কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র • বিশেষ উৎপাদন সম্পৃক্ত কৃষি প্রযুক্তি • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬

কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন

নিচের ফ্লোচার্টটি লক্ষ্য কর এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
১০০% দেশি গাভী ×\times ১০০% ফ্রিজিয়ান ষাঁড়
↓\downarrow
১ম বংশধর (গাভী) (৫০% ফ্রিজিয়ান + ৫০% দেশি)
↓\downarrow
...
↓\downarrow
৪র্থ বংশধর (গাভী) (৯৩.৭৫% ফ্রিজিয়ান + ৬.২৫% দেশি)

  1. ক)

    রাইজোবিয়াম কী?

    (1)
  2. খ)

    মাশরুম পুষ্টিকর এবং ওষুধিগুণসম্পন্ন একটি সবজি—ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের ফ্লোচার্টটি ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের ফ্লোচার্টটি গরুর জাত-উন্নয়নে কী ধরনের ভূমিকা রাখে? বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    রাইজোবিয়াম হলো এক ধরণের নাইট্রোজেন সংবন্ধনকারী উপকারী ব্যাকটেরিয়া, যা শিম জাতীয় উদ্ভিদের শিকড়ে নডিউল তৈরি করে বায়ুমণ্ডলের নাইট্রোজেন আবদ্ধ করে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মাশরুমে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ভিটামিন (বিশেষ করে বি-কমপ্লেক্স), খনিজ পদার্থ (ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, আয়রন) ও খাদ্যআঁশ থাকে, যা শরীরের পুষ্টির চাহিদা মেটায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। পাশাপাশি এতে চর্বি ও কোলেস্টেরলের মাত্রা খুব কম থাকায় এটি ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগীদের জন্য পথ্য হিসেবে কাজ করে। এজন্য মাশরুমকে পুষ্টিকর এবং ওষুধিগুণসম্পন্ন সবজি বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ফ্লোচার্টটিতে গরুর কৃত্রিম প্রজনন ও সংকরায়ণের মাধ্যমে জাত উন্নয়নের একটি বিশেষ পদ্ধতি বা 'গ্রেডিং-আপ' (Grading-up) প্রক্রিয়া দেখানো হয়েছে।

    এ পদ্ধতিতে প্রথমে নিম্নমানের ১০০% দেশি গাভীর সাথে ১০০% বিশুদ্ধ উন্নত জাতের (ফ্রিজিয়ান) ষাঁড়ের প্রজনন ঘটিয়ে ১ম বংশধরে ৫০% ফ্রিজিয়ান ও ৫০% দেশি বৈশিষ্ট্যের গাভী উৎপাদন করা হয়। পরবর্তী প্রতিটি প্রজন্মে উৎপন্ন সংকর গাভীকে পুনরায় ১০০% ফ্রিজিয়ান ষাঁড় দিয়ে প্রজনন করানো হয়। এর ফলে দ্বিতীয় বংশধরে ৭৫%, তৃতীয় বংশধরে ৮৭.৫% এবং চতুর্থ বংশধরে ৯৩.৭৫% ফ্রিজিয়ান ও মাত্র ৬.২৫% দেশি বৈশিষ্ট্যের সংকর গরু তৈরি হয়। অর্থাৎ পর্যায়ক্রমিক সংকরায়ণের মাধ্যমে দেশি গরুর বৈশিষ্ট্য কমিয়ে উন্নত বিদেশি জাতের বৈশিষ্ট্য সফলভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ফ্লোচার্টটি দেশীয় অনুন্নত গরুর জাত-উন্নয়ন এবং দুগ্ধ উৎপাদন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে। নিচে এর বিশদ বিশ্লেষণ তুলে ধরা হলো:

    ১. উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি: দেশি গাভী গড়ে দৈনিক মাত্র ১-২ লিটার দুধ দেয়, কিন্তু এই সংকরায়ণ পদ্ধতির ফলে ৪র্থ প্রজন্মে প্রাপ্ত গাভী প্রায় ৯৩.৭৫% ফ্রিজিয়ান গুণসম্পন্ন হওয়ায় দৈনিক ১৫-২০ লিটার বা তারও বেশি দুধ দিতে সক্ষম হয়।
    ২. দেশীয় পরিবেশের সাথে অভিযোজন: সরাসরি ১০০% বিদেশি গরু আমাদের দেশের গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় খাপ খাওয়াতে সমস্যা হতে পারে, কিন্তু এভাবে সংকরায়ণের মাধ্যমে তৈরি গরু রোগবালাই প্রতিরোধে সহনশীল হয়।
    ৩. অর্থনৈতিক সাশ্রয়: উচ্চমূল্যে বিদেশ থেকে গরু আমদানি না করে স্থানীয় কমদামি দেশি গাভীর কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে ধাপে ধাপে খামারেই উন্নত জাত তৈরি করা সম্ভব।

    সুতরাং, ফ্লোচার্টে প্রদর্শিত গ্রেডিং-আপ পদ্ধতিটি দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় গরুর বংশগত উন্নয়ন ঘটিয়ে দেশের দুধ ও মাংসের ঘাটতি মেটাতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন