বিজ্ঞান • দুর্যোগের সাথে বসবাস • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৫

বিজ্ঞান প্রশ্ন

  1. ক)

    সাইক্লোন কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    খরা কেন হয়?

    (2)
  3. গ)

    বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির জন্য '' দায়ী ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    'উদ্দীপকের আলোকে পরিবেশ সংরক্ষণে 'A' নিয়ন্ত্রিত হলে 'B' এবং 'D' এর কারণে সৃষ্ট দূষণ রোধ সম্ভব হবে"। উক্তিটির যথার্থতা মূল্যায়ন কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    নিম্নচাপের কারণে যখন বাতাস প্রচণ্ড গতিতে কুণ্ডলী আকারে ঘুরতে থাকে, তখন তাকে সাইক্লোন বা ঘূর্ণিঝড় বলে।

  2. খ)

    খরার প্রধান কারণ দীর্ঘদিন বৃষ্টিপাত না হওয়া বা বৃষ্টিপাত অনেক কমে যাওয়া। বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়ার ফলে কোনো কোনো অঞ্চলে বৃষ্টিপাত কমে যায়।

    বনভূমি ধ্বংস এবং ভূগর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত উত্তোলনও খরার কারণ হতে পারে। এতে মাটি শুকিয়ে ফেটে যায় এবং ফসল উৎপাদন ব্যাহত হয়।

  3. গ)

    বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির জন্য মূলত গ্রিন হাউস গ্যাস দায়ী। চিত্রের জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রভাবে বৃক্ষ নিধন, শিল্প কারখানা ও যানবাহন—এই তিনটি উৎসই এই গ্যাস বাড়ায়, তাই তিনটিই বৈশ্বিক উষ্ণতার জন্য দায়ী।

    গ্রিন হাউস গ্যাস: কার্বন ডাই-অক্সাইড, ওজোন, মিথেন, সিএফসি, নাইট্রাস অক্সাইড ও জলীয় বাষ্প—এই গ্যাসগুলোর পরিমাণ বেড়ে গেলে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বাড়ে, যাকে বৈশ্বিক উষ্ণতা বলে।

    যানবাহন (D): যানবাহনের ধোঁয়া থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইডসহ গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গত হয়। জনসংখ্যা বাড়লে যানবাহনের সংখ্যাও বাড়ে, ফলে এই নিঃসরণ বাড়ে।

    শিল্প কারখানা (C): কলকারখানা ও বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র থেকে প্রচুর ধোঁয়া ও গ্যাস নির্গত হয়, যা গ্রিন হাউস গ্যাসের মূল উৎস। রেফ্রিজারেটর ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রে ব্যবহৃত গ্যাসও (সিএফসি) এর অন্তর্ভুক্ত।

    বৃক্ষ নিধন (B): গাছপালা কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে। জনসংখ্যা বাড়ায় ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও অন্যান্য চাহিদার জন্য বনভূমি উজাড় হচ্ছে। ফলে শোষণ কমছে এবং বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইড বেড়েই চলেছে।

    মূল কারণ (A): জনসংখ্যা বৃদ্ধি এ তিনটিরই ভিত্তি। কারণ জনসংখ্যা বাড়লে যানবাহন, শিল্প-কারখানা ও বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ে এবং বনভূমি কমে।

    অতএব, গ্রিন হাউস গ্যাসের বৃদ্ধিই বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়ায় এবং চিত্রের এই উৎসগুলো তার জন্য দায়ী।

  4. ঘ)

    উক্তিটি আংশিক যথার্থ। উদ্দীপকে A হলো জনসংখ্যা বৃদ্ধি, B বৃক্ষ নিধন এবং D যানবাহন। এদের সবগুলোই পরিবেশদূষণের কারণ।

    ১. বৃক্ষ নিধন (B): জনসংখ্যা বাড়লে বাসস্থান, কৃষি ও জ্বালানি কাঠের চাহিদা বাড়ে। ফলে বেশি গাছ কাটা হয়। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রিত থাকলে এ চাহিদা কমে এবং বনভূমি রক্ষা পায়। গাছ কমলে কার্বন ডাই-অক্সাইড বাড়ে ও বায়ু দূষিত হয়।
    ২. যানবাহন (D): জনসংখ্যা বেশি হলে যানবাহনের সংখ্যাও বাড়ে। যানবাহনের ধোঁয়ায় কার্বন মনোক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড ও সীসা বায়ু ও শব্দদূষণ ঘটায়। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রিত হলে এ দূষণও কমে।
    ৩. সীমাবদ্ধতা: শুধু জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণই যথেষ্ট নয়। বৃক্ষরোপণ, আধুনিক ও কম ধোঁয়াযুক্ত যানবাহন এবং সচেতনতাও জরুরি।

    সুতরাং, A নিয়ন্ত্রিত হলে B ও D এর দূষণ অনেকাংশে কমানো সম্ভব, তবে অন্যান্য পদক্ষেপও প্রয়োজন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন