সাহিত্য পাঠ • কলিমদ্দি দফাদার • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৫
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
"জাত গেল জাত গেল বলেএকি আজব কারখানা।সত্য কাজে কেউ নয় রাজিসবই দেখি তা না না না।।"
- ক)(1)
'বিলাসী' গল্পের বর্ণনাকারী কে?
- খ)(2)
"অন্নপাপ। বাপরে! এর কি আর প্রায়শ্চিত্ত আছে।"-ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে 'বিলাসী' গল্পের কোন দিকটির সাদৃশ্য আছে? বুঝিয়ে লেখো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে 'বিলাসী' গল্পের আংশিক ভাবের প্রতিফলন ঘটেছে" মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'বিলাসী' গল্পের বর্ণনাকারী ন্যাড়া।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উক্তিটি দ্বারা তৎকালীন হিন্দু সমাজের অমানবিক জাতপ্রথা ও রক্ষণশীল গোঁড়ামির স্বরূপ প্রকাশ পেয়েছে।
'বিলাসী' গল্পে মৃত্যুঞ্জয় অসুস্থ অবস্থায় কায়স্থ ঘরের হয়েও নিচু জাতের সাপুড়ের মেয়ে বিলাসীর হাতের সেবা ও অন্ন গ্রহণ করেছিল। হিন্দু সমাজের দৃষ্টিতে নীচুজাতের কারও অন্ন গ্রহণ করা চরম সামাজিক অপরাধ বা 'অন্নপাপ' হিসেবে গণ্য হতো, যার কোনো প্রায়শ্চিত্ত তৎকালীন সমাজপতিরা স্বীকার করত না। অসুস্থ মানুষকে জীবন বাঁচানোর জন্য সেবা ও অন্ন দেওয়াকে কৃতজ্ঞতা না জানিয়ে সমাজ জাত খোয়ানোর পাপ হিসেবে বিবেচনা করেছিল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'বিলাসী' গল্পের তৎকালীন সমাজব্যবস্থার অন্ধ জাত্যাভিমান, কুসংস্কার এবং ধর্ম ও জাতপাতের ভণ্ডামির দিকটির সাদৃশ্য ফুটে উঠেছে।
লালন শাহের উদ্ধৃত চরণে সমাজপতিদের জাত-পাত নিয়ে অহেতুক মাতামাতি ও কৃত্রিম বাড়াবাড়ির তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে। মানুষ যখন মানবতার আসল ধর্ম ভুলে বাহ্যিক জাত-ধর্ম নিয়ে বিবাদে মত্ত হয়, তখন সত্য ও মানবকল্যাণের পথ রুদ্ধ হয়।
'বিলাসী' গল্পেও দেখা যায়, অসুস্থ মৃত্যুঞ্জয়কে দীর্ঘ দেড় মাস সেবা করে বাঁচিয়ে তুলেছিল সাপুড়ে কন্যা বিলাসী। কিন্তু সমাজপতিরা বিলাসীর এই নিঃস্বার্থ মানবসেবা ও ভালোবাসাকে মর্যাদা দেয়নি; বরং মৃত্যুঞ্জয় নিচু জাতের মেয়ের হাতে ভাত খেয়েছে বলে জাত হারানোর অপরাধে তাকে ও বিলাসীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত এবং ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করে। উদ্দীপকের 'জাত গেল জাত গেল' রব এবং সত্য কাজে বিমুখতার যে চিত্র ফুটে উঠেছে, তা 'বিলাসী' গল্পের গ্রাম্য সমাজের নিষ্ঠুর জাত্যাভিমানের সাথেই গভীরভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"উদ্দীপকে 'বিলাসী' গল্পের আংশিক ভাবের প্রতিফলন ঘটেছে"— মন্তব্যটি যথার্থ।
উদ্দীপকের কবিতাংশে জাতপাতের গোঁড়ামি, কুসংস্কার এবং তথাকথিত জাত হারানোর ভণ্ডামির প্রতি তীব্র শ্লেষ ও প্রতিবাদ প্রকাশ পেয়েছে। মানুষ যেখানে প্রকৃত সত্য বা মানবতার ধার ধারে না, কেবল মিথ্যা জাতের অহংকারে মেতে থাকে, সে কথাই এখানে বলা হয়েছে।
'বিলাসী' গল্পে এই জাতপ্রথার অমানবিক রূপ স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। মৃত্যুঞ্জয়ের জ্ঞাতিখুড়ো এবং সমাজপতিরা অসুস্থ মুমূর্ষু মৃত্যুঞ্জয়ের পাশে দাঁড়ায়নি, কিন্তু সে বিলাসীর হাতে সেবা নিয়ে বেঁচে উঠতেই তারা 'অন্নপাপ' ও 'জাত যাওয়ার' অজুহাতে তাদের ওপর নিষ্ঠুর নির্যাতন চালায়। উদ্দীপকে গল্পের এই কুসংস্কারাচ্ছন্ন ও জাত্যাভিমানী সমাজের ভণ্ডামির দিকটিই প্রতিফলিত হয়েছে।
তবে 'বিলাসী' গল্পের মূল ভাব কেবল জাতপাতের সংকীর্ণতাতেই সীমাবদ্ধ নয়। গল্পটিতে এর পাশাপাশি বিলাসীর আত্মোৎসর্গকারী প্রেম, সেবাধর্ম, মহত্ত্ব এবং মৃত্যুঞ্জয়ের প্রতি তার নিষ্ঠার এক অনন্য মানবিক আলেখ্য অঙ্কিত হয়েছে। সাপের কামড়ে মৃত্যুঞ্জয়ের মৃত্যুর পর বিলাসীর বিষপানে আত্মাহুতির মাধ্যমে প্রেমের এক অমর ট্র্যাজেডি রূপ পেয়েছে, যা উদ্দীপকের সংক্ষিপ্ত চরণে অনুপস্থিত।
অতএব, উদ্দীপকটি 'বিলাসী' গল্পের জাতপাতের সামাজিক ভণ্ডামিকে তুলে ধরলেও প্রেমের মহত্ত্ব ও আত্মত্যাগের বিশাল ক্যানভাসকে স্পর্শ করতে পারেনি। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে গল্পটির আংশিক ভাবেরই প্রতিফলন ঘটেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও