‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব : বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভ • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

বাংলার বাঘ' নামে খ্যাত অবিসংবাদিত নেতা সরকারি চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে যোগ দেন। তিনি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হন। অত্যাচারী জমিদার ও সুদখোর মহাজনদের শোষণ থেকে বাংলার দরিদ্র কৃষকদের মুক্তির জন্য তিনি কৃষিঋণ আইন ও ঋণ সালিশি বোর্ড গঠন করেন।

  1. ক)

    মজলুম জননেতা কাকে বলা হয়?

    (1)
  2. খ)

    লাহোর প্রস্তাবের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় কী ছিল?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত নেতার সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন রাজনীতিবিদের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের শেষাংশে উল্লেখিত উক্ত কর্মকান্ড বাংলার কৃষকদের ভাগ্যোন্নয়নে কী ভূমিকা রেখেছিল? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীকে 'মজলুম জননেতা' বলা হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    লাহোর প্রস্তাবের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল ব্রিটিশ ভারতের ভৌগোলিক দিক দিয়ে সংলগ্ন মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলোকে নিয়ে পৃথক পৃথক স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রসমূহ (Independent States) গঠন করা। ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ নিখিল ভারত মুসলিম লীগের লাহোর অধিবেশনে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক এই ঐতিহাসিক প্রস্তাব উত্থাপন করেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত অবিসংবাদিত নেতার সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব 'শেরে বাংলা' এ. কে. ফজলুল হকের মিল রয়েছে।

    উদ্দীপকে বলা হয়েছে, 'বাংলার বাঘ' নামে খ্যাত এক নেতা সরকারি চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে এসে কৃষকদের সুরক্ষায় কৃষিঋণ আইন ও ঋণ সালিশি বোর্ড গঠন করেন।

    ইতিহাসে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হককেই তাঁর অদম্য সাহস ও তেজস্বিতার জন্য 'শেরে বাংলা' বা 'বাংলার বাঘ' উপাধিতে ভূষিত করা হয়। তিনি ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটের সরকারি চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন এবং প্রজাস্বত্ব রক্ষায় কৃষক প্রজা পার্টি গঠন করেন। পরবর্তীতে তিনি অবিভক্ত বাংলার প্রথম প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়ে প্রজাস্বত্ব সংশোধন আইন, মহাজনি আইন এবং ঋণ সালিশি বোর্ড প্রতিষ্ঠা করেন। অতএব, উদ্দীপকে বর্ণিত চরিত্রটি নিঃসন্দেহে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের শেষাংশে উল্লেখিত এ. কে. ফজলুল হকের গৃহীত কৃষিঋণ আইন ও ঋণ সালিশি বোর্ড গঠন তৎকালীন বাংলার নিঃস্ব কৃষকদের ভাগ্যোন্নয়ন ও শোষণমুক্তিতে বৈপ্লবিক ভূমিকা রেখেছিল।

    তৎকালীন অবিভক্ত বাংলার কৃষকরা সামন্তবাদী জমিদারি প্রথা এবং নিষ্ঠুর সুদখোর মহাজনদের সুদের চক্রে মারাত্মকভাবে জর্জরিত ছিল। চড়া সুদের দায়ে কৃষকদের ভিটেমাটি বিক্রি হয়ে যেত এবং তারা ভূমিহীন দাসে পরিণত হতো। ফজলুল হক ১৯৩৭ সালে বাংলার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর কৃষকদের এই দুরবস্থা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেন।

    তিনি 'মহাজনি আইন' ও 'কৃষিঋণ আইন' প্রণয়ন করেন, যার ফলে সুদের হারের সর্বোচ্চ সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। এছাড়া তাঁর প্রতিষ্ঠিত 'ঋণ সালিশি বোর্ড'-এর মাধ্যমে গ্রামপর্যায়ে কৃষকদের অতীতের অনির্দেশ্য ও অতিরিক্ত ঋণের দাবি হ্রাস করা হয় এবং সহজ কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ দেওয়া হয়। এর ফলে প্রায় লাখ লাখ কৃষক তাদের ভিটেমাটি রক্ষা করতে সক্ষম হয় এবং মহাজনদের হাত থেকে মুক্ত হয়ে অর্থনৈতিক স্বস্তি পায়।

    সুতরাং, এ. কে. ফজলুল হকের ঋণ সালিশি বোর্ড ও কৃষিঋণ সংক্রান্ত পদক্ষেপ বাংলার কৃষক সমাজের মুক্তির সনদ হিসেবে তাদের অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন ও ভাগ্যোন্নয়নে যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করেছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন