যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৫
যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন
দৃশ্যকল্প-১:মানুষের মত প্রাণীর জন্ম, বৃদ্ধি, মৃত্যু আছে। মানুষের চেতনা শক্তি আছে। অতএব, প্রাণীও চেতনা শক্তি সম্পন্ন। দৃশ্যকল্প-২; সূর্য যেমন দিনের বেলায় আলো দেয়, চাঁদও তেমনি রাত্রি বেলা আলো দেয়। অতএব, সূর্যের মত চাঁদের নিজস্ব আলো আছে।
- ক)(1)
সাদৃশ্যানুমান কাকে বলে?
- খ)(2)
সাদৃশ্যানুমানকে কেন প্রকৃত আরোহ বলা হয়?
- গ)(3)
দৃশ্যকল্প-২ এ কোন ধরনের সাদৃশ্যানুমান প্রকাশিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
সাদৃশ্যানুমানের আলোকে দৃশ্যকল্প-১ ও দৃশ্যকল্প-২ এর পার্থক্য আলোচনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দুটি বিষয়ের মধ্যে কয়েকটি বিষয়ে সাদৃশ্য বা মিল লক্ষ্য করে যদি অনুমান করা হয় যে তাদের একটির কোনো বিশেষ গুণ থাকলে অপরটিরও সেই গুণ থাকবে, তবে তাকে সাদৃশ্যানুমান বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সাদৃশ্যানুমানের প্রক্রিয়ায় জ্ঞাত সাদৃশ্যের ভিত্তি থেকে এক অজ্ঞাত বিষয়ে গমন করা হয়। অর্থাৎ এখানে জানা বিষয় থেকে অজানা বিষয়ে উত্তরণ ঘটে, যা আরোহমূলক লম্ফ নামে পরিচিত। আরোহমূলক লম্ফ যেহেতু প্রকৃত আরোহের প্রধান ও অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য, তাই সাদৃশ্যানুমানকে প্রকৃত আরোহ বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-২ এ 'মন্দ সাদৃশ্যানুমান' প্রকাশিত হয়েছে।
যে সাদৃশ্যানুমানে দুটি বস্তুর মধ্যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ বা মৌলিক সাদৃশ্য বিবেচনা না করে কেবল বাহ্যিক, আকস্মিক ও গুরুত্বহীন সাদৃশ্যের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়, তাকে মন্দ সাদৃশ্যানুমান বলে।
দৃশ্যকল্প-২ এ সূর্য এবং চাঁদের আলো দেওয়ার বাহ্যিক মিলের ভিত্তিতে অনুমান করা হয়েছে যে, সূর্যের মতো চাঁদেরও নিজস্ব আলো আছে। অথচ বিজ্ঞানসম্মতভাবে জানা যায় চাঁদ সূর্যের আলোতেই আলোকিত হয়, তার নিজস্ব আলো নেই। এখানে মৌলিক কোনো কার্যকারণ সাদৃশ্য বিবেচনা না করে কেবল অগুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত করায় এটি একটি মন্দ সাদৃশ্যানুমান।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১ হলো 'সাধু সাদৃশ্যানুমান' এবং দৃশ্যকল্প-২ হলো 'মন্দ সাদৃশ্যানুমান'। সাদৃশ্যানুমানের আলোকে এদের পার্থক্য নিম্নে আলোচনা করা হলো:
১. সাদৃশ্যের প্রকৃতি: সাধু সাদৃশ্যানুমানে (দৃশ্যকল্প-১) আলোচিত বিষয়দ্বয়ের (মানুষ ও প্রাণী) মধ্যে জন্ম, বৃদ্ধি ও মৃত্যুর মতো মৌলিক, অভ্যন্তরীণ ও অপরিহার্য বিষয়ের মিল বিবেচনা করা হয়েছে। অন্যদিকে, মন্দ সাদৃশ্যানুমানে (দৃশ্যকল্প-২) সূর্য ও চাঁদের মধ্যে আলো দেওয়ার বাহ্যিক ও অগুরুত্বপূর্ণ সাদৃশ্য নেওয়া হয়েছে।
২. কার্যকারণ সম্পর্কের সম্ভাবনা: দৃশ্যকল্প-১ এ জৈবিক লক্ষণগুলোর সঙ্গে চেতনাশক্তির সম্ভাব্য কার্যকারণ সংযোগ রয়েছে। কিন্তু দৃশ্যকল্প-২ এ রাতের আলো দেওয়ার সাথে নিজস্ব আলোর কোনো কার্যকারণ সম্পর্ক নেই।
৩. সিদ্ধান্তের গ্রহণযোগ্যতা ও সম্ভাবনার মাত্রা: সাধু সাদৃশ্যানুমানের সিদ্ধান্তের সম্ভাবনার মাত্রা অনেক বেশি এবং তা যুক্তিসঙ্গত। পক্ষান্তরে, মন্দ সাদৃশ্যানুমানের সিদ্ধান্ত ভ্রান্ত বা অত্যন্ত দুর্বল এবং অবৈজ্ঞানিক।অতএব, দৃশ্যকল্প-১ যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য হওয়ায় সাধু সাদৃশ্যানুমান এবং দৃশ্যকল্প-২ অযৌক্তিক ও ভ্রান্ত হওয়ায় মন্দ সাদৃশ্যানুমান।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও