মনোবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩
মনোবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
দৃশ্যকল্প-১: দৃশ্যকল্প-২:
- ক)(1)
কর্মভার কী?
- খ)(2)
জলে কুমির ডাঙ্গায় বাঘ"- কে বিকর্ষণ-বিকর্ষণ দ্বন্দ্ব বলা হয় কেন?
- গ)(3)
দৃশ্যকল্প-১-এর A চিহ্নিত অংশটি ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
দৃশ্যকল্প-২-এর C ও E এর মধ্যে তুলানমূলক বিবরণ দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো নির্দিষ্ট সময়ে বা কর্মক্ষেত্রে একজন ব্যক্তির ওপর অর্পিত কাজের পরিমাণ ও তার সামর্থ্যের মধ্যকার ভারসাম্যহীনতার ফলে সৃষ্ট চাপ বা বোঝার অবস্থাকে কর্মভার (Workload) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"জলে কুমির ডাঙ্গায় বাঘ" প্রবাদটিতে এমন একটি পরিস্থিতি বোঝানো হয় যেখানে দুটি বিকল্পের উভয়টিই সমানভাবে ক্ষতিকর, অনিচ্ছাকৃত ও নেতিবাচক।
মনোবিজ্ঞানের সংজ্ঞানুযায়ী, যখন কোনো ব্যক্তির সামনে একই সাথে দুটি অবাঞ্ছিত বা নেতিবাচক লক্ষ্য উপস্থিত থাকে এবং তাকে যেকোনো একটি বেছে নিতে বাধ্য হতে হয়, তখন যে মানসিক দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয় তাকে 'বিকর্ষণ-বিকর্ষণ দ্বন্দ্ব' (Avoidance-Avoidance Conflict) বলে। জলে নামলে কুমিরের ভয় এবং ডাঙ্গায় থাকলে বাঘের আক্রমণ—দুটি বিকল্পই প্রাণনাশের মতো ক্ষতিকর। ফলে ব্যক্তি কোনটিই বেছে নিতে চায় না, তাই এটি বিকর্ষণ-বিকর্ষণ দ্বন্দ্বের উৎকৃষ্ট উদাহরণ।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-১-এর ছকে কর্মভারের দুটি লক্ষণের একটি 'মানসিক' দেখানো হয়েছে, সুতরাং A চিহ্নিত অংশটি হলো কর্মভারের 'শারীরিক লক্ষণ' (Physical Symptoms)।
অতিরিক্ত কাজের চাপ বা কর্মভারের ফলে ব্যক্তির দেহে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক প্রতিক্রিয়া ও লক্ষণ দেখা দেয়। নিচে এগুলো ব্যাখ্যা করা হলো:
১. ক্লান্তি ও অবসাদ: অতিরিক্ত কর্মভারের কারণে ব্যক্তি দ্রুত ক্লান্ত ও অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়ে, ফলে স্বাভাবিক শক্তি হারিয়ে যায়।
২. মাথাব্যথা ও মাংসপেশির টান: ক্রমাগত শারীরিক ও মানসিক চাপের কারণে পেশিতে টান লাগে এবং প্রায়ই তীব্র মাথাব্যথা বা মাইগ্রেন দেখা দেয়।
৩. হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপ বৃদ্ধি: কাজের অতিরিক্ত চাপে রক্তচাপ বেড়ে যায় এবং অনিয়মিত হৃদস্পন্দন সৃষ্টি হতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
৪. পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা: হজমে গোলযোগ, ক্ষুধামন্দা, গ্যাসট্রিক বা পেপটিক আলসারের মতো সমস্যা তৈরি হয়।
৫. অনিদ্রা: শরীর অতিরিক্ত ক্লান্ত থাকলেও স্নায়বিক উত্তেজনার ফলে ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট হয় এবং অনিদ্রা দেখা দেয়।সুতরাং, A চিহ্নিত অংশটি কর্মভারের শারীরিক লক্ষণসমূহকে নির্দেশ করে যা ব্যক্তির কর্মক্ষমতা হ্রাস করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-২-এ কর্মভার নিরসনের পদক্ষেপসমূহকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। এর মাঝে 'কর্মসূচি' বা কর্মানুসূচি দেওয়া আছে। অবশিষ্ট C ও E হলো যথাক্রমে ব্যক্তিগত পদক্ষেপ (Individual/Personal strategies) এবং সাংগঠনিক পদক্ষেপ (Organizational strategies)। নিচে এদের তুলনামূলক বিবরণ দেওয়া হলো:
১. সংজ্ঞা ও ক্ষেত্রগত পার্থক্য:
- C (ব্যক্তিগত পদক্ষেপ): কর্মভারের চাপ কমানোর জন্য কর্মী নিজে ব্যক্তিগতভাবে যে সকল অভ্যাস বা আচরণ পরিবর্তন করেন, তা ব্যক্তিগত পদক্ষেপ। যেমন—সময় ব্যবস্থাপনা, মেডিটেশন বা শিথিলায়ন এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন।
- E (সাংগঠনিক পদক্ষেপ): অতিরিক্ত কর্মভার লাঘবের জন্য প্রতিষ্ঠান বা ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক গৃহীত সামগ্রিক প্রাতিষ্ঠানিক নীতি ও ব্যবস্থাপনা হলো সাংগঠনিক পদক্ষেপ।
২. ভূমিকা ও প্রয়োগকর্তা:
- 'C' এর নিয়ন্ত্রণ সরাসরি কর্মীর নিজের হাতে থাকে। কর্মী তার নিজস্ব ধ্যান-ধারণা ও প্রচেষ্টার মাধ্যমে মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করে।
- 'E' এর নিয়ন্ত্রণ থাকে ব্যবস্থাপনা বা কর্তৃপক্ষের হাতে। এখানে কর্মীদের উপযুক্ত কাজের বণ্টন, কাজের পরিবেশ উন্নয়ন এবং ন্যায্য কর্মঘণ্টা নির্ধারণ করা হয়।
৩. উপায় ও পদ্ধতিগত পার্থক্য:
- ব্যক্তিগত পদক্ষেপে কর্মী সুষম খাদ্য গ্রহণ, পর্যাপ্ত বিশ্রাম, ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গঠন ও বিনোদনের ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
- সাংগঠনিক পদক্ষেপে কর্তৃপক্ষ কাজের পুনর্বিন্যাস (Job redesigning), কর্মীদের প্রণোদনা প্রদান, সহকর্মীদের মধ্যে সুসম্পর্ক তৈরি এবং কাউন্সেলিং সেবার সুযোগ নিশ্চিত করে।
৪. পরস্পর নির্ভরশীলতা:
ব্যক্তিগত পদক্ষেপ ছাড়া সাংগঠনিক পদক্ষেপ একা পূর্ণাঙ্গ সুফল দিতে পারে না, আবার অনুকূল সাংগঠনিক পরিবেশ ছাড়া একক প্রচেষ্টায় চাপমুক্ত থাকা অসম্ভব।পরিশেষে, C (ব্যক্তিগত পদক্ষেপ) এবং E (সাংগঠনিক পদক্ষেপ) উভয়ই পরস্পরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে কর্মভার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও