গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০২২

গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

বস্ত্র ও কুটির শিল্প মেলা থেকে আনিকা ও হাবিবা দুই বান্ধবী দুই ধরনের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পোশাক ক্রয় করেছে। আনিকার পোশাকে 'কাজিম পিন' নামক এক ধরনের ব্লাউজ রয়েছে। অপরদিকে, হাবিবার পোশাকটি এমন নৃগোষ্ঠীর যাদের জীবিকা নির্বাহের প্রধান অবলম্বন জুম চাষ।

  1. ক)

    'রাখাইন' শব্দের পূর্ণরূপ কী?

    (1)
  2. খ)

    রাজশাহী সিল্ককে তন্তুর রানী বলা হয়।'— বুঝিয়ে লেখো।

    (2)
  3. গ)

    আনিকার কেনা পোশাকটি কোন নৃগোষ্ঠীর তৈরি? তাদের দৈহিক গঠন বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    আনিকা ও হাবিবার ক্রয় করা পোশাক দুটো কোন কোন সম্প্রদায়কে নির্দেশ করছে? তাদের পোশাক পরিচ্ছদের বৈচিত্র্য তুলে ধরো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ‘রাখাইন’ শব্দের পূর্ণরূপ বা অর্থ হলো 'রক্ষক' বা 'রক্ষণশীল জাতি'। পালি ভাষা থেকে আগত এই শব্দের উৎপত্তি 'রক্ষা' বা 'অনুরক্ষক' ধারণা থেকে, যার অর্থ যারা নিজেদের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ধর্মকে রক্ষা করে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    রেশম বা সিল্ক তন্তুর চমৎকার উজ্জ্বলতা, মসৃণতা, কোমলতা, আভিজাত্য এবং স্থায়িত্বের কারণে একে সব তন্তুর সেরা হিসেবে গণ্য করে 'তন্তুর রানী' (Queen of Fibres) বলা হয়। বাংলাদেশের রাজশাহীতে উৎপন্ন সিল্ক অত্যন্ত উৎকৃষ্ট মানের, অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও আরামদায়ক। এর রাজকীয় সৌন্দর্য ও গুণের কারণেই রাজশাহী সিল্ককে 'তন্তুর রানী' বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত আনিকার কেনা পোশাকটি 'গারো' (বা মান্দি) নৃগোষ্ঠীর তৈরি, কারণ 'কাজিম পিন' (বা খিমপেন/দকবান্দার সাথে পরিধেয় ব্লাউজ বিশেষ) গারোদের ঐতিহ্যবাহী পোশাকের অন্তর্ভুক্ত।

    গারোদের দৈহিক গঠন:
    গারো নৃগোষ্ঠীর দৈহিক বৈশিষ্ট্য মূলত মঙ্গোলয়েড ধারার অন্তর্ভুক্ত। এদের দৈহিক গঠন নিচে তুলে ধরা হলো:
    ১. গায়ের রঙ: এদের গায়ের রঙ সাধারণত ফর্সা থেকে হলুদাভ বা তামাটে রঙের হয়ে থাকে।
    ২. মুখমণ্ডল ও নাক: মুখমণ্ডল কিছুটা গোলাকার বা চ্যাপ্টা এবং নাক তুলনামূলকভাবে চওড়া ও কিছুটা বোঁচা।
    ৩. চোখ ও চুল: চোখ ছোট আকৃতির, চোখের পাতা ভারী এবং চোখের কোণগুলো কিছুটা বাঁকা থাকে। এদের মাথার চুল সাধারণত কালো, সোজা এবং ঘন হয়।
    ৪. শারীরিক উচ্চতা: এরা সাধারণত মাঝারি উচ্চতার ও বলিষ্ঠ শারীরিক গঠনের হয়ে থাকে। শরীরে লোমের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম থাকে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে আনিকার ক্রয় করা পোশাকটি 'গারো' সম্প্রদায় এবং হাবিবার ক্রয় করা পোশাকটি পাহাড়ি জুমচাষী সম্প্রদায়—যেমন 'চাকমা' (বা ত্রিপুরা/মারমা, প্রধানত চাকমা)—কে নির্দেশ করছে।

    উভয় সম্প্রদায়ের পোশাক-পরিচ্ছদের বৈচিত্র্য নিচে আলোচনা করা হলো:

    ১. গারো সম্প্রদায়ের পোশাক:
    গারো নারীদের প্রধান ও ঐতিহ্যবাহী পোশাক হলো 'দকবান্দা' ও 'দকশারি'। কোমরে পেঁচিয়ে পরা এই পোশাকে চমৎকার জ্যামিতিক নকশা এবং বিভিন্ন রঙের সুতোর বুনন থাকে। এর সাথে তারা ব্লাউজ বা 'কাজিম পিন' পরিধান করে। পুরুষরা অতীতে 'গান্দো' বা লেংটি পরত, তবে বর্তমানে তারা শার্ট, লুঙ্গি বা ট্রাউজার পরিধান করে থাকে। এছাড়া উৎসবে পুরুষরা মাথায় পাগড়ি (কোটোক) ব্যবহার করে।

    ২. চাকমা সম্প্রদায়ের পোশাক (জুমচাষী সম্প্রদায় হিসেবে চাকমাদের উদাহরণ):
    চাকমা নারীদের প্রধান পোশাক হলো 'পিনন' এবং 'হাদি'। পিনন হলো কোমর থেকে গোড়ালি পর্যন্ত পরা স্কার্টজাতীয় পোশাক, যার নিচের অংশে বিভিন্ন নকশা থাকে যাকে 'চাবুকি' বলা হয়। বক্ষবন্ধনী বা ওড়না হিসেবে তারা ব্যবহার করে সুন্দর নকশা করা রঙিন 'হাদি'। অপরদিকে চাকমা পুরুষরা ঐতিহ্যগতভাবে সুতির ধুতি বা লুঙ্গি এবং ফতুয়া বা জামা পরিধান করে এবং মাথায় পাগড়ি (খবং) বাঁধে।

    উভয় সম্প্রদায়ের নিজস্ব তাঁতে বোনা উজ্জ্বল রঙের পোশাকের নকশা ও পরিধানের রীতি তাদের সংস্কৃতিকে অত্যন্ত বৈচিত্র্যময় করে তুলেছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন