সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯

সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    বিচ্যুতি কী?

    (1)
  2. খ)

    শিক্ষককে সালাম না দেয়া কি অপরাধ? বুঝিয়ে লেখো।

    (2)
  3. গ)

    'ক' চিত্রটি অপরাধের কোন ধরনকে নির্দেশ করছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    'খ' চিত্রে প্রদর্শিত বিষয়টি 'ক' চিত্রে নির্দেশিত অপরাধের একমাত্র কারণ নয়। বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সমাজের প্রতিষ্ঠিত প্রত্যাশিত আদর্শ, মানদণ্ড বা সামাজিক মূল্যবোধ পরিপন্থি আচরণকেই বিচ্যুতি বা বিচ্যুতাচরণ বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    শিক্ষককে সালাম না দেওয়া অপরাধ নয়, বরং তা একটি বিচ্যুত আচরণ বা সামাজিক শিষ্টাচার পরিপন্থি কাজ।

    অপরাধ হলো এমন আচরণ যা রাষ্ট্রের লিখিত আইন ভঙ্গ করে এবং যার জন্য সুনির্দিষ্ট শাস্তির বিধান রয়েছে। শিক্ষককে সালাম বা সম্মান প্রদর্শন করা নৈতিকতা ও সামাজিক শিষ্টাচারের অংশ; এটি কোনো লিখিত রাষ্ট্রীয় আইন নয়। সুতরাং, শিক্ষককে সালাম না দিলে সামাজিক নিন্দা বা অননুমোদন দেখা দিতে পারে, কিন্তু তা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় না। তাই এটি অপরাধ নয়, সামাজিক বিচ্যুতি।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের 'ক' চিত্রটি সনাতন বা প্রচলিত অপরাধ (Traditional crime) কিংবা সম্পত্তি সংক্রান্ত অপরাধ/নীল কলার অপরাধকে (Blue-collar crime) নির্দেশ করছে।

    আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ এবং সামাজিকভাবে অত্যন্ত ক্ষতিকর যেকোনো কর্মকাণ্ডই অপরাধ। সাধারণ মানুষ দ্বারা সরাসরি শক্তি প্রয়োগ বা অবৈধ উপায়ে অন্যের ক্ষতি বা সম্পদ হরণের ঘটনাকে সনাতন বা প্রকাশ্য অপরাধ বলা হয়।

    'ক' চিত্রে দেখা যাচ্ছে একজন ব্যক্তি সরাসরি অন্যের সম্পদ ছিনিয়ে নিচ্ছে বা চুরি করছে। অপরাধবিজ্ঞানের ভাষায় এটি প্রকাশ্য বা সাধারণ অপরাধের অন্তর্ভুক্ত, যা সমাজে বিশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করে। এ ধরনের অপরাধের শিকার ব্যক্তি বা পক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে দৃশ্যমান ক্ষতির সম্মুখীন হয়। তাই 'ক' চিত্রটি প্রচলিত বা সম্পত্তি সংক্রান্ত অপরাধের ধরনকে নির্দেশ করছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের 'খ' চিত্রে প্রদর্শিত 'NO VACANCY' দ্বারা বেকারত্বকে বোঝানো হয়েছে। বেকারত্ব 'ক' চিত্রে নির্দেশিত অপরাধের (চুরি/ছিনতাই) একটি অন্যতম প্রধান কারণ হলেও এটিই একমাত্র কারণ নয়—উক্তিটি যথার্থ।

    বেকারত্ব সমাজে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও হতাশার সৃষ্টি করে। জীবিকা নির্বাহের বৈধ উপায় না পেয়ে অনেকেই টিকে থাকার তাগিদে কিংবা দ্রুত অর্থ উপার্জনের আশায় চুরি, ছিনতাই বা ডাকাতির মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। সেদিক থেকে অপরাধ সংঘটনে বেকারত্বের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভূমিকা রয়েছে।

    তবে অপরাধ সৃষ্টির পেছনে বেকারত্ব ছাড়াও বহুবিধ সামাজিক, মানসিক, পারিবারিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কারণ ক্রিয়াশীল থাকে। যেমন:
    ১. পারিবারিক ভাঙন ও সঠিক সামাজিকীকরণের অভাব: পরিবারের সঠিক নিয়ন্ত্রণ ও সুশিক্ষার অভাবে অনেকে অপরাধপ্রবণ হয়ে ওঠে।
    ২. অসৎ সঙ্গ: অপরাধী চক্র বা বিপথগামী বন্ধুদের সাথে মেলামেশার কারণে অনেকেই অপরাধে লিপ্ত হয়।
    ৩. লোভ ও দ্রুত ধনী হওয়ার আকাঙ্ক্ষা: কেবল আর্থিক অনটন নয়, বরং অতিরিক্ত লোভ ও নৈতিক স্খলনের ফলেও মানুষ এ ধরনের অপরাধ করে।
    ৪. মাদকাসক্তি: মাদকের অর্থ জোগাড় করার জন্য মাদকাসক্ত ব্যক্তিরা প্রায়ই চুরি বা ছিনতাই করে থাকে।
    ৫. আইনের শাসনের শিথিলতা ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি: আইনের সঠিক প্রয়োগ না থাকলে অপরাধীরা অপরাধ করতে উৎসাহিত হয়।

    সুতরাং, উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, বেকারত্ব অপরাধের একটি অন্যতম বড় নিয়ামক হলেও এটিই একমাত্র কারণ নয়; এর সাথে নানাবিধ আর্থ-সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক কারণ ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন