বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • ইংরেজ শাসন আমলে বাংলায় প্রতিরোধ, নবজাগরণ ও সংস্কার আন্দোলন • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন
- ক)(1)
ফরায়েজি আন্দোলন কী?
- খ)(2)
দ্বৈত শাসন বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
সমাজ সংস্কারক হিসেবে চিত্র-১ এ নির্দেশিত ব্যক্তির ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
"উনিশ শতকের শেষার্ধে মুসলমান সমাজের নবজাগরণে চিত্র-২ এ নির্দেশিত ব্যক্তির অবদান অনস্বীকার্য"- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
ফরায়েজি আন্দোলন হলো উনিশ শতকে হাজী শরীয়তুল্লাহর নেতৃত্বে ইসলামের ফরজ বিধান পালন ও সমাজ থেকে শিরক-বিদআত দূরীকরণের ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলন।
- খ)
দ্বৈত শাসন বলতে রবার্ট ক্লাইভ প্রবর্তিত সেই ব্যবস্থাকে বোঝায়, যেখানে নবাবের হাতে শাসনের দায়িত্ব থাকলেও প্রকৃত ক্ষমতা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাতে থাকত। অর্থাৎ ক্ষমতা কোম্পানির, আর দায়দায়িত্ব নবাবের। এর ফলে প্রশাসনে অব্যবস্থা ও জনগণের দুর্দশা বাড়ে।
- গ)
চিত্র-১-এ নির্দেশিত ব্যক্তি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, যিনি উনিশ শতকের বাংলার একজন সফল সমাজ-সংস্কারক হিসেবে পরিচিত।
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ছিলেন অসাধারণ পণ্ডিত, শিক্ষাবিদ ও মানবতাবাদী। সমাজ-সংস্কারক হিসেবে তাঁর ভূমিকা ছিল নিম্নরূপ।
প্রথমত, তিনি হিন্দু সমাজে বিধবা বিবাহের পক্ষে কঠোর অবস্থান নেন। তাঁর নিরলস প্রচেষ্টার ফলে ১৮৫৬ সালে গভর্নর জেনারেলের সম্মতিক্রমে বিধবা বিবাহ আইন পাস হয়। দ্বিতীয়ত, তিনি কন্যাশিশু হত্যা ও বহুবিবাহ প্রথার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেন। তৃতীয়ত, নারীশিক্ষা প্রসারে তিনি অগ্রণী ভূমিকা রাখেন এবং স্কুল পরিদর্শক থাকাকালে গ্রামে-গঞ্জে ২০টি মডেল স্কুল ও ৩৫টি বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেন। চতুর্থত, সংস্কৃত শিক্ষার সংস্কার ও বাংলা শিক্ষার ভিত্তি স্থাপন করেন এবং মেট্রোপলিটান ইনস্টিটিউশন (বর্তমানে বিদ্যাসাগর কলেজ) প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি বাংলা গদ্যের জনক এবং দান-দাক্ষিণ্যের জন্য 'দয়ার সাগর' নামে খ্যাত।
সুতরাং কুসংস্কার দূর করা, নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা ও শিক্ষা বিস্তারে বিদ্যাসাগর সমাজ-সংস্কারক হিসেবে অমর হয়ে আছেন।
- ঘ)
"উনিশ শতকের শেষার্ধে মুসলমান সমাজের নবজাগরণে চিত্র-২-এ নির্দেশিত ব্যক্তির অবদান অনস্বীকার্য"—মন্তব্যটি যথার্থ। চিত্র-২-এ নির্দেশিত ব্যক্তি সৈয়দ আমির আলি।
পাঠ্যবইয়ে বলা হয়েছে, উনিশ শতকের শেষার্ধে বাংলার মুসলমান সমাজের নবজাগরণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন সৈয়দ আমির আলি। তিনি ১৮৪৯ সালে হুগলীতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৮৭৩ সালে লন্ডন থেকে ব্যারিস্টারি পাস করেন। তাঁর অবদান নিচে আলোচনা করা হলো।
১. সংগঠন প্রতিষ্ঠা: তিনিই প্রথম মুসলমান নেতা, যিনি বিশ্বাস করতেন মুসলমানদের স্বার্থরক্ষার জন্য আলাদা রাজনৈতিক সংগঠন প্রয়োজন। এ উদ্দেশ্যে ১৮৭৭ সালে কলকাতায় 'সেন্ট্রাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন' গঠন করেন।
২. শিক্ষার অগ্রগতিতে ভূমিকা: তিনি পত্র-পত্রিকায় মুসলমানদের শিক্ষায় পিছিয়ে পড়ার কথা তুলে ধরেন। এতে সরকার মুসলমানদের শিক্ষার জন্য কিছু ব্যবস্থা নেয়। তাঁর উৎসাহে কলকাতা মাদ্রাসায় কলেজ পর্যায়ে ইংরেজি শিক্ষা চালু এবং করাচিতে কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
৩. সাহিত্যকর্ম: 'The Spirit of Islam' ও 'A Short History of the Saracens' গ্রন্থে তিনি ইসলামের বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা ও অতীত গৌরব তুলে ধরেন, যা মুসলমান সমাজে আত্মমর্যাদাবোধ জাগায়।
৪. উচ্চ পদ ও উদার দৃষ্টিভঙ্গি: তিনি ১৮৯০ সালে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি এবং ১৯০৯ সালে প্রিভি কাউন্সিলের সদস্য হন। তিনি হিন্দু-মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের একযোগে কাজের প্রয়োজনীয়তায় বিশ্বাস করতেন এবং নারী অধিকার বিষয়ে সচেতন ছিলেন। ১৯০৬ সালে মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠাকে স্বাগত জানান এবং ১৯১২ সালে এর সভাপতি নির্বাচিত হন।
সুতরাং সংগঠন, শিক্ষা, সাহিত্য ও রাজনৈতিক চেতনার জাগরণে সৈয়দ আমির আলির অবদান অনস্বীকার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও