উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র • উৎপাদনের মাত্রা • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬
উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র প্রশ্ন
মি. হাসিব ১০ কোটি টাকা মূলধন ও ৯০ জন শ্রমিক নিয়ে একটি কারখানা স্থাপন করেন। ব্যবসায়িক সফলতা দেখে তিনি ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে আরও ৮ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেন ও অতিরিক্ত ৬০ জন কর্মী নিয়োগ দেন। তার প্রতিযোগী শামীম জমি ও দালান বাদে ৫৫ কোটি টাকা ও ৩৫০ জন শ্রমিক নিয়োগ দিয়ে নতুন কারখানা স্থাপন করেন। ব্যবসায়িকভাবে তিনি বেশ সফল।
- ক)(1)
মিতব্যয়ী উৎপাদন মাত্রা কী?
- খ)(2)
"উৎপাদন মাত্রা উপকরণের সদ্ব্যবহার ত্বরান্বিত করে"—ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উৎপাদন মাত্রার ভিত্তিতে মি. হাসিব কোন ধরনের ব্যবসায় স্থাপন করেন? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
এন্টারপ্রাইজের ধরন বিবেচনায় জনাব হাসিবের সম্প্রসারিত কারখানার তুলনায় জনাব শামীমের কারখানার কার্যক্রম আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বেশি অবদান রাখে—বক্তব্যটির আলোকে তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উৎপাদনের পরিমাণ বৃদ্ধির ফলে গড় উৎপাদন ব্যয় সর্বনিম্ন হওয়ার স্তর বা মাত্রাকে মিতব্যয়ী উৎপাদন মাত্রা বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উৎপাদন মাত্রা হলো কোনো নির্দিষ্ট সময়ে একটি কারখানায় কী পরিমাণ পণ্য উৎপাদিত হবে তার পরিমাপ। উৎপাদনের মাত্রা বৃদ্ধির ফলে শ্রমবিভাগ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সম্পদের পূর্ণ সদ্ব্যবহার নিশ্চিত হয়। এর ফলে কাঁচামাল অপচয় হ্রাস পায় এবং স্থির ব্যয়ের প্রভাব কমে গিয়ে উৎপাদনের প্রতিটি উপকরণের সর্বোচ্চ ব্যবহার সম্ভব হয়। তাই বলা হয়, উৎপাদন মাত্রা উপকরণের সদ্ব্যবহার ত্বরান্বিত করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উৎপাদন মাত্রার ভিত্তিতে মি. হাসিব প্রাথমিকভাবে মাঝারি শিল্পের কারখানা স্থাপন করেন।
জাতীয় শিল্পনীতি অনুযায়ী, উৎপাদনমুখী শিল্পে জমি এবং কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ১৫ কোটি টাকার অধিক এবং অনধিক ৫০ কোটি টাকা কিংবা যে শিল্প প্রতিষ্ঠানে ১২১ জন থেকে ৩০০ জন শ্রমিক নিয়োজিত থাকে, তাকে মাঝারি শিল্প বলে। তবে ক্ষুদ্র শিল্পে মূলধন দেড় কোটি থেকে ১৫ কোটি টাকা অথবা শ্রমিকের সংখ্যা ৩১ থেকে ১২০ জন হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মি. হাসিব শুরুতে ১০ কোটি টাকা মূলধন ও ৯০ জন শ্রমিক নিয়ে কারখানা স্থাপন করেন। মূলধনের পরিমাণ এবং শ্রমিকের সংখ্যা উভয় মানদণ্ডেই এটি মাঝারি/ক্ষুদ্রের পরিসরে বিশেষ করে ক্ষুদ্র শিল্পের উচ্চসীমা ও মাঝারি শিল্পের শুরুর স্তরে অবস্থিত। শিল্পনীতি অনুযায়ী উৎপাদনের মাত্রার মানদণ্ডে তার প্রাথমিক উদ্যোগটি ক্ষুদ্র/মাঝারি বা মাঝারি ধরনের শিল্প প্রতিষ্ঠান হিসেবে গণ্য হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
এন্টারপ্রাইজের ধরন বিবেচনায় মি. হাসিবের সম্প্রসারিত কারখানার তুলনায় জনাব শামীমের কারখানার কার্যক্রম আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বেশি অবদান রাখে—বক্তব্যটি যথার্থ।
মি. হাসিব পরবর্তীতে আরও ৮ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে মোট ১৮ কোটি টাকা মূলধন এবং অতিরিক্ত ৬০ জন কর্মীসহ মোট (৯০ + ৬০) = ১৫০ জন শ্রমিক নিয়োগ করেন। এটি জাতীয় শিল্পনীতি অনুযায়ী একটি মাঝারি শিল্প। অপরদিকে জনাব শামীম জমি ও দালান বাদে ৫৫ কোটি টাকা মূলধন ও ৩৫০ জন শ্রমিক নিয়োগ করে একটি বৃহৎ শিল্প স্থাপন করেছেন (যেখানে মূলধন ৫০ কোটি টাকার বেশি এবং শ্রমিক ৩০০ জনের বেশি)।
বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠান হিসেবে জনাব শামীমের কারখানায় মি. হাসিবের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি (৩৫০ জন) প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি বৃহৎ শিল্পে উৎপাদনের পরিমাণ বিপুল হওয়ায় তা অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে ভূমিকা রাখতে পারে। এছাড়া সরকার এখান থেকে অধিক রাজস্ব পায় এবং স্থানীয় অবকাঠামো ও অনুসারী ব্যবসায়ের ব্যাপক বিকাশ ঘটে। ফলে জনাব হাসিবের মাঝারি শিল্পের তুলনায় জনাব শামীমের বৃহৎ শিল্পের অবদান আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে অনেক বেশি কার্যকর।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও