গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ১ম পত্র • শহীদ বীর উত্তম লে. আনোয়ার গার্লস কলেজ • শহীদ বীর উত্তম লে. আনোয়ার গার্লস কলেজ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৬
গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
দৃশ্যকল্প- ১: ফাইভ স্টার শেফ মিলন রান্নার ক্লাস নেয়া শেষ করে পোশাকটি প্রতিদিনের মতো আজও ধুতে দিল। তাঁর জামাতে হলুদের দাগ ও চর্বির দাগ ছিল যা বিশেষ উপায়ে ধৌত করে পরিষ্কার করা হলো।
দৃশ্যকল্প - ২ : লাবনীর খেলার সময় জামার নিচের অংশ তিন কোণা আকারে ছিঁড়ে গেল। মা জামাটা বিশেষ উপায়ে সেলাই করে তিন কোণা ছেঁড়া স্থান মেরামত করলেন। এমনকি তিনি নকশা তালি করে নতুন আরেক ডিজাইনও তৈরি করলেন।
- ক)(1)
উদ্ভিজ্জ দাগ কী?
- খ)(2)
মৃদু ও তীব্র অপসারক বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
দৃশ্যকল্প- ১ এ শেফ মিলন তার পোশাকের দাগ দূরীকরণে কী পদ্ধতি অনুসরণ করেছিলেন? পদ্ধতিগুলোর সাধারণ আলোচনা করো।
- ঘ)(4)
দৃশ্যকল্প -২ এ লাবনীর পোশাক সংস্কারের পদ্ধতিগুলো তুলনামূলকভাবে পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বর্ণনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
চা, কফি, ফলমূল, ঘাস, হলুদ প্রভৃতি উদ্ভিদজাত উৎস বা উপাদান থেকে কাপড়ে যে দাগ লাগে, তাকে উদ্ভিজ্জ দাগ বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দাগ অপসারণে যেসব রাসায়নিক পদার্থ বা বিকারক কাপড়ের আঁশের কোনো ক্ষতি না করে মৃদুভাবে দাগ দূর করে (যেমন- লেবুর রস, হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড, বোরাক্স ইত্যাদি) সেগুলোকে মৃদু অপসারক বলে। অন্যদিকে, যেসব বিকারক বা রাসায়নিক পদার্থ অত্যন্ত শক্তিশালী এবং অসাবধানতাবশত ব্যবহারে কাপড়ের তন্তু নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে (যেমন- সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইট বা ব্লিচিং পাউডার, গাঢ় অ্যাসিড ও ক্ষার ইত্যাদি) সেগুলোকে তীব্র অপসারক বলে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-১ এ শেফ মিলন তাঁর পোশাকের হলুদের দাগ ও চর্বির দাগ দূরীকরণে বিশেষ রাসায়নিক অপসারক ও শোষক পদ্ধতি অনুসরণ করেছিলেন।
হলুদের দাগ দূরীকরণ পদ্ধতি: হলুদ হলো উদ্ভিজ্জ রঞ্জকজাতীয় দাগ। হলুদের দাগযুক্ত স্থানে সাধারণত সরাসরি ক্ষারযুক্ত সাবান লাগালে দাগটি লালচে হয়ে স্থায়ী হয়ে যেতে পারে। তাই প্রথমে দাগ লাগা অংশে রোদ দেওয়া হয় এবং ঠান্ডা পানি ও মৃদু ডিটারজেন্ট বা তরল সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেলা হয়। প্রয়োজনবোধে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড বা মৃদু ব্লিচিং দ্রবণ ব্যবহার করে রোদে শুকাতে দিলে হলুদের দাগ দূরীভূত হয়।
চর্বির দাগ দূরীকরণ পদ্ধতি: চর্বি বা তেলের দাগ হলো তৈলাক্ত প্রকৃতির দাগ। এটি দূর করতে প্রধানত দুটি পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়—শোষক পদার্থ ব্যবহার এবং দ্রাবক পদ্ধতি। দাগের ওপর ট্যালকম পাউডার, ম্যাগনেশিয়াম কার্বনেট বা চকের গুঁড়া দিয়ে কিছুক্ষণ চেপে রেখে তেল শুষে নেওয়া হয় (শোষক পদ্ধতি)। এরপর গরম পানি ও সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেলা হয়। এছাড়া বেনজিন, পেট্রোল বা তারপিন তেলের মতো গ্রিজ দ্রাবক ব্যবহার করে কাপড়ের নিচের অংশে ব্লটিং পেপার রেখে দাগ সহজেই দূর করা যায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-২ এ লাবনীর ছেঁড়া পোশাক সংস্কারে মা দুটি পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন: তিন কোণা ছেঁড়া মেরামত (রিফু বা রফুকর্ম) এবং নকশা তালি (অ্যাপ্লিক বা প্যাচওয়ার্ক)। নিম্নে পদ্ধতি দুটির তুলনামূলক আলোচনা করা হলো:
১. তিন কোণা ছেঁড়া মেরামত (রিফু): খেলার সময় কোণাকুণি বা এল-আকৃতির ছেঁড়ায় টানা ও পোড়েন উভয় সুতাই ছিঁড়ে যায়। এই স্থানে মেরামত করতে হলে কাপড়ের রঙের সাথে হুবহু মিল রেখে সুতা দিয়ে সূক্ষ্মভাবে সেলাই করা হয়। ছেঁড়া অংশের দুই প্রান্ত খুব যত্নসহকারে পাশাপাশি এনে টানটান না করে বয়ন নকশা অনুকরণে আড়াআড়ি ও লম্বালম্বিভাবে ছোট ছোট সেলাই দিয়ে জোড়া লাগানো হয়। এটি মূলত কাপড়ের ক্ষতি নিরাময় ও মূল রূপ বজায় রাখার একটি প্রায় অদৃশ্য সংস্কার পদ্ধতি।
২. নকশা তালি (নকশাযুক্ত প্যাচ বা তালি): ছেঁড়া স্থানে সাধারণ সোজা তালির বদলে কোনো ফুল, ফল, জ্যামিতিক নকশা ইত্যাদি কেটে কাপড়ে বসিয়ে বাটনহোল বা সাটিন স্টিচ দিয়ে সেলাই করে আটকানোকে নকশা তালি বলে। এটি কেবল ছেঁড়া স্থান ঢেকে রাখার সংস্কারই করে না, বরং পোশাকের বাহ্যিক সৌন্দর্য বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়ে নতুন ডিজাইনে রূপান্তর করে।
তুলনা: রিফুর মূল উদ্দেশ্য থাকে মেরামতটিকে যতটা সম্ভব প্রচ্ছন্ন ও অদৃশ্য রাখা যাতে কাপড়টি স্বাভাবিক মনে হয়। অপরদিকে নকশা তালির উদ্দেশ্য থাকে মেরামতের দাগ লুকিয়ে একে দৃষ্টিনন্দন সজ্জায় পরিণত করা। কাজেই, দুটি পদ্ধতিই পোশাক সংস্কারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও