অর্থনীতি ২য় পত্র • অর্থায়ন • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৭

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

আতিক একজন মুদি দোকানদার। সেই সাথে সে শেয়ারবাজারে শেয়ার কেনা- বেচাও করে। সে শেয়ারের দাম কমলে শেয়ার কেনে ও দাম বাড়লে শেয়ার বিক্রি করে। এতে আতিক সাহেব লাভবান হতে থাকে এবং তার পুঁজির পরিমাণ বাড়তে থাকে এবং তাকে দেখে অনেকে শেয়ার ব্যবসায় আকৃষ্ট হয়।

  1. ক)

    অর্থায়ন কী?

    (1)
  2. খ)

    শেয়ার ও বন্ড মার্কেটের মধ্যে দুটি প্রধান পার্থক্য লিখ।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত নাফি সাহেবের শেয়ার কোন ধরনের? তার বৈশিষ্ট্য লিখ।

    (3)
  4. ঘ)

    নাফি সাহেবের পুঁজি গঠনে শেয়ারবাজার কীভাবে ভূমিকা রাখে ব্যাখ্যা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-লিখিত অনুমানভিত্তিক উত্তর—ধারণা ও সীমাবদ্ধতা নিচে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি উৎসের যাচাইকৃত মূল উত্তর হিসেবে দাবি করা হচ্ছে না।

    স্পষ্ট অনুমান: উদ্দীপকে উল্লিখিত 'আতিক' এবং (গ) ও (ঘ) প্রশ্নে উল্লিখিত 'নাফি সাহেব' একই ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত।

    তহবিল সংগ্রহ, এর কার্যকর ব্যবস্থাপনা, লাভজনক খাতে বিনিয়োগ এবং মুনাফা বা আয় বণ্টন সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যাবলিকে অর্থায়ন বলে।

  2. খ)

    AI-লিখিত অনুমানভিত্তিক উত্তর—ধারণা ও সীমাবদ্ধতা নিচে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি উৎসের যাচাইকৃত মূল উত্তর হিসেবে দাবি করা হচ্ছে না।

    স্পষ্ট অনুমান: উদ্দীপকে উল্লিখিত 'আতিক' এবং (গ) ও (ঘ) প্রশ্নে উল্লিখিত 'নাফি সাহেব' একই ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত।

    শেয়ার মার্কেট ও বন্ড মার্কেটের মধ্যে দুটি প্রধান পার্থক্য নিম্নরূপ:
    ১. মালিকানা বনাম ঋণ: শেয়ার মার্কেটে বিনিয়োগের মাধ্যমে বিনিয়োগকারী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আংশিক মালিকানা অর্জন করেন; অন্যদিকে বন্ড মার্কেটে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানকে ঋণ প্রদান করেন (অর্থাৎ ঋণদাতা হিসেবে থাকেন)।
    ২. আয়ের প্রকৃতি ও ঝুঁকি: শেয়ারের আয়ের উৎস লভ্যাংশ, যা অনির্দিষ্ট এবং কোম্পানির অর্জিত মুনাফার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এতে ঝুঁকি বেশি; পক্ষান্তরে বন্ডে বিনিয়োগের বিপরীতে নির্দিষ্ট হারে সুদ নিশ্চিতভাবে পাওয়া যায়, যা কোম্পানির লাভ-ক্ষতি নির্বিশেষে প্রদেয় হওয়ায় ঝুঁকি তুলনামূলক কম।

  3. গ)

    AI-লিখিত অনুমানভিত্তিক উত্তর—ধারণা ও সীমাবদ্ধতা নিচে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি উৎসের যাচাইকৃত মূল উত্তর হিসেবে দাবি করা হচ্ছে না।

    স্পষ্ট অনুমান: উদ্দীপকে উল্লিখিত 'আতিক' এবং (গ) ও (ঘ) প্রশ্নে উল্লিখিত 'নাফি সাহেব' একই ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত।

    উদ্দীপকে বর্ণিত চরিত্রটি (আতিক সাহেব/প্রশ্নে উল্লিখিত নাফি সাহেব) শেয়ারবাজারে দামের হ্রাস-বৃদ্ধির ওপর ভিত্তি করে কেনাবেচা করে মুনাফা অর্জন করছেন, যা নির্দেশ করে তিনি 'সাধারণ শেয়ার' (Ordinary / Common Share) কেনাবেচা করছেন।

    সাধারণ শেয়ারের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:
    ১. মূলধনী লাভ ও মূল্যের ওঠানামা: সাধারণ শেয়ার সেকেন্ডারি বাজারে নিয়মিত কেনাবেচা হয় এবং চাহিদা-যোগানের ভিত্তিতে এর বাজারমূল্য ওঠানামা করে, ফলে বিনিয়োগকারী কম দামে কিনে বেশি দামে বিক্রি করে মূলধনী লাভ (capital gain) অর্জন করতে পারেন।
    ২. ভোটাধিকার ও নিয়ন্ত্রণ: সাধারণ শেয়ারের মালিকরা কোম্পানির সাধারণ সভায় ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন এবং পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে কোম্পানির নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখেন।
    ৩. লভ্যাংশের অনিশ্চয়তা: এ শেয়ারে কোনো নির্দিষ্ট বা পূর্বনির্ধারিত হারে লভ্যাংশ দেওয়া হয় না; কোম্পানির পর্যাপ্ত নিট মুনাফা হলে এবং পরিচালনা পর্ষদের সুপারিশক্রমে লভ্যাংশ বণ্টিত হয়।
    ৪. সীমিত দায় ও অবশিষ্ট দাবি: সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের দায় তাঁদের বিনিয়োগকৃত শেয়ার মূল্য দ্বারা সীমাবদ্ধ থাকে। তবে কোম্পানি অবসায়নের সময় বন্ডহোল্ডার ও অগ্রাধিকার শেয়ারহোল্ডারদের দাবি মেটানোর পর অবশিষ্ট সম্পদ থেকে সাধারণ শেয়ারহোল্ডাররা মূলধন ফেরত পান।

  4. ঘ)

    AI-লিখিত অনুমানভিত্তিক উত্তর—ধারণা ও সীমাবদ্ধতা নিচে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি উৎসের যাচাইকৃত মূল উত্তর হিসেবে দাবি করা হচ্ছে না।

    স্পষ্ট অনুমান: উদ্দীপকে উল্লিখিত 'আতিক' এবং (গ) ও (ঘ) প্রশ্নে উল্লিখিত 'নাফি সাহেব' একই ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত।

    নাফি সাহেবের (উদ্দীপকের আতিক সাহেব) ব্যক্তিগত পুঁজি গঠনে শেয়ারবাজার একটি গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর মাধ্যম হিসেবে ভূমিকা রেখেছে।

    অর্থনীতিতে পুঁজি গঠন বলতে সঞ্চিত উদ্বৃত্ত অর্থকে উৎপাদনশীল অর্থনৈতিক প্রক্রিয়ায় বিনিয়োগ করে সম্পদের বৃদ্ধি ঘটানোকে বোঝায়। উদ্দীপকে দেখা যায়, তিনি তাঁর মুদি দোকানের উদ্বৃত্ত বা অলস সঞ্চয়কে অলস ফেলে না রেখে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করেছেন।

    শেয়ারবাজার যেভাবে তাঁর পুঁজি গঠনে ভূমিকা রেখেছে:
    ১. মূলধনী লাভের সুযোগ সৃষ্টি: শেয়ারবাজার এমন একটি সেকেন্ডারি মার্কেট প্রদান করেছে যেখানে শেয়ারের দাম কমলে তিনি ক্রয় করেন এবং দাম বাড়লে বিক্রি করেন। ক্রয়মূল্য ও বিক্রয়মূল্যের এই ব্যবধান থেকে তিনি প্রত্যক্ষ মূলধনী মুনাফা লাভ করেন, যা তাঁর মূল সঞ্চয়ের সাথে যুক্ত হয়ে পুঁজির আকার দ্রুত বৃদ্ধি করেছে।
    ২. তারল্য সুবিধা প্রদান: শেয়ারবাজার বিনিয়োগকারীকে যেকোনো সময় শেয়ার বিক্রি করে নগদ অর্থে রূপান্তরের সুবিধা দেয়। এই তারল্য সুবিধার কারণে তিনি ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করে পুনঃবিনিয়োগের মাধ্যমে পুঁজি চক্রবৃদ্ধি হারে বাড়াতে পেরেছেন।
    ৩. বিকল্প ও বৈচিত্র্যপূর্ণ আয়ের উৎস: শুধু মুদি দোকানের উপার্জনের ওপর সীমাবদ্ধ না থেকে শেয়ারবাজারে সক্রিয় অংশগ্রহণের ফলে তিনি বহুমুখী আয়ের সুযোগ পেয়েছেন, যা তাঁর সামগ্রিক সঞ্চয় ও পুঁজি বহুগুণে সম্প্রসারিত করেছে।
    ৪. বিনিয়োগের নতুন প্রেরণা: তাঁর পুঁজি বৃদ্ধির সাফল্য দেখে অন্যান্য ব্যক্তিরাও শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে আকৃষ্ট হচ্ছে, যা ব্যক্তিপর্যায় ছাড়িয়ে জাতীয় পুঁজি গঠনেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

    অতএব, শেয়ারবাজার গতিশীল বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্ম এবং মুনাফা অর্জনের প্রত্যক্ষ ক্ষেত্র তৈরি করে তাঁর পুঁজি গঠনে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন