বিজ্ঞান • পলিমার • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩
বিজ্ঞান প্রশ্ন
P : তন্তুর তাপ পরিবহন ও পরিচলন ক্ষমতা বেশি।Q : পানিতে অদ্রবণীয় একটি অদানাদার কঠিন স্থিতিস্থাপক পদার্থ।R : নরম অবস্থায় ছাঁচে ফেলে নির্দিষ্ট আকৃতি দেয়া যায়।
- ক)(1)
হেলকিং কাকে বলে?
- খ)(2)
ডেব্রুন কী ধরনের তন্তু? ব্যাখ্যা করো
- গ)(3)
P তন্তুর বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
Q ও R কীভাবে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
লিনেনের মতো তন্তুর সুতা কাটার সময় কম্বিংয়ের যে বিশেষ ধরন প্রয়োগ করা হয়, তাকে হেলকিং বলে। হেলকিং করলে সুতা অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও মিহি হয়।
- খ)
ডেব্রুন (পাঠ্যবইয়ের বানানে ডেকন বা ডেক্রন) একটি কৃত্রিম তন্তু। এটি সেলুলোজ থেকে তৈরি নয়, বরং অন্য পদার্থের মধ্যে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটিয়ে তৈরি হয়, তাই একে কৃত্রিম নন-সেলুলোজিক তন্তু বলা হয়। নাইলন, পলিস্টার ও পলিপ্রোপিলিনও এ ধরনের তন্তু। এই তন্তু প্রকৃতিতে পাওয়া যায় না, কারখানায় তৈরি করতে হয়।
- গ)
P তন্তুটি সুতি বা তুলা। তুলা একটি প্রাকৃতিক উদ্ভিজ্জ তন্তু। উদ্দীপকে বলা হয়েছে, P তন্তুর তাপ পরিবহন ও পরিচলন ক্ষমতা বেশি, যা গরমের দিনে সুতির পোশাকের আরামদায়ক হওয়ার সঙ্গে মেলে।
সুতির বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
১. অণুবীক্ষণ যন্ত্রে সুতির তন্তুকে নলের মতো দেখা যায়, যার ভেতরে লুমেন থাকে। শুকিয়ে গেলে তা চ্যাপ্টা, মোচড়ানো ফিতার মতো হয় এবং এতে ১০০ থেকে ২৫০টি পাক থাকে।
২. মোচড়গুলো একে অপরের সঙ্গে মিশে যায় বলে সুতির কাপড় টেকসই হয়।
৩. সুতি আপাতদৃষ্টিতে তেমন উজ্জ্বল নয়, তবে ময়েশ্চারাইজেশনের মাধ্যমে চকচকে করা যায়।
৪. সুতিতে পাকা রং ধরে এবং তাপ ও ধোঁয়ায় রঙের ক্ষতি হয় না।
৫. অজৈব অ্যাসিডে সুতি নষ্ট হয়, তবে অন্যান্য অ্যাসিডে তেমন ক্ষতি হয় না।
৬. এটি সেলুলোজ দিয়ে তৈরি, তাই সহজে পোড়ে এবং কাগজ পোড়ার মতো গন্ধ হয়।
৭. সুতি কাপড় ধোয়ার পর সংকুচিত হয়ে যায়; এটি এর প্রধান সীমাবদ্ধতা।
- ঘ)
উদ্দীপকের Q হলো রাবার (পানিতে অদ্রবণীয় অদানাদার কঠিন স্থিতিস্থাপক পদার্থ) এবং R হলো প্লাস্টিক (নরম অবস্থায় ছাঁচে ফেলে আকার দেওয়া যায়)। বেশির ভাগ প্লাস্টিক ও কৃত্রিম রাবার পচনশীল নয়, তাই এগুলো পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে।
১. জলাবদ্ধতা: ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক ও রাবারের বর্জ্য নর্দমার নালায় জমে পানির প্রবাহ বন্ধ করে দেয়। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তায় জলাবদ্ধতা হয়।
২. নদীর নাব্যতা হ্রাস: বর্জ্যের বড় অংশ নদী, হ্রদ বা জলাশয়ে গিয়ে জমে। এতে নদীর গভীরতা কমে যায় এবং নাব্যতা হুমকির মুখে পড়ে।
৩. মাটির উর্বরতা নষ্ট: পচে না বলে মাটিতে দীর্ঘদিন থেকে মাটির উর্বরতা নষ্ট করে।
৪. বিষাক্ত গ্যাস: প্লাস্টিক পোড়ালে ক্ষতিকর পদার্থ তৈরি হয়; যেমন পিভিসি পোড়ালে হাইড্রোজেন ক্লোরাইড (HCl) এবং পলিইউরেথেন পোড়ালে কার্বন মনোক্সাইড ও হাইড্রোজেন সায়ানাইড নির্গত হয়।সুতরাং, ব্যবস্থাপনা না করলে রাবার ও প্লাস্টিক বর্জ্য মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয় ঘটায়। তাই পুনর্ব্যবহার ও রিসাইক্লিং প্রয়োজন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও