ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬
ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন
সকালে হাঁটার সময় মিনহাজ রাস্তার উপর কোনো পাথরের টুকরো, কলার খোসা পড়ে থাকতে দেখলে রাস্তা থেকে সরিয়ে দেয়। অন্যদিকে মাসুদ অফিসে যাওয়ার সময় তার বন্ধুর সাথে দেখা হলে পারস্পরিক কথাবার্তায় গালিগালাজ করে এবং অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করে।
- ক)(1)
মুনাফিক (مُنَافِقٌ) অর্থ কী?
- খ)(2)
“তোমার ভাইকে সাহায্য কর সে অত্যাচারী হোক বা অত্যাচারিত হোক”—ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত মিনহাজের কর্মকাণ্ডে কী প্রকাশ পেয়েছে? হাদীসের আলোকে ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
হাদীসের আলোকে মাসুদের কর্মের পরিণতি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'মুনাফিক' (مُنَافِقٌ) শব্দের অর্থ কপট ব্যক্তি বা ভণ্ড, যে মুখে বিশ্বাস প্রকাশ করে কিন্তু অন্তরে অবিশ্বাস ও কুফর গোপন রাখে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হাদিসে বলা হয়েছে: "তোমার ভাইকে সাহায্য কর, সে অত্যাচারী হোক বা অত্যাচারিত হোক" (সহিহ বুখারি)।
সাহাবিগণ প্রশ্ন করেছিলেন, "হে আল্লাহর রাসুল! অত্যাচারিতকে সাহায্য করা তো বোধগম্য, কিন্তু অত্যাচারীকে কীভাবে সাহায্য করব?" রাসুলুল্লাহ (সা.) উত্তরে বললেন, "তাকে জুলুম ও অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখার মাধ্যমে সাহায্য করবে। আর এটিই তাকে সাহায্য করা।" অর্থাৎ অত্যাচারিতকে তার প্রাপ্য অধিকার ফিরিয়ে দিয়ে রক্ষা করতে হবে, আর অত্যাচারীকে অন্যায় কাজ থেকে বাধা প্রদান করে পাপ ও আল্লাহর শাস্তি থেকে রক্ষা করতে হবে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে মিনহাজের কর্মকাণ্ডে ঈমানের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা এবং সদকার সওয়াব অর্জনের আমল প্রকাশ পেয়েছে।
ইসলামে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং জনকল্যাণমূলক কাজের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পথচারীদের চলাচলের রাস্তা কষ্টদায়ক বস্তু থেকে মুক্ত রাখা ঈমানের পরিচায়ক। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: "ঈমানের সত্তরেরও অধিক শাখা রয়েছে, যার মধ্যে সর্বোচ্চ হলো 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলা এবং সর্বনিম্ন শাখা হলো রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেলা" (সহিহ মুসলিম)। এছাড়া অন্য হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন: "পথ থেকে কষ্টদায়ক বস্তু দূর করা একটি সদকা" (সহিহ বুখারি ও মুসলিম)।
উদ্দীপকে মিনহাজ সকালে হাঁটার সময় রাস্তায় পড়ে থাকা পাথরের টুকরো ও কলার খোসা সরিয়ে দেয়, যা পথচারীদের আঘাত বা পিছলে পড়ার হাত থেকে রক্ষা করে। এটি সরাসরি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর উপর্যুক্ত হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী একটি উত্তম ইবাদত ও ঈমানের বহিঃপ্রকাশ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হাদীসের আলোকে মাসুদের গালিগালাজ ও অশ্লীল ভাষা ব্যবহারের পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ ও পাপের কারণ।
ইসলামে মানুষের সাথে সুন্দর ও মার্জিত ভাষায় কথা বলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অশ্লীল কথা বলা, কটূক্তি করা এবং কাউকে গালি দেওয়া কবিরা গুনাহ ও ফাসেকির লক্ষণ। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: "কোনো মুসলিমকে গালি দেওয়া ফাসেকি (পাপাচার) এবং তাকে হত্যা করা কুফরি" (সহিহ বুখারি ও মুসলিম)। অন্য একটি হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন: "মুমিন কখনো খোঁটাদানকারী, অভিশাপকারী, অশ্লীলভাষী ও গালিগালাজকারী হতে পারে না" (তিরমিযী)।
উদ্দীপকে মাসুদ অফিসে যাওয়ার পথে বন্ধুর সাথে দেখা হলে গালিগালাজ করে এবং অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করে। এটি একজন প্রকৃত মুমিনের চরিত্রের সম্পূর্ণ বিপরীত। রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও সতর্ক করেছেন যে, কিয়ামতের দিন মিজানের পাল্লায় সচ্চরিত্রের চেয়ে ভারী আর কিছু হবে না এবং মহান আল্লাহ অশ্লীল ও মন্দভাষীকে ঘৃণা করেন। মুখের অসংযত ভাষা মানুষকে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত করার অন্যতম প্রধান কারণ। অতএব, হাদীসের আলোকে মাসুদের এই ধরনের আচরণের চূড়ান্ত পরিণতি হলো আল্লাহর অসন্তুষ্টি অর্জন, নিজের নেক আমল বিনষ্ট করা এবং পরকালে জাহান্নামের আজাব ভোগ করা।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও