ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • খুলাফায়ে রাশেদিন (৬৩২-৬৬১ খ্রি.) • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন
ঘটনা-১ : হাজী কমর উদ্দিন জনগণের সমর্থনে 'ক' রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে তিনি কিছু সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেন। এদের সকলেই যোগ্য হলেও তারা ছিলেন কমর উদ্দিন সাহেবের নিকটাত্মীয়। ফলে কিছুদিনের মধ্যে জনসাধারণের একটি অংশ তাঁর বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি, কোষাগারের অর্থ আত্মসাৎ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারসহ বেশ কিছু অভিযোগ উত্থাপন করে। এমনকি তাঁর বিরুদ্ধে কোরআন পোড়ানোর অভিযোগও আনা হয়।
ঘটনা-২ : আফগানিস্তানের স্বৈরাচারী শাসক নজিবুল্লাহ বুরহান উদ্দিন রব্বানীকে হুমকি মনে করে নির্বাসনে যেতে বাধ্য করেন। কেননা জনাব রব্বানী গণতান্ত্রিক অধিকার ও মানবাধিকার রক্ষার জন্য জনগণকে সুসংগঠিত করে আন্দোলনের ডাক দেন।
- ক)(1)
আল-ফারুক শব্দের অর্থ কী?
- খ)(2)
কোন খলিফাকে 'যুননুরাইন' বলা হতো এবং কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতির সাথে ওসমান (রা.)-এর জীবনের কোন ঘটনার মিল পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
বুরহান উদ্দিন রব্বানীর কর্মকাণ্ডের সাথে আবুজর-আল-গিফারির জীবন ও কর্মকাণ্ডের তুলনামূলক বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'আল-ফারুক' শব্দের অর্থ সত্য ও মিথ্যার পার্থক্যকারী। এটি ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর (রা.)-এর উপাধি।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ইসলামের তৃতীয় খলিফা হযরত ওসমান (রা.)-কে 'যুননুরাইন' বা 'দুই জ্যোতির অধিকারী' বলা হতো। কারণ তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দুই কন্যাকে একের পর এক বিয়ে করার সৌভাগ্য অর্জন করেছিলেন; প্রথমে রুকাইয়্যাহ (রা.) এবং তাঁর মৃত্যুর পর উম্মে কুলসুম (রা.)-কে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি হাজী কমর উদ্দিনের সাথে ইসলামের তৃতীয় খলিফা হযরত ওসমান (রা.)-এর শাসনামলের শেষার্ধে তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অমূলক অভিযোগসমূহের মিল পাওয়া যায়।
হযরত ওসমান (রা.) ছিলেন অত্যন্ত উদার ও কোমল হৃদয়ের মানুষ। তিনি তাঁর শাসনামলে দক্ষতার ভিত্তিতে প্রশাসনিক পদে কিছু নিকটাত্মীয়কে (উমাইয়া বংশের) নিয়োগ দিয়েছিলেন, যা বিদ্রোহীদের দ্বারা স্বজনপ্রীতি হিসেবে অপপ্রচারিত হয়। এছাড়া কুরআন সংকলনের পর বিভিন্ন অঞ্চলের পাঠভেদ দূর করার জন্য প্রামাণ্য প্রতিলিপি রেখে অবশিষ্ট পাঠভেদযুক্ত অনুলিপিগুলো ভস্মীভূত করলে বিদ্রোহীরা তাঁর বিরুদ্ধে 'কুরআন পোড়ানোর' মিথ্যা অপবাদ আরোপ করে। কোষাগারের অর্থ অপচয়ের অভিযোগও আনা হয়।
উদ্দীপকের হাজী কমর উদ্দিন যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া সত্ত্বেও আত্মীয় হওয়ায় স্বজনপ্রীতি, কোষাগারের অর্থ আত্মসাৎ এবং কুরআন পোড়ানোর মতো মিথ্যা অভিযোগের মুখোমুখি হন, যা খলিফা হযরত ওসমান (রা.)-এর বিরুদ্ধে বিদ্রোহীদের চক্রান্তমূলক অভিযোগের হুবহু প্রতিচ্ছবি।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের বুরহান উদ্দিন রব্বানীর কর্মকাণ্ডের সাথে মহান সাহাবি হযরত আবু যর গিফারি (রা.)-এর জীবনের অন্যায়ের প্রতিবাদ ও সামাজিক ন্যায়ের সংগ্রামের স্পষ্ট সাদৃশ্য রয়েছে।
হযরত আবু যর গিফারি (রা.) ছিলেন অত্যন্ত সাধক, পরহেজগার ও অনাড়ম্বর জীবনের অধিকারী একজন মহান সাহাবি। উমাইয়াদের ধন-সম্পদের প্রাচুর্য, বিলাসিতা এবং অতিরিক্ত সম্পদ পুঞ্জীভূতকরণের বিরুদ্ধে তিনি কুরআনের আয়াতের আলোকে সোচ্চার হন। তিনি জোর দিয়ে বলতেন যে অতিরিক্ত উদ্বৃত্ত অর্থ দরিদ্রদের মাঝে বণ্টন করে দেওয়া আবশ্যক। তাঁর এই স্পষ্টবাদী অবস্থান এবং তৎকালীন ধনী ও শাসক শ্রেণির সমালোচনা দামেস্কের গভর্নর মুয়াবিয়া (রা.)-এর জন্য রাজনৈতিক অস্বস্তির সৃষ্টি করে। ফলে খলিফা ওসমান (রা.)-এর নির্দেশে তাঁকে মদিনায় এবং পরবর্তীতে রিবজাহ নামক নির্জন স্থানে নির্বাসনে পাঠানো হয়, যেখানে তিনি আমৃত্যু নিঃসঙ্গ ও অনাড়ম্বর জীবনযাপন করেন।
উদ্দীপকের বুরহান উদ্দিন রব্বানীও স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে জনগণের গণতান্ত্রিক ও মানবাধিকার রক্ষার দাবি তোলায় তৎকালীন স্বৈরশাসক নজিবুল্লাহর রোষানলে পড়ে নির্বাসিত হতে বাধ্য হন।
তুলনামূলকভাবে বলা যায়, উভয়েই শাসকগোষ্ঠীর ক্ষমতার দাপট বা আর্থিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে নীতি ও আদর্শের ভিত্তিতে প্রতিবাদী ভূমিকা পালন করেন। আবু যর গিফারি (রা.)-এর প্রতিবাদ ছিল ধর্মীয় ও সামাজিক সাম্যবাদ প্রতিষ্ঠার আধ্যাত্মিক সংগ্রাম, আর রব্বানীর সংগ্রাম ছিল আধুনিক রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার আন্দোলন। কিন্তু সত্যের পক্ষে আপসহীন অবস্থান এবং এর পরিণামে নির্বাসনের নির্মম শিকার হওয়ার দিক থেকে উভয়ের কর্মকাণ্ডে গভীর ভাবগত ঐক্য রয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও