বাংলা ১ম পত্র • প্রবাস বন্ধু • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৬
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
(i) "একবার যেতে দে না আমার ছোট্ট সোনার গাঁয়
যেথায় কোকিল ডাকে কুহু, দোয়েল ডাকে মুহু মুহু
নদী যেথায় ছুটে চলে আপন ঠিকানায়,"
(ii) "ভূতের মতন চেহারা যেমন, নির্বোধ অতি ঘোর
যা-কিছু হারায়, গিন্নি বলেন, "কেষ্টা বেটাই চোর।"
...............................................................
বড়ো প্রয়োজন, ডাকি প্রাণপণ, চিৎকার করি 'কেষ্টা'—
যত করি তাড়া, নাহি পাই সাড়া, খুঁজে ফিরি সারা দেশটা।"
- ক)(1)
'প্রবাস বন্ধু' ভ্রমণ কাহিনীতে কাবুলের লোকেরা কোথা থেকে বরফ সংগ্রহ করেন?
- খ)(2)
আবদুর রহমান লেখকের দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকালো কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের অংশ (i) এ 'প্রবাস বন্ধু' রচনার কোন দিকটির প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে? বুঝিয়ে লেখ।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের অংশ (ii) এর কেষ্টাকে 'প্রবাস বন্ধু' রচনার আবদুর রহমানের যথার্থ প্রতিনিধি বলা যায় কি? তোমার উত্তরের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণ কাহিনীতে কাবুলের লোকেরা পাগমানের পাহাড় থেকে বরফ সংগ্রহ করেন (শীতকালে সেখানকার গর্তে জমানো বরফ গ্রীষ্মে তুলে আনা হয়)।
- খ)
লেখক পানশিরে শীতকাল কাটানোর কথা বললে আবদুর রহমান খুশি হয়। কিন্তু লেখক বলেন, তিনি রহমানের খুশির জন্য নয়, নিজের ‘প্রাণ বাঁচাবার জন্য’ যাবেন। আবদুর রহমান কথাটির মানে বুঝতে পারেনি। তাই সে অবাক ও বিভ্রান্ত হয়ে ফ্যালফ্যাল করে লেখকের দিকে তাকায়। পরে লেখক বুঝিয়ে বলেন, রহমান পুরো শীতকাল জানালার পাশে বসে কাটালে তাঁর জন্য রান্না করবে কে—আর না খেলে তাঁর প্রাণ বাঁচবে না। এই রসিকতাই ঘটনাটিকে হাস্যরসাত্মক করেছে।
- গ)
উদ্দীপকের অংশ (i)-এ ‘প্রবাস বন্ধু’ রচনার আবদুর রহমানের স্বদেশপ্রেম ও জন্মভূমির প্রতি গভীর টানের দিকটির প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে।
‘প্রবাস বন্ধু’ রচনায় সৈয়দ মুজতবা আলী আফগান ভৃত্য আবদুর রহমানের চরিত্রে সরলতা, অতিথিপরায়ণতা ও স্বদেশপ্রেম ফুটিয়ে তুলেছেন। রহমান লেখকের কাছে তার জন্মস্থান উত্তর-আফগানিস্তানের পানশিরের গুণগান করে। সে বলে, পানশিরের আবহাওয়ায় একটা আস্ত দুম্বা খেয়ে এক ঢোক পানি খেলেও আবার ক্ষিদে পায়; সেখানকার মানুষ বাতাসের ওপর ভর করে উড়ে চলে; শীতকালের বরফ পড়ার দৃশ্য অপরূপ।
উদ্দীপকের অংশ (i)-এ কবিতার বক্তা ‘ছোট্ট সোনার গাঁয়’ একবার যেতে চান, যেখানে কোকিল ও দোয়েল ডাকে, নদী আপন ঠিকানায় ছুটে চলে। এখানে নিজের গ্রামের প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রতি আকুল ভালোবাসা প্রকাশিত হয়েছে। অন্যদিকে আবদুর রহমানও কাবুলের আবহাওয়াকে খারাপ বলে নিজের দেশ পানশিরকে স্বর্গের মতো বর্ণনা করে এবং লেখককে সেখানে নিয়ে যেতে চায়।
অতএব, উদ্দীপকের অংশ (i)-এ আবদুর রহমানের জন্মভূমির প্রতি গভীর ভালোবাসার দিকটিই প্রতিফলিত হয়েছে।
- ঘ)
উদ্দীপকের অংশ (ii)-এর কেষ্টাকে ‘প্রবাস বন্ধু’ রচনার আবদুর রহমানের যথার্থ প্রতিনিধি বলা যায় না; কেবল ভৃত্য হিসেবে কিছু সাদৃশ্য থাকলেও চরিত্রগত মিল সামান্য, বৈসাদৃশ্য অনেক বেশি।
‘প্রবাস বন্ধু’ রচনায় আবদুর রহমান লেখকের বাবুর্চি ও সব কাজের সহকারী—অধ্যক্ষ জিরার তাকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন ‘জুতো বুরুশ থেকে খুনখারাবি’ সব কাজের কাজি হিসেবে। উদ্দীপকের কেষ্টাও গিন্নির সংসারের কাজের লোক।
১. সাদৃশ্য—ভৃত্যের পরিচয়: দুজনই গৃহভৃত্য, মনিবের নির্ভরতার পাত্র। কেষ্টাকে সারা বাড়ি খুঁজে ডাকতে হয়, তেমনি আবদুর রহমানের ওপরও লেখক সব কাজের জন্য নির্ভর করেন। এই জায়গায় দুজনের মিল আছে।
২. বুদ্ধি ও দক্ষতায় পার্থক্য: কেষ্টাকে ‘নির্বোধ অতি ঘোর’ ও ভূতের মতো চেহারার বলা হয়েছে; সে ডাকে সাড়া দেয় না। আবদুর রহমান দৈত্যাকার হলেও বুদ্ধিমান ও দক্ষ—সে পোলাও, কোরমা, কাবাব রাঁধতে জানে, বরফ কোথা থেকে আসে তার খবর রাখে এবং বাজার থেকে সব কিছু নিজেই কিনে আনে।
৩. আচরণ ও মনোভাবে পার্থক্য: কেষ্টা হারানো জিনিসের জন্য দোষী সাব্যস্ত হয়, তার প্রতি মনিবের অবজ্ঞা প্রকাশ পায়। আবদুর রহমান বিশ্বস্ত, মনিবের যত্নে আন্তরিক—ছ’জনের রান্না করে পরিবেশন করে, লেখক ঠিকমতো না খেলে মন খারাপ করে। সে শুধু ভৃত্য নয়, লেখকের ‘প্রবাস বন্ধু’।
৪. চারিত্রিক গুণে পার্থক্য: আবদুর রহমানের মধ্যে রয়েছে স্বদেশপ্রেম, সরলতা, আত্মমর্যাদাবোধ ও অতিথিপরায়ণতা। কেষ্টার চরিত্রে এসব গুণের কোনো উল্লেখ নেই।
সুতরাং কেষ্টা ভৃত্য হিসেবে আবদুর রহমানের সঙ্গে আংশিক মিল রাখলেও তার বহুমাত্রিক ও গুণসম্পন্ন চরিত্রের যথার্থ প্রতিনিধি নয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও