সহপাঠ • উপন্যাস: লালসালু • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬
সহপাঠ প্রশ্ন
কায়েমি স্বার্থ ও ক্ষমতার মোহে অন্ধ ভূস্বামী সেলিম উদ্দীন ও কথিত গুরু জহির বিভিন্ন কৌশলে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ায়। ভূস্বামী গায়ের জোরে গ্রামের সাধারণ মানুষের জমি দখল করে আর জহির সাধারণ মানুষের সরল বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে নিজের স্বার্থ সিদ্ধি করে। তাদের এই কর্মকাণ্ডের বিপরীতে আবরার যখন গ্রামের নিরীহ মানুষকে সচেতন ও জাগ্রত করার চেষ্টা করে, তখন তারা আঁতাত করে তাকে সমাজচ্যুত ও গ্রামছাড়া করার ষড়যন্ত্র শুরু করে।
- ক)(1)
‘লালসালু’ উপন্যাসের ইংরেজি অনুবাদের নাম কী?
- খ)(2)
“বিশ্বাসের পাথরে যেন খোদাই সে-চোখ।” — তাৎপর্য ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকের আবরারের সাথে ‘লালসালু’ উপন্যাসের কোন চরিত্রের সাদৃশ্য রয়েছে? কীভাবে?
- ঘ)(4)
“উদ্দীপকের সেলিম উদ্দীন ও জহিরের আঁতাত মূলত খালেক ব্যাপারী ও মজিদের চিরায়ত শোষণের প্রতিচ্ছবি।” — তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
‘লালসালু’ উপন্যাসের ইংরেজি অনুবাদের নাম ‘Tree Without Roots’ (ট্রি উইদাউট রুটস)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্ধৃত চরণটি দিয়ে মজিদের কপট চোখ ও ভণ্ড ধার্মিকতার স্থির, অচঞ্চল ও অনমনীয় দৃষ্টিকে বোঝানো হয়েছে। পাথরের চোখ যেমন কোনো আবেগ, দ্বিধা বা সংশয়ে বিচলিত হয় না, তেমনি মজিদ যখন ধর্মবিশ্বাসের মিথ্যা আবরণ তৈরি করে মোদাচ্ছের পীরের মাজারকে কেন্দ্র করে তার অবস্থান গড়ে তোলে, তখন তার দৃষ্টি হয়ে ওঠে অনড় ও সন্দেহাতীত। সাধারণ মানুষের অন্ধ বিশ্বাসকে নিয়ন্ত্রণ ও শোষণ করার এক অটল আত্মবিশ্বাসের প্রতীক হিসেবেই তার চোখকে ‘বিশ্বাসের পাথরে খোদাই’ বলা হয়েছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আবরারের সাথে ‘লালসালু’ উপন্যাসের আক্কাস চরিত্রের সাদৃশ্য রয়েছে।
‘লালসালু’ উপন্যাসে আক্কাস ছিল মহব্বতনগর গ্রামের এক সচেতন ও আধুনিক মনোভাবাপন্ন তরুণ। সে গ্রামের অজ্ঞতা ও কুসংস্কার দূর করে শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়ানোর উদ্দেশ্যে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছিল। কিন্তু ধর্মের ধ্বজাধারী মজিদ ও প্রভাবশালী খালেক ব্যাপারী বুঝতে পারে যে শিক্ষা প্রসারিত হলে তাদের কায়েমি স্বার্থ ও ধর্মের মিথ্যা দাপট বিনষ্ট হবে। ফলে মজিদ ধর্মীয় গোঁড়ামিকে ঢাল করে ও তার দাড়ি না থাকার অজুহাত তুলে আক্কাসের মহৎ উদ্যোগ নস্যাৎ করে এবং তাকে গ্রামছাড়া করতে বাধ্য করে।
উদ্দীপকের আবরারও একইভাবে গ্রামের সাধারণ মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করায় কায়েমি স্বার্থান্বেষী ভূস্বামী ও কথিত গুরুর সম্মিলিত ষড়যন্ত্রের শিকার হয়। অতএব, সমাজ-সচেতনতা ও কুসংস্কারমুক্ত করার চেষ্টার দিক থেকে আবরার চরিত্রটি ‘লালসালু’র আক্কাস চরিত্রের প্রতিচ্ছবি।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“উদ্দীপকের সেলিম উদ্দীন ও জহিরের আঁতাত মূলত খালেক ব্যাপারী ও মজিদের চিরায়ত শোষণের প্রতিচ্ছবি।” — মন্তব্যটি অত্যন্ত যথার্থ ও যৌক্তিক।
‘লালসালু’ উপন্যাসে দেখানো হয়েছে গ্রামীণ সমাজে কীভাবে অর্থনৈতিক-সামাজিক শক্তি এবং ধর্মের ব্যবসায়ী শক্তি পরস্পর যোগসাজশ করে সাধারণ মানুষকে শোষণ করে। খালেক ব্যাপারী গ্রামের বিত্তবান ও মাতব্বর শ্রেণির প্রতিনিধি, আর মজিদ হলো ধর্মকে হাতিয়ার করে ক্ষমতার আসন পোক্ত করা প্রতারক। খালেক ব্যাপারী মজিদের ধর্মীয় অনুমোদন নিয়ে তার জমিদারি ও প্রভাব বিস্তার করে, আর মজিদ খালেক ব্যাপারীর সামাজিক প্রভাবের আশ্রয়ে মাজারের আধিপত্য বজায় রাখে। উভয়ের স্বার্থ অভিন্ন— মানুষকে অজ্ঞ ও শোষিত করে রাখা।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, ভূস্বামী সেলিম উদ্দীন গায়ের জোরে জমি দখল করে পার্থিব ক্ষমতা কায়েম রাখে এবং কথিত গুরু জহির মানুষের ধর্মীয় সরল বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে প্রতারণা করে। আবরার সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে গেলে তারা দুজনে একত্রিত হয়ে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়, যা ‘লালসালু’ উপন্যাসে আক্কাসের স্কুল প্রতিষ্ঠার সময় মজিদ ও খালেক ব্যাপারীর চক্রান্তের সাথে হুবহু মিলে যায়।
সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের ভূস্বামী সেলিম উদ্দীন ও ভণ্ড গুরু জহিরের আঁতাত সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর ‘লালসালু’ উপন্যাসের কায়েমি স্বার্থান্বেষী খালেক ব্যাপারী ও ধর্মব্যবসায়ী মজিদের সম্মিলিত শোষণেরই চিরায়ত প্রতিচ্ছবি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও