মনোবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬

মনোবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

দৃশ্যকল্প-১ : রুবেল নবম শ্রেণিতে পড়ে। সে মনে করে অন্যান্য সহপাঠীদের বংশের লোকেরা তার বংশের মত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী নয়। সে তার বংশ নিয়ে গর্ববোধ করে।
দৃশ্যকল্প-২ : আলো একটি গ্রামে বেড়াতে গিয়ে লক্ষ্য করল গ্রামের একটি বিশেষ জনগোষ্ঠীর সাথে সমাজের বেশিরভাগ মানুষ মিশে না। এমনকি তাদের স্পর্শ করা কোনো খাবার খায় না।

  1. ক)

    মনোভাব কী?

    (1)
  2. খ)

    মনোভাবের ক্রিয়ামূলক উপাদান গুরুত্বপূর্ণ কেন?

    (2)
  3. গ)

    দৃশ্যকল্প-১ এ রুবেলের মধ্যে যে ধারণার উদ্ভব হয়েছে তা ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    দৃশ্যকল্প-২ এ গ্রামবাসীর মধ্যে সৃষ্ট আচরণ হ্রাসের উপায়সমূহ বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো ব্যক্তি, বস্তু, ধারণা বা পরিস্থিতির প্রতি ইতিবাচক বা নেতিবাচকভাবে সাড়া দেওয়ার অর্জিত ও অপেক্ষাকৃত স্থায়ী মানসিক প্রস্তুতিকে মনোভাব (Attitude) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মনোভাবের ক্রিয়ামূলক (বা আচরণগত) উপাদানটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি ব্যক্তির বিশ্বাস ও অনুভূতির প্রত্যক্ষ বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। একজন ব্যক্তি কোনো বিষয়ের প্রতি কেমন আচরণ করবে বা পদক্ষেপ নেবে, তা তার ক্রিয়ামূলক উপাদানের দ্বারাই নির্ধারিত হয়। কেবল চিন্তা বা আবেগের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে মনোভাব বাস্তবে সক্রিয় রূপ নেয় ক্রিয়ামূলক উপাদানের মাধ্যমে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যকল্প-১ এ রুবেলের মধ্যে 'স্বজাত্যবোধ' বা 'বংশগত কুসংস্কার ও অহংকার' (Ethnocentrism/Prejudice)-এর উদ্ভব হয়েছে।

    স্বজাত্যবোধ হলো এমন একটি মনোভাব, যেখানে ব্যক্তি নিজের দল, গোষ্ঠী বা বংশকে সর্বশ্রেষ্ঠ এবং অন্যদের নিকৃষ্ট মনে করে। এর ফলে নিজের গোষ্ঠীর প্রতি অতিরিক্ত পক্ষপাতিত্ব এবং বাইরের গোষ্ঠীর প্রতি অবমূল্যায়নমূলক মনোভাব সৃষ্টি হয়।
    উদ্দীপকে রুবেল মনে করে অন্য সহপাঠীদের বংশের লোকেরা তার বংশের মতো ভালো নয় এবং সে নিজের বংশ নিয়ে অতিরিক্ত গর্ববোধ করে। নিজের দলকে মানদণ্ড ধরে অন্যদের নিচু চোখে দেখার এই মানসিকতাই হলো স্বজাত্যবোধ ও কুসংস্কারমূলক মনোভাবের প্রকাশ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যকল্প-২ এ গ্রামবাসীর মধ্যে একটি বিশেষ জনগোষ্ঠীর প্রতি 'সামাজিক কুসংস্কার ও বৈষম্যমূলক আচরণ' (Social Discrimination) প্রকাশ পেয়েছে। এ ধরনের আচরণ হ্রাসের উপায়গুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. শিক্ষার প্রসার ও সচেতনতা বৃদ্ধি: গ্রামবাসীদের মধ্যে বিজ্ঞানভিত্তিক ও মানবিক শিক্ষার প্রসার ঘটাতে হবে, যাতে তারা বুঝতে পারে বংশ বা পেশাভেদে মানুষের রক্ত বা দেহে কোনো অপবিত্রতা থাকে না।
    ২. প্রত্যক্ষ আন্তঃদলীয় যোগাযোগ (Intergroup Contact): বিশেষ জনগোষ্ঠীর সাথে সাধারণ গ্রামবাসীর মেলামেশা ও সামাজিক সংযোগ বাড়ানো। সামাজিক মনোবিজ্ঞানীদের মতে, দুই দলের মধ্যে সমান মর্যাদার ভিত্তিতে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ঘটলে ভুল ধারণা দূর হয়।
    ৩. যৌথ কর্মসূচি গ্রহণ: গ্রামীণ উন্নয়ন বা উৎসবের মতো অভিন্ন লক্ষ্যভিত্তিক কর্মকাণ্ডে উভয় দলকে একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ করে দিলে সৌহার্দ্য বৃদ্ধি পায়।
    ৪. কুসংস্কারবিরোধী প্রচার ও ধর্মীয় সঠিক অনুশাসন: প্রচার মাধ্যম ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের দ্বারা সাম্য ও মানবতার বার্তা প্রচার করা এবং ধর্মীয় ভ্রান্ত ব্যাখ্যার অবসান ঘটানো।
    ৫. আইন প্রয়োগ: বৈষম্যমূলক আচরণের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও নজরদারি নিশ্চিত করা।

    উপরিউক্ত পদক্ষেপগুলো গ্রহণের মাধ্যমে গ্রামবাসীর মন থেকে বর্ণ ও জাতপাতভিত্তিক বৈষম্য ও কুসংস্কার হ্রাস করা সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন