জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • প্রাণীর বিভিন্নতা ও শ্রেণিবিন্যাস • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
নিচের চিত্রগুলো লক্ষ কর:
- ক)(1)
নিম্ফ কী?
- খ)(2)
হাইড্রায় স্বনিষেক ঘটে না কেন?
- গ)(3)
দিনের আলোয় উল্লিখিত Y প্রাণীর দর্শন কৌশল বর্ণনা কর।
- ঘ)(4)
'X' এবং 'Y' উভয় প্রাণী নন কর্ডেট হলেও শ্রেণিবিন্যাসের প্রধান ভিত্তিগুলোর মাধ্যমে পৃথক— বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অসম্পূর্ণ রূপান্তর প্রদর্শনকারী পতঙ্গের ডিম ফুটে বের হওয়া ছোট এবং দেখতে প্রায় পূর্ণাঙ্গ প্রাণীর মতো রূপান্তরকালীন অপত্য দশাকে নিম্ফ (Nymph) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হাইড্রা সাধারণত একলিঙ্গিক হলেও কোনো কোনো প্রজাতি উভলিঙ্গ। তা সত্ত্বেও হাইড্রায় স্বনিষেক ঘটে না, কারণ হাইড্রার দেহে শুক্রাশয় ও ডিম্বাশয় একই সময়ে পরিপক্ব হয় না। সাধারণত শুক্রাশয় আগে পরিপক্ব হয়ে শুক্রাণু মুক্ত করে (প্রোট্যান্ড্রি অবস্থা), ফলে নিজের ডিম্বাণুর সাথে নিষেক সম্পন্ন হতে পারে না। এই কালগত পার্থক্যের কারণে হাইড্রায় সবসময় পরনিষেক ঘটে, স্বনিষেক ঘটে না।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের 'Y' প্রাণীটি হলো ঘাসফড়িং। দিনের উজ্জ্বল আলোয় ঘাসফড়িংয়ের পুঞ্জাক্ষিতে মোজাইক বা অ্যাপোজিশন (Apposition) প্রতিবিম্ব সৃষ্টির মাধ্যমে দর্শন কৌশল সম্পন্ন হয়।
দিনের আলোয় দর্শন কৌশল নিচে বর্ণনা করা হলো:
১. উজ্জ্বল আলোতে প্রতিটি ওমাটিডিয়ামের আইরিশ আবরণী এবং রেটিনাল আবরণীর রঞ্জক কণিকাগুলো প্রসারিত হয়ে ওমাটিডিয়ামকে সম্পূর্ণভাবে পরস্পর থেকে পৃথক করে ফেলে।
২. এর ফলে একটি ওমাটিডিয়ামের আলোক সংবেদী অংশে অন্য কোনো ওমাটিডিয়ামের তির্যক বা পার্শ্বীয় আলো প্রবেশ করতে পারে না।
৩. কেবল বস্তুর নির্দিষ্ট অংশ থেকে কর্নিয়ার ওপর লম্বভাবে আপতিত আলোকরশ্মি কর্নিয়া ও ক্রিস্টালাইন কোনের মধ্য দিয়ে সরাসরি র্যাবডোমে পৌঁছায় এবং সেখানে সংবেদ সৃষ্টি করে।
৪. পার্শ্ববর্তী ওমাটিডিয়ামগুলোতে তির্যকভাবে আসা রশ্মিগুলো রঞ্জক আবরণী দ্বারা শোষিত হয়।
৫. ফলে বস্তুর ভিন্ন ভিন্ন অংশের লম্বালম্বি আলোক সংকেত ভিন্ন ভিন্ন ওমাটিডিয়ামে পৃথক পৃথকভাবে গৃহীত হয় এবং সামগ্রিকভাবে বস্তুর একটি খণ্ড খণ্ড মোজাইক প্রতিবিম্ব গঠিত হয়। এভাবেই ঘাসফড়িং দিনের তীব্র আলোয় বস্তুকে স্পষ্টভাবে দেখতে পায়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্র 'X' হলো হাইড্রা (পর্ব: Cnidaria) এবং চিত্র 'Y' হলো ঘাসফড়িং (পর্ব: Arthropoda)। উভয়েই নন-কর্ডাটা হলেও প্রাণিজগতের শ্রেণিবিন্যাসের প্রধান প্রধান ভিত্তির আলোকে এরা পরস্পরের থেকে সম্পূর্ণ পৃথক। নিম্নে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. ভ্রূণস্তর (Germ layer):
- হাইড্রা দ্বিস্তরী বা ডিপ্লোব্লাস্টিক (Diploblastic) প্রাণী; এদের ভ্রূণীয় অবস্থায় একটোডার্ম ও এন্ডোডার্ম—এই দুটি মাত্র কোষস্তর থাকে এবং মাঝে অকোষীয় মেসোগ্লিয়া বিদ্যমান।
- ঘাসফড়িং ত্রিস্তরী বা ট্রিপ্লোব্লাস্টিক (Triploblastic) প্রাণী; এদের ভ্রূণে একটোডার্ম, মেসোডার্ম ও এন্ডোডার্ম—এই তিনটি সুনির্দিষ্ট স্তর থাকে।
২. দেহ গহ্বর বা সিলোম (Coelom):
- হাইড্রা অ্যাসিলোমেট (Acoelomate); এদের কোনো প্রকৃত সিলোম নেই, তবে সিলেন্টেরন নামক গ্যাস্ট্রোভাস্কুলার গহ্বর থাকে।
- ঘাসফড়িং ইউসিলোমেট (Eucoelomate) হলেও এদের সিলোম রক্তে পূর্ণ হয়ে হিমোসিলে (Haemocoel) রূপান্তরিত হয়।
৩. প্রতিসাম্যতা (Symmetry):
- হাইড্রার দেহকে কেন্দ্রীয় অক্ষ বরাবর একাধিক তলে সমানভাবে ভাগ করা যায়, তাই এটি অরীয় প্রতিসম (Radial symmetry)।
- ঘাসফড়িংয়ের দেহকে অনুদৈর্ঘ্য অক্ষ বরাবর কেবল একবার ডান ও বাম দুটি সদৃশ অংশে ভাগ করা যায়, তাই এটি দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম (Bilateral symmetry)।
৪. সংগঠনের মাত্রা (Level of organization):
- হাইড্রার দৈহিক সংগঠন হলো কোষ-কলা (Tissue grade) মাত্রার।
- ঘাসফড়িংয়ের দৈহিক সংগঠন উচ্চতর কলা-অঙ্গ-তন্ত্র (Organ-system grade) মাত্রার।
৫. খণ্ডকায়ন (Metamerism):
- হাইড্রার দেহে কোনো খণ্ডকায়ন বা মেটামেরিজম দেখা যায় না (অখণ্ডকায়িত)।
- ঘাসফড়িংয়ের দেহ সুস্পষ্টভাবে অসম খণ্ডকায়িত (Heteronomous metamerism) এবং তিনটি প্রধান অঞ্চলে (মস্তক, বক্ষ ও উদর) বিভক্ত।
সুতরাং, উল্লিখিত প্রধান শ্রেণিবিন্যাসগত ভিত্তিসমূহের পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, নন-কর্ডাটা হলেও 'X' এবং 'Y' প্রাণী দুটি গঠন ও বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে সম্পূর্ণ পৃথক পর্বের অন্তর্ভুক্ত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও