে ডাক্তারদের মাথায় হাত। দিনে দিনে তাদের রোগী কমতে-কমতে প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসে। ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে হাতুড়ে ডাক্তাররা নানারকম ফন্দিফিকির আঁটতে থাকে। অবশেষে ডাক্তার আবিরের চরিত্রে কলঙ্ক রটিয়ে তাকে গ্রামছাড়া করে।
- ক)(1)
"ধান দিয়া কী হইব, মানুষের জান যদি না থাকে?"—উক্তিটি কার?
- খ)(2)
"শীর্ণ লোকটি চিৎকার করে গালাগাল করে লোকদের।"—কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের হাতুড়ে ডাক্তাররা 'লালসালু' উপন্যাসের কোন চরিত্রের কথা মনে করিয়ে দেয়? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
"নিজের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য অন্যকে অপবাদ দেওয়া একটা কৌশলমাত্র।"—'লালসালু' উপন্যাস ও উদ্দীপকের আলোকে মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"ধান দিয়া কী হইব, মানুষের জান যদি না থাকে?"—উক্তিটি জমিলা খালাকের (রহিমার)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আউয়ালপুরের পীর সাহেবের কাছে মুরিদ হতে এসে কাঙ্ক্ষিত সুযোগ না পেয়ে ক্ষোভে ও হতাশায় শীর্ণ লোকটি চিৎকার করে লোকদের গালাগাল করে।
'লালসালু' উপন্যাসে দেখা যায়, আউয়ালপুরের পীরের আগমন উপলক্ষে বহু লোক রোগমুক্তি ও দোয়ার আশায় জমায়েত হয়। ভীড়ের কারণে শীর্ণ অসুস্থ লোকটি পীর সাহেবের কাছে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়। তীব্র রোগযন্ত্রণা, অবহেলা এবং আশাহত মানসিক অবস্থার কারণে সে নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সমবেত মানুষদের উদ্দেশ্যে চিৎকার করে অভিশাপ ও গালাগাল দিতে থাকে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের হাতুড়ে ডাক্তাররা 'লালসালু' উপন্যাসের ধর্মব্যবসায়ী মজিদ চরিত্রের কথা মনে করিয়ে দেয়।
'লালসালু' উপন্যাসে মজিদ মহব্বতনগর গ্রামে নিজের কায়েমি স্বার্থ ও অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে ধর্মকে অপব্যবহার করে। যখনই তার কর্তৃত্ব বা স্বার্থে কোনো সংকট তৈরি হয়েছে, তখনই সে ছলচাতুরীর আশ্রয় নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীদের দমন করেছে। আউয়ালপুরে নতুন পীরের আগমন ঘটলে নিজের আধিপত্য হারানোর ভয়ে সে কূটকৌশল গ্রহণ করে। একইভাবে আক্কাস গ্রামে স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিলে মজিদ নিজের প্রভাব খর্ব হওয়ার আশঙ্কায় ধর্মীয় কুসংস্কারের ধুয়া তুলে তাকে গ্রামছাড়া করে।
উদ্দীপকের হাতুড়ে ডাক্তাররাও নিজেদের ভুল চিকিৎসা ও স্বার্থ টিকিয়ে রাখতে শিক্ষিত ডাক্তার আবিরকে হুমকি মনে করে। আবিরের মানবসেবা ও সাফল্যের কারণে তাদের ব্যবসা নষ্ট হতে বসলে তারা মিথ্যে অপবাদ রটিয়ে তাকে গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দেয়। মহব্বতনগরে মজিদ যেমন নিজের কর্তৃত্ব টিকিয়ে রাখতে স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগী আক্কাসকে ষড়যন্ত্র করে বিতারিত করেছিল, উদ্দীপকের হাতুড়ে ডাক্তাররাও একইভাবে আবিরের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে। তাই তাদের কার্যকলাপ 'লালসালু'র মজিদ চরিত্রের সাথে পুরোপুরি সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"নিজের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য অন্যকে অপবাদ দেওয়া একটা কৌশলমাত্র"—মন্তব্যটি উদ্দীপক এবং সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর 'লালসালু' উপন্যাস উভয় প্রেক্ষাপটেই যথার্থ।
'লালসালু' উপন্যাসে মজিদ নিঃস্ব অবস্থায় মহব্বতনগর গ্রামে এসে একটি অজ্ঞাত কবরকে 'মোদাচ্ছের পীর'-এর মাজার বানিয়ে নিজের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অস্তিত্ব নিশ্চিত করে। পরবর্তীকালে গ্রামের শিক্ষিত যুবক আক্কাস যখন শিক্ষার আলো ছড়ানোর উদ্দেশ্যে একটি আধুনিক স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে চায়, তখন মজিদ বুঝতে পারে শিক্ষার প্রসার ঘটলে তার কুসংস্কারভিত্তিক ধর্মীয় ব্যবসা টিকে থাকবে না। ফলে নিজের আধিপত্য বজায় রাখতে মজিদ সচেতনভাবেই আক্কাসের মহৎ উদ্যোগের পরিবর্তে তার দাড়ি না থাকার বিষয়টি সামনে আনে এবং আক্কাসকে অধার্মিক বা বেদ্বীন প্রতিপন্ন করে অপমানিত ও গ্রামছাড়া করে।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, ডাক্তার আবির গ্রামে এসে স্বল্প খরচে মানবিক চিকিৎসাসেবা প্রদান করতে শুরু করলে রোগীদের ভিড় বাড়তে থাকে এবং হাতুড়ে ডাক্তারদের ব্যবসা বন্ধের উপক্রম হয়। নিজেদের স্বার্থ ও অস্তিত্ব রক্ষার্থে হাতুড়ে ডাক্তাররা আবিরের চরিত্রে কলঙ্ক ও মিথ্যা অপবাদ রটিয়ে তাকে গ্রামছাড়া করে।
সুতরাং দেখা যায়, ব্যক্তি যখন নিজের সংকীর্ণ স্বার্থ বা অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার আর কোনো সৎ উপায় খুঁজে পায় না, তখন প্রতিদ্বন্দ্বীকে হেনস্তা করতে অপবাদের মতো কূটকৌশল বেছে নেয়। মজিদ ও উদ্দীপকের হাতুড়ে ডাক্তারদের আচরণে এ সত্যটি সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও