যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৫
যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন
দৃষ্টান্ত-১: উট হয় মরুভূমির জাহাজ। দৃষ্টান্ত-২: হস্তী হলো প্রচণ্ড মত্ত চতুষ্পদী দেহধারী এক প্রকার আত্মা।
- ক)(1)
বর্ণনা কী?
- খ)(2)
ঈশ্বরের সংজ্ঞা দেয়া যায় না কেন?
- গ)(3)
দৃষ্টান্ত-১ এ যৌক্তিক-সংজ্ঞার কোন অনুপপত্তি ঘটেছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
দৃষ্টান্ত-২ এর সংজ্ঞাটির যথার্থতা মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো পদের অবান্তর বা উপলক্ষণ এবং অন্যান্য বাহ্যিক গুণের উল্লেখ করে তার স্বরূপ প্রকাশ করাকে বর্ণনা বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যৌক্তিক সংজ্ঞায় কোনো পদের আসন্নতম জাতি ও বিভেদক লক্ষণ উল্লেখ করতে হয়। কিন্তু ঈশ্বর একটি একক ও অনন্য সত্তা, যা কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত নয়। ঈশ্বরের কোনো উচ্চতর শ্রেণি বা আসন্নতম জাতি নেই এবং ঈশ্বরের গুণাবলি সসীম ধারণায় ব্যক্ত করা যায় না। তাই একক ব্যক্তি বা সত্তা হওয়ার কারণে ঈশ্বরের যৌক্তিক সংজ্ঞা দেওয়া যায় না।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃষ্টান্ত-১ এ যৌক্তিক সংজ্ঞার 'রূপক সংজ্ঞাজনিত অনুপপত্তি' ঘটেছে।
যৌক্তিক সংজ্ঞার দ্বিতীয় নিয়ম অনুযায়ী, সংজ্ঞায় কোনো রূপক, অলঙ্কারপূর্ণ বা দুর্বোধ্য ভাষা ব্যবহার করা যাবে না; সংজ্ঞা সবসময় সহজ, সরল ও স্পষ্ট হতে হবে। এই নিয়ম অমান্য করে রূপক ভাষা ব্যবহার করলে সংজ্ঞায় 'রূপক সংজ্ঞাজনিত অনুপপত্তি' ঘটে।
উদ্দীপকের দৃষ্টান্ত-১ এ বলা হয়েছে: "উট হয় মরুভূমির জাহাজ"। এখানে উটের আসন্নতম জাতি ও বিভেদক লক্ষণ উল্লেখ করে তার জাত্যর্থ প্রকাশ না করে কাব্যিক ও রূপক অভিব্যক্তি 'মরুভূমির জাহাজ' ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে এটি যৌক্তিক সংজ্ঞার নিয়ম লঙ্ঘন করে 'রূপক সংজ্ঞাজনিত অনুপপত্তি' ঘটিয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃষ্টান্ত-২ এর সংজ্ঞাটি একেবারেই যথার্থ নয়; এটি যৌক্তিক সংজ্ঞার নিয়ম লঙ্ঘনের কারণে 'দুর্বোধ্য সংজ্ঞাজনিত অনুপপত্তি'তে দুষ্ট। নিম্নে এর মূল্যায়ন তুলে ধরা হলো:
যৌক্তিক সংজ্ঞার দ্বিতীয় নিয়ম অনুযায়ী, কোনো পদের সংজ্ঞা সংজ্ঞেয় পদের চেয়ে অধিকতর সহজ, সরল ও স্পষ্ট হতে হবে। সংজ্ঞায় কোনো দুর্বোধ্য, জটিল বা অপরিচিত ভাষা ব্যবহার করা যাবে না। কারণ সংজ্ঞার মূল উদ্দেশ্যই হলো একটি অস্পষ্ট পদকে স্পষ্টতর করা।
উদ্দীপকের দৃষ্টান্ত-২ এ বলা হয়েছে: "হস্তী হলো প্রচণ্ড মত্ত চতুষ্পদী দেহধারী এক প্রকার আত্মা"। এখানে 'হস্তী' বা হাতি একটি অতি পরিচিত সাধারণ প্রাণী। কিন্তু এর সংজ্ঞা দিতে গিয়ে 'প্রচণ্ড মত্ত চতুষ্পদী দেহধারী এক প্রকার আত্মা'র মতো অত্যন্ত জটিল, দুর্বোধ্য ও বিভ্রান্তিকর ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। সহজ বিষয়কে স্পষ্ট করার পরিবর্তে সংজ্ঞার মাধ্যমে হস্তীকে আরও দুর্বোধ্য ও জটিল করে তোলা হয়েছে।
সংজ্ঞার নিয়ম ভঙ্গ করে এ রূপ অপ্রচলিত ও দুর্বোধ্য ভাষা প্রয়োগ করায় এখানে 'দুর্বোধ্য সংজ্ঞাজনিত অনুপপত্তি' ঘটেছে। সুতরাং, সংজ্ঞাটি যৌক্তিক নিয়ম অনুযায়ী সম্পূর্ণভাবে অগ্রহণযোগ্য ও ত্রুটিপূর্ণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও