পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ (১৯৪৭-১৯৭১) • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২১
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
নভেম্বর মাসের ১০ তারিখ মতিন স্যার তার ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিলেন, ৯০'র দশকে নূর হোসেন তার বুকে ও পিঠে স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তির পাক ' লিখে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের মিছিলে অংশ নেওয়ায় তৎকালীন স্বৈরাচারকের পেটুয়া বাহিনীর হাতে নিহত হন। ফলে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের তীব্রতায় স্বৈরাচারের পতন হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পূর্বেও একই ধরনের আন্দোলন হয়েছিল। অপরদিকে ৭ মার্চ শম্পা ম্যাডাম স্ট্যাটাস দিলেন, " এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। "
- ক)(1)
মুজিবনগর সরকার কোথায় গঠিত হয়?
- খ)(2)
৬ দফাকে বাঙালির ম্যাগনাকার্টা বলা হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত মতিন স্যারের দেওয়া স্ট্যাটাসের সাথে তোমার পাঠকের কোন ঘটনার মিল আছে? তা ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
শম্পা ম্যাডামের দেওয়া স্ট্যাটাসের উক্তির সাথে যে মহান নেতার নাম জড়িত স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় তার অবদান মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলার (বর্তমান মুজিবনগর) ভবেরপাড়া গ্রামের এক আমবাগানে আনুষ্ঠানিকভাবে মুজিবনগর সরকার গঠিত হয় এবং ১৭ এপ্রিল এই সরকার শপথ গ্রহণ করে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১২১৫ সালে ইংল্যান্ডের রাজা জন জনগণের মৌলিক অধিকারের স্বীকৃতিস্বরূপ 'ম্যাগনাকার্টা' সনদে স্বাক্ষর করেছিলেন। একইভাবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালে বাঙালির রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্বাধিকারের মূল দাবি হিসেবে ৬ দফা কর্মসূচি পেশ করেন। এই দাবিনামার মাধ্যমেই বাঙালি জাতি শোষণ ও বঞ্চনা থেকে মুক্তির দিশা খুঁজে পায় এবং স্বাধিকার আন্দোলনের চূড়ান্ত ভিত্তি রচিত হয়। বাঙালির অধিকারের মুক্তির সনদ হওয়ায় ৬ দফাকে বাঙালির 'ম্যাগনাকার্টা' বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে মতিন স্যারের দেওয়া স্ট্যাটাসের সাথে পাঠ্যবইয়ের ১৯৬৯ সালের ঐতিহাসিক 'গণঅভ্যুত্থান'-এর মিল রয়েছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে বুকে-পিঠে স্লোগান লিখে নূর হোসেন আত্মাহুতি দেন, যা তীব্র আন্দোলনের রূপ নিয়ে অবশেষে স্বৈরশাসকের পতন ঘটায়। বাংলাদেশের ইতিহাসেও ১৯৬৯ সালে আইয়ুব খানের স্বৈরশাসন ও আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার বিরুদ্ধে সর্বস্তরের মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। ২০ জানুয়ারি ছাত্রনেতা আসাদুজ্জামান আসাদ এবং পরবর্তীতে সার্জেন্ট জহুরুল হক ও ড. শামসুজ্জোহার মতো ব্যক্তিবর্গের আত্মত্যাগে আন্দোলনটি গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। নূর হোসেনের আত্মত্যাগের মতো আসাদ ও অন্যদের আত্মাহুতি আইয়ুব সরকারের ভিত নাড়িয়ে দেয় এবং স্বৈরশাসক আইয়ুব খান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। অতএব, উদ্দীপকের স্বৈরাচার বিরোধী রক্তক্ষয়ী আন্দোলনটি ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের ঘটনার সাথে গভীরভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শম্পা ম্যাডামের ফেসবুক স্ট্যাটাসে উদ্ধৃত "এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম"—ঐতিহাসিক এই উক্তির সাথে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম জড়িত। স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান ছিল অবিসংবাদিত।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই বাঙালির অধিকার আদায়ের প্রতিটি ধাপে নেতৃত্ব দেন। ১৯৪৮-৫২ এর ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন এবং ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে তিনি ছিলেন অগ্রণী ভূমিকায়। ১৯৬৬ সালে তিনি বাঙালির মুক্তির সনদ ঐতিহাসিক ৬ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন, যা বাঙালিদের স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী তাঁকে স্তব্ধ করতে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দিলেও ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনতা তাঁকে মুক্ত করে 'বঙ্গবন্ধু' উপাধিতে ভূষিত করে।
১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তরে গড়িমসি করলে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে তিনি ঐতিহাসিক ভাষণের মাধ্যমে স্বাধীনতার ডাক দেন এবং বাঙালিকে ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলার নির্দেশ দেন। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর আক্রমণ চালালে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। তাঁর আহ্বানে ও নেতৃত্বে দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বিশ্ব মানচিত্রে একটি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্ম হয়। সুতরাং, স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান চিরভাস্বর।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও