বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও গণআন্দোলন • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৫
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন
- ক)(1)
রেসকোর্স ময়দানের বর্তমান নাম কী?
- খ)(2)
সংসদীয় শাসন ব্যবস্থা বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকের চিত্রটি কোন ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষ্য বহন করে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকটি স্বাধীনতা সংগ্রামে আত্মদানকারী শহিদদের শ্রদ্ধার প্রতীক- তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
রেসকোর্স ময়দানের বর্তমান নাম সোহরাওয়ার্দী উদ্যান।
- খ)
সংসদীয় শাসনব্যবস্থা এমন একটি শাসনব্যবস্থা, যেখানে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল সরকার গঠন করে। এখানে প্রধানমন্ত্রী সরকারের প্রধান এবং মন্ত্রিসভা সংসদের কাছে দায়ী থাকে।
- গ)
উদ্দীপকের চিত্রটি জাতীয় স্মৃতিসৌধ, যা ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী শহিদদের স্মৃতির সাক্ষ্য বহন করে।
জাতীয় স্মৃতিসৌধ ঢাকা শহর থেকে ৩৫ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে সাভারে অবস্থিত। মুক্তিযুদ্ধে লক্ষ লক্ষ নাম-না-জানা শহিদের অমর স্মৃতির উদ্দেশে এটি নির্মিত। স্থপতি মঈনুল হোসেনের নকশায় সাতটি জোড়া ত্রিভুজাকার দেয়াল ছোট থেকে বড় হয়ে ধাপে ধাপে ১৫০ ফুট উচ্চতায় উঠেছে। এই সাত জোড়া দেয়াল ১৯৫২, ১৯৫৪, ১৯৫৬, ১৯৬২, ১৯৬৬, ১৯৬৯ ও ১৯৭১ সালের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা বা আন্দোলনের প্রতীক। ১৯৭২ সালে এর নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং ১৯৮২ সালে তিন পর্যায়ে সম্পন্ন হয়।
চিত্রের মূল দাঁড়ানো স্থাপনা ও পতাকা এ স্মৃতিসৌধকেই নির্দেশ করে। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের ঐতিহাসিক ঘটনাবলির স্মারক এটি।
- ঘ)
উদ্দীপকের চিত্রটি অর্থাৎ জাতীয় স্মৃতিসৌধ সত্যিই স্বাধীনতা সংগ্রামে আত্মদানকারী শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধার প্রতীক—মন্তব্যটি যথার্থ।
স্মৃতিসৌধ বা স্মৃতিস্তম্ভ কোনো জাতির ত্যাগ ও গৌরবকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে স্মরণীয় করে রাখে। জাতীয় স্মৃতিসৌধ নির্মাণের মূল উদ্দেশ্যই ছিল শহিদদের শ্রদ্ধা জানানো।
১. শহিদদের উদ্দেশে নির্মাণ: মুক্তিযুদ্ধে লক্ষ লক্ষ নাম-না-জানা শহিদের স্মৃতির উদ্দেশে এ সৌধ নির্মিত। পাশেই রয়েছে গণকবর, যাঁদের অমূল্য জীবনের বিনিময়ে দেশ শত্রুমুক্ত হয়েছে।
২. নকশার প্রতীকী তাৎপর্য: সাত জোড়া ত্রিভুজাকার দেয়াল ১৯৫২ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত স্বাধীনতা সংগ্রামের সাতটি গুরুত্বপূর্ণ পর্বের প্রতীক। মূল বেদিতে যাওয়ার দীর্ঘ উঁচু-নিচু পথ, পেভমেন্ট ও কৃত্রিম লেকের সেতু বাঙালির দীর্ঘ সংগ্রামের পথ নির্দেশ করে।
৩. জাতীয় শ্রদ্ধা নিবেদনের কেন্দ্র: প্রতিবছর ২৬শে মার্চ ও ১৬ই ডিসেম্বরসহ জাতীয় দিবসে সর্বস্তরের মানুষ, রাষ্ট্রপ্রধান ও বিদেশি অতিথিরা সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহিদদের শ্রদ্ধা জানান। এতে ত্যাগের চেতনা জাগ্রত থাকে।
৪. গৌরব ও মর্যাদার প্রতীক: এ সৌধকে বাঙালির অহংকার, গৌরব ও মর্যাদার প্রতীক বলা হয়, যা নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেমে অনুপ্রাণিত করে।
সুতরাং, জাতীয় স্মৃতিসৌধ স্বাধীনতা সংগ্রামের শহিদদের প্রতি জাতির শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সর্বোচ্চ প্রতীক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও