উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র • উৎপাদনের উপকরণ • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫
উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র প্রশ্ন
হামিদ মিয়া একজন গরিব চাষি। তিনি স্ত্রী ও ৫ সন্তান নিয়ে কোনো রকমে দিনাতিপাত করতেন। পরবর্তীতে তিন ছেলেকে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত করে মধ্যপ্রাচ্যের তিনটি দেশে প্রেরণ করেন। দক্ষ হওয়ায় তারা ভালো বেতনের কাজ পায়। ফলে তারা প্রচুর অর্থ দেশে প্রেরণ করে। বর্তমানে হামিদ মিয়ার সংসারে বেশ সচ্ছলতা ফিরে এসেছে। তিনি এখন পাকা বাড়ি ও একটি গাড়ি ক্রয়ের কথা ভাবছেন।
- ক)(1)
উৎপাদনের উপকরণ কী?
- খ)(2)
মূলধন উৎপাদনের উৎপাদিত উপাদান- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
হামিদ মিয়া কোন ধরনের শ্রমের সাথে যুক্ত ছিলেন? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
"শ্রম গতিশীলতাই হামিদ মিয়ার সচ্ছলতার মূল কারণ"- শ্রম গতিশীলতার ধরন উল্লেখপূর্বক এর যৌক্তিকতা মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো পণ্য বা সেবা উৎপাদনের কাজে যেসব উপাদান বা উপকরণ ব্যবহৃত হয়, সেগুলোকে উৎপাদনের উপকরণ বলে (যেমন: ভূমি, শ্রম, মূলধন ও সংগঠন)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মানুষের শ্রম দ্বারা অতীতে উৎপাদিত যে অংশ সরাসরি ভোগ না করে ভবিষ্যৎ পণ্য বা সেবা উৎপাদনে নিয়োজিত করা হয়, তাকে মূলধন বলে।
মূলধন প্রকৃতির মুক্ত বা আদি উপাদান নয়; বরং তা মানুষ কর্তৃক পূর্বে উৎপাদিত কোনো দ্রব্য (যেমন: যন্ত্রপাতি, কলকারখানা, কাঁচামাল ইত্যাদি)। এই উৎপাদিত উপাদানটি পুনরায় নতুন উৎপাদন প্রক্রিয়ায় নিয়োজিত হয়ে অতিরিক্ত উপযোগ ও পণ্য উৎপাদন করে। তাই মূলধনকে 'উৎপাদনের উৎপাদিত উপাদান' বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হামিদ মিয়া শারীরিক বা কায়িক শ্রমের সাথে যুক্ত ছিলেন।
উৎপাদন প্রক্রিয়ায় মানুষের যে শারীরিক শক্তি, মেধা ও সময় ব্যয় করা হয়, তাকে শ্রম বলে। শ্রম মূলত দুই প্রকার—শারীরিক বা কায়িক শ্রম এবং মানসিক শ্রম। যে শ্রমে মেধার চেয়ে কায়িক বা দৈহিক পরিশ্রম বেশি প্রয়োজন হয়, তাকে শারীরিক বা কায়িক শ্রম বলে।
উদ্দীপকে হামিদ মিয়া একজন গরিব চাষি ছিলেন। কৃষি জমিতে চাষাবাদ, ফসল ফলানো ও খেতমজুরির কাজে মূলত দৈহিক শক্তি ও কায়িক পরিশ্রম প্রধান ভূমিকা পালন করে। তিনি কোনো মেধাভিত্তিক বা প্রাতিষ্ঠানিক কারিগরি পেশায় ছিলেন না, বরং দিনমজুর ও চাষি হিসেবে কঠোর কায়িক শ্রম দিয়ে কোনো রকমে দিনাতিপাত করতেন। তাই তিনি শারীরিক বা কায়িক শ্রমের সাথে যুক্ত ছিলেন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"শ্রম গতিশীলতাই হামিদ মিয়ার সচ্ছলতার মূল কারণ"—উক্তিটি যথার্থ এবং যৌক্তিক। নিম্নে শ্রম গতিশীলতার ধরন উল্লেখপূর্বক তা মূল্যায়ন করা হলো:
শ্রমিকের এক কাজ থেকে অন্য কাজে, এক শিল্প থেকে অন্য শিল্পে, কিংবা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তরিত হওয়ার ক্ষমতা বা প্রক্রিয়াকে শ্রমের গতিশীলতা বলে। শ্রমের গতিশীলতা প্রধানত ভৌগোলিক, পেশাগত ও পর্যায়গত হতে পারে।
উদ্দীপকে হামিদ মিয়ার তিন ছেলের ক্ষেত্রে মূলত দুই ধরনের গতিশীলতা প্রতিফলিত হয়েছে:
১. পেশাগত গতিশীলতা: ছেলেরা বাবার মতো গতানুগতিক অপ্রশিক্ষিত কৃষিশ্রমিক না হয়ে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দক্ষ শ্রমিক হিসেবে নতুন পেশায় নিযুক্ত হয়েছে।
২. ভৌগোলিক বা আন্তর্জাতিক গতিশীলতা: তারা নিজ দেশ ত্যাগ করে মধ্যপ্রাচ্যের তিনটি ভিন্ন দেশে গমন করেছে এবং সেখানে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে।দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে তারা উপযুক্ত ও ভালো বেতনের চাকরি পেয়েছে। এই শ্রম গতিশীলতার ফলে তারা উপার্জিত প্রচুর অর্থ রেমিট্যান্স আকারে দেশে পাঠাতে সক্ষম হয়েছে। এই অর্থের প্রবাহই হামিদ মিয়ার পরিবারের দারিদ্র্য দূর করে সচ্ছলতা এনে দিয়েছে, যার ফলে তিনি এখন পাকা বাড়ি নির্মাণ ও গাড়ি কেনার পরিকল্পনা করছেন। অতএব, শ্রমের এ বহুমুখী গতিশীলতাই হামিদ মিয়ার অর্থনৈতিক পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও