মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬

মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

দৃশ্যকল্প-১: সজিব স্যার তাঁর ক্লাসে শিক্ষণ নিয়ে আলোচনা করার সময় বলেন — সুনির্দিষ্ট প্রেষণা, পূর্ব পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি ছাড়াও আমরা অনেক সময় শিক্ষা লাভ করে থাকি।

  1. ক)

    বিস্মৃতি কী?

    (1)
  2. খ)

    বলবর্ধক শিক্ষণের জন্য অপরিহার্য কেন?

    (2)
  3. গ)

    দৃশ্যকল্প-১ এ সজিব স্যার কোন ধরনের শিক্ষণের কথা বলেছেন? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    দৃশ্যকল্প-২ এ স্মৃতির উপাদান হিসেবে ‘খ’ ও ‘গ’ কে শনাক্ত কর এবং বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পূর্বে অর্জিত কোনো অভিজ্ঞতা বা শিক্ষণকে প্রয়োজনবোধে মনে করতে বা পুনরুৎপাদন করতে ব্যর্থ হওয়াকে বিস্মৃতি (Forgetting) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বলবর্ধক (Reinforcement) হলো এমন কোনো উদ্দীপক বা ঘটনা যা কোনো প্রতিক্রিয়া বা আচরণের পুনরাবৃত্তির সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে দেয়। অপারেন্ট বা করণ শিক্ষণে প্রাণীর আচরণকে কাঙ্ক্ষিত রূপ দিতে বা শিক্ষণকে স্থায়ী করতে বলবর্ধক অপরিহার্য। বলবর্ধন না পেলে প্রাণীর প্রতিক্রিয়া ক্রমান্বয়ে বিলুপ্ত হয়ে যায়, তাই শিক্ষণ প্রক্রিয়াকে কার্যকর ও ফলপ্রসূ রাখতে বলবর্ধক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যকল্প-১ এ সজিব স্যার 'সুপ্ত শিক্ষণ' (Latent Learning)-এর কথা বলেছেন।

    যে শিক্ষণে প্রত্যক্ষ কোনো বলবর্ধন, সুনির্দিষ্ট প্রেষণা, পূর্ব পরিকল্পনা বা সচেতন প্রস্তুতি থাকে না এবং যা আচরণের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ না পেয়ে সুপ্ত অবস্থায় থাকে, তাকে সুপ্ত শিক্ষণ বলে। এডওয়ার্ড টলম্যান (Edward Tolman) ইঁদুরের ওপর গোলকধাঁধার পরীক্ষা চালিয়ে এ ধারণার প্রবর্তন করেন।

    উদ্দীপকে সজিব স্যার উল্লেখ করেছেন যে, সুনির্দিষ্ট প্রেষণা, পূর্ব পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি ছাড়াও মানুষ অনেক সময় শিক্ষা লাভ করে। এটি সরাসরি সুপ্ত শিক্ষণের বৈশিষ্ট্যকে নির্দেশ করে। দৈনন্দিন জীবনে আমরা অনেক সময় কোনো উদ্দেশ্য ছাড়াই পরিবেশ থেকে নানা তথ্য বা কৌশল অবচেতনভাবে শিখে ফেলি, যা উপযুক্ত প্রেষণা বা পুরস্কার পেলে আচরণের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। অতএব, এটি সুপ্ত শিক্ষণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যকল্প-২ এর ছকে স্মৃতির উপাদানের ক্রমানুসারে 'খ' হলো 'ধারণ' বা 'সংরক্ষণ' (Retention) এবং 'গ' হলো 'পুনরুদ্রেক' (Recall)।

    মনোবিজ্ঞানীদের মতে, স্মৃতির প্রধান উপাদানগুলো সাধারণত ক্রমান্বয়ে সাজানো থাকে: (১) শিক্ষণ (Learning), (২) ধারণ বা সংরক্ষণ (Retention), (৩) পুনরুদ্রেক (Recall), (৪) প্রত্যাভিজ্ঞা (Recognition) এবং (৫) স্থান-কাল নির্দেশ (Localization)। ছকে শিক্ষণ-এর পরে এবং প্রত্যাভিজ্ঞার পূর্বে 'খ' ও 'গ' নির্দেশিত হয়েছে।

    এদের বিশ্লেষণ নিচে দেওয়া হলো:

    ১. ধারণ বা সংরক্ষণ (Retention): শিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত অভিজ্ঞতাকে মস্তিষ্কে সঞ্চিত বা ধরে রাখাকে সংরক্ষণ বলে। শিক্ষণ সংঘটিত হওয়ার পর স্নায়ুতন্ত্রে স্মৃতিচিহ্ন (Memory trace বা Engram) হিসেবে তথ্যগুলো সংরক্ষিত থাকে। উপযুক্তভাবে সংরক্ষণ না হলে স্মৃতি স্থায়ী হয় না।

    ২. পুনরুদ্রেক (Recall): সংরক্ষিত অভিজ্ঞতা বা তথ্যকে উদ্দীপকের অনুপস্থিতিতে মনের মধ্যে পুনরায় জাগিয়ে তোলা বা স্মরণ করাকে পুনরুদ্রেক বলে। যেমন— কোনো প্রশ্নের উত্তর স্মৃতি থেকে মনে করে লিখে দেওয়া।

    পরিশেষে, স্মৃতির প্রক্রিয়া সফল হতে হলে শিক্ষণের পর তা মস্তিষ্কে 'ধারণ' (খ) হতে হবে এবং পরবর্তীতে প্রয়োজনের সময় তা সঠিকভাবে 'পুনরুদ্রেক' (গ) করতে হবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন