মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬
মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
দৃশ্যকল্প-১: প্রেষণা দ্বারা তাড়িত হয়ে প্রাণী যে আচরণ করে তাকে প্রেষিত আচরণ বলা হয়।
দৃশ্যকল্প-২: আবেগ এর নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আবেগ নিয়ন্ত্রণে বেশ কিছু মৌলিক কৌশল রয়েছে।
- ক)(1)
প্রেষণা কী?
- খ)(2)
আবেগ ও অনুভূতি এক নয় কেন?
- গ)(3)
দৃশ্যকল্প-১ এ বর্ণিত আচরণের বৈশিষ্ট্যগুলো ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
দৃশ্যকল্প-২ এ বর্ণিত মৌলিক কৌশলের যে কোনো ৪টি কৌশল বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মানুষ বা প্রাণীর যে অভ্যন্তরীণ অবস্থা কোনো লক্ষ্য অর্জনের জন্য তাকে বিশেষ আচরণ সম্পাদনে চালিত ও উৎসাহিত করে, তাকে প্রেষণা (Motivation) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আবেগ এবং অনুভূতি মনোবিজ্ঞানের দুটি ভিন্ন প্রত্যয়, তাই এরা এক নয়। অনুভূতি হলো কোনো উদ্দীপকের প্রতি ব্যক্তির অভ্যন্তরীণ সুখ বা দুঃখের সরল ও মৃদু মানসিক অভিজ্ঞতা। পক্ষান্তরে, আবেগ হলো ব্যক্তির সমগ্র সত্তার এক তীব্র, জটিল ও আলোড়িত অবস্থা, যার সঙ্গে গভীর শারীরিক বা শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন (যেমন: হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি, রক্তচাপ বৃদ্ধি) এবং বাহ্যিক আচরণিক অভিব্যক্তি প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত থাকে। অনুভূতির তীব্র ও আলোড়িত রূপই হলো আবেগ।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-১ এ প্রেষিত আচরণের কথা বলা হয়েছে। প্রেষণা দ্বারা পরিচালিত হয়ে প্রাণী যে আচরণ প্রদর্শন করে তাকে প্রেষিত আচরণ বলে। প্রেষিত আচরণের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. উদ্দেশ্যমুখিতা বা লক্ষ্যভিমুখী আচরণ: প্রেষিত আচরণ সবসময় একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য দ্বারা পরিচালিত হয়। যেমন— ক্ষুধার্ত প্রাণী খাদ্যের সন্ধানে আচরণ করে।
২. নির্বাচনমূলক আচরণ: প্রেষিত অবস্থায় প্রাণী লক্ষ্য অর্জনের সহায়ক উদ্দীপক ও প্রতিক্রিয়া নির্বাচন করে এবং অপ্রাসঙ্গিক বিষয় বর্জন করে।
৩. অবিরাম কর্মতৎপরতা বা স্থায়িত্ব: উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত প্রেষিত আচরণ ক্রমাগত চলতে থাকে এবং প্রাণী সক্রিয় থাকে।
৪. শক্তি সঞ্চার ও পরিবর্তনশীলতা: প্রেষণা প্রাণীর মধ্যে শক্তি যোগায়। একই সাথে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে একটি পথ ব্যর্থ হলে প্রাণী কৌশল বা পথ পরিবর্তন করে লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা করে।
৫. ভারসাম্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা: লক্ষ্য অর্জনের মাধ্যমে প্রেষণার নিবৃত্তি ঘটে এবং শারীরিক ও মানসিক ভারসাম্য ফিরে আসে, ফলে আচরণটি সাময়িকভাবে বন্ধ হয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-২ এ আবেগের নিয়ন্ত্রণের কথা বলা হয়েছে। সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনের জন্য আবেগীয় ভারসাম্য রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আবেগ নিয়ন্ত্রণের চারটি মৌলিক কৌশল নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. উদ্দীপক পরিস্থিতি পরিবর্তন বা পরিহার: যে পরিস্থিতি বা উদ্দীপক অতিরিক্ত আবেগ (যেমন— রাগ, ক্ষোভ) সৃষ্টি করে, তা সরাসরি পরিহার করা বা সেখান থেকে সাময়িকভাবে সরে যাওয়া। পরিস্থিতি পরিবর্তনের মাধ্যমে আবেগের তীব্রতা দ্রুত হ্রাস পায়।
২. আবেগের পুনঃমূল্যায়ন বা প্রজ্ঞামূলক পুনর্গঠন (Cognitive Reappraisal): ঘটনাকে ইতিবাচক বা ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে চিন্তা করার অভ্যাস গড়ে তোলা। আবেগময় পরিস্থিতি সম্পর্কে যৌক্তিক ও গঠনমূলক ব্যাখ্যা দাঁড় করালে আবেগ নিয়ন্ত্রিত থাকে।
৩. মনোযোগের দিক পরিবর্তন (Distraction): আবেগের তীব্র মুহূর্তে নিজের মনোযোগ অন্য কোনো আনন্দদায়ক, গঠনমূলক বা সৃজনশীল কাজে নিবদ্ধ করা। যেমন— গান শোনা, বই পড়া বা প্রিয়জনের সাথে কথা বলা।
৪. শিথিলীকরণ কৌশল (Relaxation Techniques): আবেগের সময় সৃষ্ট শারীরবৃত্তীয় আলোড়ন কমাতে গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম (Deep Breathing), পেশি শিথিলকরণ বা ধ্যান (Meditation) চর্চা করা। এটি স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করে আবেগ প্রশমিত করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও