সহপাঠ • নাটক: সিরাজউদ্দৌলা • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৫
সহপাঠ প্রশ্ন
মিলি ও লিলি দুই বোন। মিলি দীর্ঘদিন পরে বিদেশ থেকে দেশে ফিরল এবং জানল যে তাদের বাবার মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর পূর্বে তাদের বাবা সম্পত্তির কিছু অংশ লিলিকে দান করে যান। এই নিয়ে মিলি ভীষণ গোলযোগ সৃষ্টি করে। সে মনে করে লিলি তাদের বাবাকে ভুলিয়ে সম্পত্তি আত্মসাৎ করেছে। সে প্রতিশোধ নিতে ভয়ংকর হয়ে ওঠে। লিলির একমাত্র ছেলেকে সে মেরে ফেলার ষড়যন্ত্র করে।
- ক)(1)
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের শেষ সংলাপটি কার?
- খ)(2)
"ঘরের লোক অবিশ্বাসী হলে বাইরের লোকের পক্ষে সবই সম্ভব"-ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের কোন চরিত্রের সাথে ঘসেটি বেগমের চরিত্রের মিল রয়েছে? বুঝিয়ে লেখো।
- ঘ)(4)
"উদ্দীপকের দ্বন্দ্ব পারিবারিক কিন্তু 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের দ্বন্দ্ব রাজনৈতিক"-বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের শেষ সংলাপটি ক্লাইভের।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"ঘরের লোক অবিশ্বাসী হলে বাইরের লোকের পক্ষে সবই সম্ভব"—উক্তিটির দ্বারা ঘরের মানুষের বিশ্বাসঘাতকতা থাকলে বাইরের শত্রুর ষড়যন্ত্র ও ক্ষতিসাধন যে অত্যন্ত সহজ হয়ে যায়, তা বোঝানো হয়েছে।
সিকান্দার আবু জাফরের 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে নবাব সিরাজউদ্দৌলা যখন দেশ ও সিংহাসন রক্ষা করার আপ্রাণ চেষ্টা করছিলেন, তখন তাঁর আপন খালা ঘসেটি বেগম এবং সেনাপতি মীর জাফরসহ দরবারের অনেকেই তাঁর বিরুদ্ধে গোপনে ইংরেজদের সাথে হাত মেলায়। আপনজনদের এই চরম বিশ্বাসঘাতকতার কারণেই বিদেশি ইংরেজ বণিকরা ক্ষমতা দখলের সাহস ও সুযোগ পেয়েছিল। নবাবের পতন ত্বরান্বিত হওয়ার প্রেক্ষাপটেই এই সত্যটি উচ্চারিত হয়েছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের 'মিলি' চরিত্রের সাথে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের ঘসেটি বেগম চরিত্রের গভীর মিল রয়েছে।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে দেখা যায়, ঘসেটি বেগম সিরাজউদ্দৌলার আপন বড় খালা হওয়া সত্ত্বেও সিরাজের নবাব হওয়া মেনে নিতে পারেননি। তিনি ক্ষমতার লোভে ও প্রতিহিংসায় অন্ধ হয়ে সিরাজের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠেন এবং চরম শত্রু ইংরেজদের সাথে হাত মেলান। এমনকি সিরাজের বিনাশ সাধনে তিনি সর্বশক্তি নিয়োগ করেন।
উদ্দীপকে মিলি দীর্ঘদিন পর বিদেশ থেকে ফিরে দেখে তার বাবা সম্পত্তির কিছু অংশ বোন লিলিকে দান করেছেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে মিলি সন্দেহবশত প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে ওঠে এবং বোন লিলির একমাত্র সন্তানকে হত্যার মতো নৃশংস ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। মিলির এই হিংস্রতা, স্বার্থপরতা ও আপনজনের ওপর নির্মম প্রতিশোধস্পৃহা সরাসরি সিরাজউদ্দৌলা নাটকের কুচক্রী ঘসেটি বেগমের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের সাথে মিলে যায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"উদ্দীপকের দ্বন্দ্ব পারিবারিক কিন্তু 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের দ্বন্দ্ব রাজনৈতিক"—মন্তব্যটি সম্পূর্ণ সত্য ও যথার্থ।
স্বার্থের সংঘাত নানা মাত্রায় ঘটতে পারে; উদ্দীপকে তা পারিবারিক সম্পদের ভাগ-বাঁটোয়ারায় সীমাবদ্ধ থাকলেও নাটকে তা রাষ্ট্রক্ষমতা ও জাতীয় সার্বভৌমত্বের দ্বন্দ্বে রূপ নিয়েছে।
উদ্দীপকে মিলি ও লিলির মধ্যকার দ্বন্দ্বটি একান্তই পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে। বাবার দেওয়া কিছু সম্পত্তি লিলি পাওয়ার কারণে মিলির মনে হিংসা ও ক্ষোভের জন্ম হয় এবং সে ভাগ্নেকে হত্যার ষড়যন্ত্র করে। এই বিরোধটি একটি পরিবারের গণ্ডির ভেতরেই সীমিত এবং এর প্রভাব শুধু ঐ পরিবারের সদস্যদের ওপরেই পড়ে।
অপরদিকে, সিকান্দার আবু জাফরের 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে সিরাজের বিরুদ্ধে মীর জাফর ও ঘসেটি বেগমদের ষড়যন্ত্রটি কেবল পারিবারিক অসন্তোষে সীমাবদ্ধ ছিল না। তা ছিল নবাবির মসনদ দখল, ক্ষমতার আধিপত্য এবং দেশি-বিদেশি বেনিয়াদের রাজনৈতিক স্বার্থের সংঘাত। মীর জাফর, জগৎশেঠ, উমিচাঁদ এবং ক্লাইভদের রাজনৈতিক চক্রান্তের ফলেই পলাশীর যুদ্ধে নবাবের পরাজয় ঘটে এবং সমগ্র বাংলার স্বাধীনতা অস্তমিত হয়।
সুতরাং পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকের বিরোধ যেখানে তুচ্ছ পারিবারিক বিষয় ও বৈষয়িক সম্পত্তি কেন্দ্রিক, সেখানে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের দ্বন্দ্ব দেশের শাসনক্ষমতা, রাজনীতি ও সার্বভৌমত্বকে কেন্দ্র করে আবর্তিত এক মহাবিপত্তি। তাই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথাযথ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও