‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • পৌরনীতি ও সুশাসন পরিচিতি • গুরুদয়াল সরকারি কলেজ • গুরুদয়াল সরকারি কলেজ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৪

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন

'ক' উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিবে। 'খ' সবেমাত্র একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছে। বাংলা, ইংরেজি ছাড়াও পৌরনীতি ও সুশাসন, অর্থনীতি ও যুক্তিবিদ্যা হলো 'ক' এর পঠিত বিষয়। 'খ' বেছে নিয়েছে সমাজবিজ্ঞান, ইতিহাস ও মনোবিজ্ঞান। 'খ' মনে করে পৌরনীতি ও সুশাসন, অর্থনীতি, যুক্তিবিদ্যা ইত্যাদি একটি অপরটি থেকে সম্পূর্ণ পৃথক। কিন্তু 'ক' তাকে বুঝিয়ে বললো যে, জ্ঞানের এই মূল্যবান শাখাগুলোর মধ্যে যেমন মিল বা সাদৃশ্য রয়েছে, তেমনি অমিল বা পার্থক্যও রয়েছে। জ্ঞানের এই শাখাগুলো পরস্পর পরস্পরের সহায়ক ও পরিপূরক।

  1. ক)

    "ইতিহাস ব্যতীত পৌরনীতি ভিত্তিহীন এবং পৌরনীতি ব্যতীত ইতিহাস মূল্যহীন"- উক্তিটি কার?

    (1)
  2. খ)

    সুশাসন বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    পৌরনীতি ও সুশাসনের সাথে অর্থনীতির সম্পর্ক কতটা ঘনিষ্ঠ ও নিবিড়? 'ক' এর উক্তির আলোকে ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    'জ্ঞানের এই শাখাগুলো পরস্পর পরস্পরের সহায়ক ও পরিপূরক' উদ্দীপকে উল্লিখিত উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "ইতিহাস ব্যতীত পৌরনীতি ভিত্তিহীন এবং পৌরনীতি ব্যতীত ইতিহাস মূল্যহীন"—উক্তিটি বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক জন সিলি (Sir John Seeley)-র।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সুশাসন হলো এমন এক শাসন ব্যবস্থা, যা স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, জনগণের অংশগ্রহণ এবং দক্ষতার ওপর প্রতিষ্ঠিত। সহজ কথায়, যখন শাসন প্রক্রিয়ায় নাগরিক অধিকার নিশ্চিত হয়, দুর্নীতি হ্রাস পায় এবং সরকার জনগণের কল্যাণে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করে, তখন তাকে সুশাসন বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পৌরনীতি ও সুশাসনের সাথে অর্থনীতির সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও নিবিড়, যা উদ্দীপকে 'ক'-এর বক্তব্য থেকে সুস্পষ্ট হয়।

    পৌরনীতি ও সুশাসন নাগরিক জীবন, রাষ্ট্র ও সরকার সংক্রান্ত বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা করে। অন্যদিকে অর্থনীতি মানবজীবনের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, সম্পদ বণ্টন, উৎপাদন ও ভোগ ইত্যাদি বিষয় পর্যালোচনা করে। রাষ্ট্রের নাগরিকদের জীবনের সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে এ দুটি শাখা ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত।

    উদ্দীপকে 'ক' উল্লেখ করেছে যে জ্ঞানের এই মূল্যবান শাখাগুলোর মধ্যে সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য থাকলেও তারা পরস্পরের পরিপূরক। অর্থনৈতিক উন্নয়ন ছাড়া নাগরিকের রাজনৈতিক অধিকার রক্ষা বা কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠন সম্ভব নয়। আবার সুশাসন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উপযুক্ত আইনকানুন ছাড়া অর্থনৈতিক অগ্রগতি অর্জিত হতে পারে না। ফলে পৌরনীতি ও অর্থনীতি একে অপরের হাত ধরে চলে এবং এদের সম্পর্ক নিবিড়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত 'জ্ঞানের এই শাখাগুলো পরস্পর পরস্পরের সহায়ক ও পরিপূরক' উক্তিটি যথার্থ ও যৌক্তিক।

    সামাজিক বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা—যেমন পৌরনীতি ও সুশাসন, সমাজবিজ্ঞান, অর্থনীতি, ইতিহাস, যুক্তিবিদ্যা ও মনোবিজ্ঞান মানুষের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও মানসিক জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে কাজ করে। মানুষের সামগ্রিক জীবনকে বুঝতে হলে এ সকল শাখার সমন্বিত জ্ঞান প্রয়োজন।

    উদ্দীপকে 'খ' বিষয়গুলোকে একটি অপরটি থেকে সম্পূর্ণ পৃথক মনে করলেও 'ক' সঠিকভাবে ব্যাখ্যা করেছে যে এগুলো পরস্পর পরিপূরক। ইতিহাস রাষ্ট্রের অতীত অভিজ্ঞতা ও ক্রমবিকাশ তুলে ধরে, যা পৌরনীতি ও সুশাসনের পথনির্দেশক। অর্থনীতি নাগরিকদের আর্থিক সচ্ছলতা ও রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন নিশ্চিত করে, যা সুশাসনের ভিত্তি। সমাজবিজ্ঞান সমাজ কাঠামোর সামগ্রিক বিশ্লেষণ দেয়, যার ওপর ভিত্তি করে রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে ওঠে। আবার মনোবিজ্ঞান নাগরিকের আচার-আচরণ ও চিন্তাভাবনা ব্যাখ্যা করে এবং যুক্তিবিদ্যা নিয়মতান্ত্রিক ও যুক্তিসঙ্গত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সাহায্য করে।

    অতএব, দেখা যায় যে জ্ঞানের এ শাখাগুলোর পরিধি ও আলোচ্য বিষয়ে কিছুটা পার্থক্য থাকলেও মানবকল্যাণ ও সুষ্ঠু সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যে তারা একটি অপরটির ওপর নির্ভরশীল এবং পরস্পরের সহায়ক ও পরিপূরক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন