ইতিহাস ১ম পত্র • বাংলায় ইংরেজ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬
ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন
১৪৯২ খ্রিষ্টাব্দে আরাগণের রাজা ফার্দিনান্দ ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সুলতান আবু আব্দুল্লাহকে পরাজিত করে গ্রানাডা অধিকার করেন। সুলতানের পারিবারিক কলহ ও ষড়যন্ত্র তার পরাজয়কে ত্বরান্বিত করে। ইউরোপের ইতিহাসে এই ঘটনা একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ। এর মধ্য দিয়ে গ্রানাডায় নাসরি বংশের পতন ঘটে এবং ৮০০ বছরের মুসলিম শাসনের চূড়ান্ত অবসান ঘটে।
- ক)(1)
পলাশী কোন নদীর তীরে অবস্থিত?
- খ)(2)
ইঙ্গ-ফরাসি দ্বন্দ্বে ফরাসিরা কেন ব্যর্থ হয়েছিল?
- গ)(3)
উদ্দীপকের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন ঘটনার সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
তুমি কি মনে কর উক্ত যুদ্ধের ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী? পাঠ্যবইয়ের আলোকে মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পলাশী ভাগীরথী নদীর তীরে অবস্থিত।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ইঙ্গ-ফরাসি দ্বন্দ্বে ফরাসিরা প্রধানত তাদের নৌবাহিনীর দুর্বলতা, আর্থিক সংকট এবং ফরাসি সরকারের উদাসীনতার কারণে ব্যর্থ হয়েছিল। ব্রিটিশদের তুলনায় তাদের বাণিজ্যিক অবস্থা শক্তিশালী ছিল না। এছাড়া ফরাসি সেনাপতিদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়ার অভাব ও অভ্যন্তরীণ বিরোধ ছিল, অন্যদিকে ব্রিটিশদের ছিল শক্তিশালী নৌবাহিনী ও বিচক্ষণ নেতৃত্ব।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সাথে পাঠ্যবইয়ের ১৭৫৭ সালের ঐতিহাসিক 'পলাশীর যুদ্ধ'-এর সাদৃশ্য রয়েছে।
পলাশীর যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলার প্রধান সেনাপতি মীর জাফর, ঘসেটি বেগম ও দরবারের অন্যান্য প্রভাবশালী ব্যক্তিদের পারিবারিক কলহ, উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও বিশ্বাসঘাতকতার কারণে নবাব ইংরেজদের কাছে পরাজিত হন। একইভাবে উদ্দীপকে আরাগণের রাজা ফার্দিনান্দ ষড়যন্ত্র ও সুলতান আবু আব্দুল্লাহর পারিবারিক বিরোধের সুযোগ নিয়ে সুলতানকে পরাজিত করেন এবং গ্রানাডা অধিকার করেন। উভয় ঘটনার মূলে ছিল অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্র, বিশ্বাসঘাতকতা এবং স্বজনদের বিরোধ, যার ফলে মুসলিম শাসনের অবসান বা অবনমন ঘটেছিল। অতএব উদ্দীপকটি পলাশীর যুদ্ধের ঘটনার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, আমি মনে করি পলাশীর যুদ্ধের ফলাফল ছিল অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী।
পলাশীর যুদ্ধের ফলে বাংলায় স্বাধীন নবাবী শাসনের অবসান ঘটে এবং ভারতবর্ষে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির রাজনৈতিক আধিপত্যের সূচনা হয়। নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের মাধ্যমে শুরু হয় ইংরেজদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ শাসন। বিজয়ী ইংরেজরা একের পর এক পুতুল নবাব বসিয়ে বিপুল অর্থ ও সম্পদ নিজেদের দেশে পাচার করে, যা পরবর্তীতে ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবকে ত্বরান্বিত করে কিন্তু বাংলাকে অর্থনৈতিকভাবে ধ্বংস করে দেয়।
রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে, পলাশীর যুদ্ধ ছিল ভারতবর্ষে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার প্রথম ধাপ। এর সাফল্যের পথ ধরেই পরবর্তীকালে বক্সারের যুদ্ধ এবং অন্যান্য রাজ্য জয়ের মাধ্যমে ইংরেজরা সমগ্র ভারত উপমহাদেশে প্রায় দুইশত বছরের শাসন ও শোষণের ভিত্তি স্থাপন করতে সক্ষম হয়। অতএব, পলাশীর যুদ্ধের প্রভাব কেবল বাংলার জন্যই নয়, সমগ্র ভারতবর্ষের ইতিহাসের প্রেক্ষাপটেই ছিল সুদূরপ্রসারী ও গভীর।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও