সাহিত্য পাঠ • অর্ধাঙ্গী • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

“খাঁচার পাখি ছিল সোনার খাঁচায় বন্দি চিরকাল
ডানার শক্তি ভুলেছে সে আজ, ভুলিয়াছে নভে নীল
বাহিরের আলো দেখেনি সে কভু, জানেনা কি তার তেজ
পিঞ্জরে বসে সাজায় সে আজ মিছে গয়নার রেশ।
মুক্তি যদি না লভে বিহগী আকাশ রহিবে শূন্য
ডানায় ডানা মেলা ছাড়া কি হয় জীবনের গান ধন্য?”

  1. ক)

    ‘নজম-উল-ওলামা’ এর অর্থ কী?

    (1)
  2. খ)

    “স্ত্রীদের বিদ্যার দৌড় সচরাচর ‘বোধোদয়’ পর্যন্ত!” — তাৎপর্য বিশ্লেষণ কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের খাঁচার পাখির সঙ্গে ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধের নারীদের কোন বৈশিষ্ট্যের মিল পরিলক্ষিত? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    “পাখিকে খাঁচা থেকে মুক্ত করার জন্য কবির প্রবল ইচ্ছাই ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধের নারী জাগরণের মূল চেতনা।” — মন্তব্যটির যাথার্থ্য বিচার কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ‘নজম-উল-ওলামা’ শব্দের অর্থ হলো ‘পণ্ডিতদের নক্ষত্রস্বরূপ’ বা বিজ্ঞ পণ্ডিতগণের জ্যোতিষ্ক।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উক্তিটির মাধ্যমে তৎকালীন সমাজে নারীদের সামান্য বা নামমাত্র অক্ষরজ্ঞান করিয়েই তাদের শিক্ষার ইতি টানার সংকীর্ণ মানসিকতাকে বোঝানো হয়েছে।

    রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধের সময়ে সমাজে নারীদের প্রকৃত ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ ছিল না। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রাথমিক শিশুতোষ গ্রন্থ ‘বোধোদয়’ পড়ে কোনোমতে একটু পড়তে ও বুঝতে পারলেই ভাবা হতো নারীর জন্য যথেষ্ট বিদ্যা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে নারীদের চিন্তাশক্তি ও ব্যক্তিত্ব বিকাশের কোনো ব্যবস্থা ছিল না বলেই লেখিকা ব্যঙ্গ করে এই করুণ বাস্তবতার দিকটি তুলে ধরেছেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের খাঁচার পাখির সঙ্গে ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধে বর্ণিত নারীদের পরাধীনতা, স্বকীয় ক্ষমতার বিস্মৃতি এবং অন্তঃপুরের অলস-অসার জীবনের মোহে নিমগ্ন থাকার বৈশিষ্ট্যের মিল পরিলক্ষিত হয়।

    ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধে রোকেয়া দেখিয়েছেন যে, সমাজ ও পরিবারের পুরুষতান্ত্রিক বেড়াজালে নারী কেবল অলংকার ও বিলাসের সামগ্রীতে পরিণত হয়েছে। নারীরা নিজেদের মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক শক্তি হারিয়ে পুরুষের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। তারা নিজেদের দাসত্বকে বুঝতে না পেরে বরং গৃহকোণে আবদ্ধ থেকে সামান্য গহনা ও পোশাকের অহংকারেই সন্তুষ্ট থাকে।

    উদ্দীপকের খাঁচার পাখিটিও দীর্ঘদিন সোনার খাঁচায় বন্দি থাকতে থাকতে নিজের ডানার ওড়ার শক্তি এবং উন্মুক্ত আকাশের কথা ভুলে গেছে। সে বাইরের মুক্ত জগৎ না দেখে খাঁচার ভেতর বসে মিথ্যা অলংকারের মোহে নিজেকে সাজাচ্ছে। উদ্দীপকের এই বন্দিদশা ও অলীক সন্তুষ্টির চিত্র ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধের অন্তঃপুরবাসিনী আত্মমর্যাদাহীন নারীদের জীবনের সাথে সম্পূর্ণরূপে মিলে যায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    “পাখিকে খাঁচা থেকে মুক্ত করার জন্য কবির প্রবল ইচ্ছাই ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধের নারী জাগরণের মূল চেতনা।” — মন্তব্যটি অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত ও যথার্থ।

    রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধের মূল বক্তব্য হলো সমাজদেহের অর্ধেক অংশ নারী জাতিকে অজ্ঞতা ও পরাধীনতার অন্ধকূপ থেকে মুক্ত করে পুরুষের সমকক্ষ করে গড়ে তোলা। তিনি বিশ্বাস করতেন, স্বামী-স্ত্রী মিলে একটি পূর্ণাঙ্গ সত্তা; তাই নারীকে পিছিয়ে রেখে কেবল পুরুষের একার অগ্রযাত্রায় সমাজ কখনোই প্রকৃত উন্নতি লাভ করতে পারে না।

    উদ্দীপকের কবিতায় কবি উপলব্ধি করেছেন যে, খাঁচায় বন্দি পাখিটি মুক্তির আস্বাদ না পেলে এবং ডানা মেলে নীল আকাশে না উড়লে জীবনের পূর্ণ সার্থকতা আসে না। পাখির এই রূপকের অন্তরালে মূলত বন্দিত্ব মোচন এবং মুক্তির তীব্র আকুতিই ধ্বনিত হয়েছে।

    ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধেও রোকেয়া নারীদের চার দেয়ালের বন্দিদশা ও অলংকারসর্বস্ব পুতুল-জীবন ভেঙে শিক্ষার আলোয় আলোকিত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি চেয়েছেন নারীরা তাদের সুপ্ত শক্তিকে জাগ্রত করুক এবং সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে নিজেদের অপরিহার্য ভূমিকা পালন করুক। উদ্দীপকের কবির আকাঙ্ক্ষা যেমন খাঁচার বিহঙ্গীকে মুক্ত আকাশে ডানা মেলতে দেখার, ঠিক তেমনি রোকেয়ারও লক্ষ্য ছিল নারীদের অজ্ঞতার খাঁচা থেকে মুক্ত করে বৃহত্তর সমাজজীবনে স্বাধীনভাবে বিচরণ করানো।

    সুতরাং, উদ্দীপকের মুক্তির অভীপ্সা এবং ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধের নারী জাগরণের মর্মবাণী এক ও অভিন্ন হওয়ায় মন্তব্যটি পুরোপুরি যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন