জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • প্রাণীর পরিচিতি • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৫
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
দ্বিস্তরী প্রাণিরা গ্যামেট ছাড়াই গ্রীষ্মকালে এক বিশেষ ধরনের জনন সম্পন্ন করে। এরা লম্বা ও অল্প দূরত্ব অতিক্রম করার জন্য দুটি ভিন্ন পদ্ধতিতে চলন সম্পন্ন করে।
- ক)(1)
হিপনোটক্সিন কী?
- খ)(2)
হিমোসিল বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রাণীর বিশেষ জনন প্রক্রিয়ার ধাপসমূহ চিত্রসহ বর্ণনা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত চলন দুটির তুলনামূলক আলোচনা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হিপনোটক্সিন হলো নিডোসাইটের নেমাটোসিস্টে (বিশেষ করে স্টিনোটিলে) বিদ্যমান বিষাক্ত ও প্রোটিন-ফেনল মিশ্রিত তরল পদার্থ, যা শিকারকে অবশ করতে ব্যবহৃত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হিমোসিল হলো অর্থ্রোপোডা ও মোলাস্কা পর্বের প্রাণীদের মেসোডার্মাল ভ্রূণীয় ব্লাস্টোসিল থেকে সৃষ্ট বিশেষ দেহগহ্বর, যা রক্ত বা হিমোলিম্ফে পূর্ণ থাকে। এটি অঙ্গাণুসমূহে পুষ্টি, হরমোন ও গ্যাস পরিবহনে সরাসরি অংশ নেয় এবং রক্তসংবহনতন্ত্রের অংশ হিসেবে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কাজ করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত দ্বিস্তরী প্রাণীটি হলো হাইড্রা (Hydra)। গ্যামেট ছাড়া গ্রীষ্মকালে অনুকূল পরিবেশে এটি যে বিশেষ জনন সম্পন্ন করে তা হলো অযৌন জননের মুকুলোদগম (Budding) প্রক্রিয়া।
মুকুলোদগম প্রক্রিয়ার ধাপসমূহ:
১. মুকুল সৃষ্টি: অনুকূল পরিবেশে হাইড্রার মধ্যবর্তী বা নিম্নাংশের দেহপ্রাচীরের এপিডার্মিসের ইন্টারস্টিশিয়াল কোষগুলো দ্রুত বিভাজিত হয়ে একটি ক্ষুদ্র স্ফীতি বা মুকুল (bud) গঠন করে।
২. মুকুলের বৃদ্ধি: মুকুলটি ধীরে ধীরে লম্বা হতে থাকে এবং মাতৃদেহের সিলেন্টেরন মুকুলের অভ্যন্তরে প্রসারিত হয়। ফলে মুকুলেও দ্বিস্তরী দেহপ্রাচীর গঠিত হয়।
৩. মুখছিদ্র ও কর্ষিকা সৃষ্টি: বাড়ন্ত মুকুলের দূরবর্তী মুক্ত প্রান্তে মুখছিদ্র, হাইপোস্টোম এবং ৪-৬টি ছোট ছোট কর্ষিকা বিকশিত হয়।
৪. মাতৃদেহ থেকে বিচ্ছিন্নকরণ: শিশু হাইড্রাটি পরিণত হলে মাতৃদেহের সাথে সংযোগস্থলে একটি খাঁজের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে এই খাঁজ গভীর হয়ে মাতৃদেহ থেকে শিশু হাইড্রাটি বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বাধীন জীবনযাপন শুরু করে।[চিত্র: একটি পূর্ণাঙ্গ মাতৃ হাইড্রার দেহ থেকে মুকুলের ক্রমবিকাশ এবং বিচ্ছিন্নকরণের বিভিন্ন ধাপের চিহ্নিত চিত্র]
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত লম্বা দূরত্ব ও অল্প দূরত্ব অতিক্রমের চলন দুটি যথাক্রমে হলো— হামাগুড়ি বা লুপিং (Looping) এবং ডিগবাজি বা সামারসল্টিং (Somersaulting)। নিম্নে এ দুটির তুলনামূলক আলোচনা করা হলো:
১. চলনের উদ্দেশ্য: লুপিং সাধারণত লম্বা দূরত্ব অতিক্রমের জন্য ব্যবহৃত মন্থর গতির চলন; অন্যদিকে সামারসল্টিং হলো অল্প দূরত্ব দ্রুত অতিক্রমের জন্য সাধারণ চলন পদ্ধতি।
২. প্রক্রিয়ার প্রকৃতি: লুপিং প্রক্রিয়ায় হাইড্রা জোঁক বা শুঁয়োপোকার মতো শরীর বাঁকিয়ে লুপ বা ফাঁশ তৈরি করে পথ অতিক্রম করে। কিন্তু সামারসল্টিং-এ এটি ডিগবাজির মতো উল্টে উল্টে এগিয়ে যায়।
৩. দেহের অবস্থান: লুপিং-এর সময় হাইড্রার পাদচাকতি সর্বদা একই দিকে থাকে এবং দেহ কখনোই সম্পূর্ণ উল্টো অবস্থানে স্থির থাকে না। সামারসল্টিং-এর ক্ষেত্রে হাইড্রা একবার পাদচাকতির ওপর এবং পরক্ষণেই কর্ষিকার ওপর উল্টোভাবে ভর দিয়ে দাঁড়ায়।
৪. লুপ সৃষ্টি: লুপিং-এ স্পষ্ট একটি লুপ তৈরি হয়। সামারসল্টিং-এ প্রতিটি ধাপে দুটি লুপ সৃষ্টি হয়।
৫. কর্ষিকার ভূমিকা: লুপিং চলনে কর্ষিকা শুধু মাটিকে স্পর্শ করে অবলম্বন তৈরিতে কাজ করে। সামারসল্টিং চলনে কর্ষিকার ওপর ভর দিয়ে পুরো দেহ শূন্যে উল্টে যায়।সুতরাং, কৌশলগত পার্থক্যের কারণে হাইড্রা পরিস্থিতি ও দূরত্বের ওপর নির্ভর করে লুপিং বা সামারসল্টিং পদ্ধতি বেছে নেয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও