‍অর্থনীতি ১ম পত্র • ভোক্তা ও উৎপাদকের আচরণ • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২১

‍অর্থনীতি ১ম পত্র প্রশ্ন

নিচের চাহিদা সূচি লক্ষ করো ও সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের উত্তর দাও:

  1. ক)

    উপযোগ কী?

    (1)
  2. খ)

    গিফেন দ্রব্যের ক্ষেত্রে চাহিদা রেখা ঊর্ধ্বমুখী হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের আলোকে চাহিদা রেখা অঙ্কন করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের আলোকে স্থিতিস্থাপকতা নির্ণয়পূর্বক দ্রব্যের প্রকৃতি বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সাধারণভাবে উপযোগ বলতে কোনো দ্রব্যের মানুষের অভাব মেটানোর ক্ষমতাকে বোঝায়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    গিফেন দ্রব্য হলো অতি নিকৃষ্ট প্রকৃতির দ্রব্য, যার ক্ষেত্রে স্বাভাবিক চাহিদা বিধির বিপরীত চিত্র দেখা যায়। অর্থাৎ, গিফেন দ্রব্যের ক্ষেত্রে দাম বাড়লে চাহিদা বাড়ে এবং দাম কমলে চাহিদা কমে।

    যেহেতু গিফেন দ্রব্যের ক্ষেত্রে দাম ও চাহিদার পরিমাণের মধ্যে সমমুখী বা প্রত্যক্ষ সম্পর্ক বিদ্যমান থাকে, তাই দাম ও চাহিদার এই ধনাত্মক সম্পর্কের কারণে গিফেন দ্রব্যের চাহিদা রেখা বাম থেকে ডানে ঊর্ধ্বমুখী হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে প্রদত্ত চাহিদা সূচি নিচে দেওয়া হলো:

    দাম (P) টাকাচাহিদার পরিমাণ (Q) একক
    ১০২০০
    ১৫১৫০

    চাহিদা রেখা অঙ্কন ও বিবরণ:

    ১. অক্ষ নির্ধারণ: একটি দ্বি-মাত্রিক কার্তেসীয় তলে ভূমি অক্ষে (OX) চাহিদার পরিমাণ (একক) এবং লম্ব অক্ষে (OY) দ্রব্যের দাম (টাকা) নির্দেশ করি।

    ২. বিন্দু স্থাপন:

    • যখন দ্রব্যের দাম ১০ টাকা, তখন চাহিদার পরিমাণ ২০০ একক। দাম ১০ ও চাহিদা ২০০ একক নির্দেশক বিন্দুটি ধরি 'A'।
    • যখন দ্রব্যের দাম বৃদ্ধি পেয়ে ১৫ টাকা হয়, তখন চাহিদার পরিমাণ হ্রাস পেয়ে ১৫০ একক হয়। দাম ১৫ ও চাহিদা ১৫০ একক নির্দেশক বিন্দুটি ধরি 'B'।

    ৩. রেখা অঙ্কন: এখন 'A' এবং 'B' বিন্দু দুটি যোগ করে উভয় দিকে প্রসারিত করলে যে 'DD' রেখা পাওয়া যায়, তা-ই হলো উদ্দীপকের তথ্যের আলোকে অঙ্কিত চাহিদা রেখা।

    রেখাটি বাম থেকে ডান দিকে নিম্নগামী, যা দাম ও চাহিদার পরিমাণের মধ্যে বিপরীতমুখী সম্পর্ক প্রকাশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের তথ্য অনুযায়ী চাহিদার দাম স্থিতিস্থাপকতা নির্ণয় করে দ্রব্যের প্রকৃতি বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. স্থিতিস্থাপকতা নির্ণয়:
    আমরা জানি, চাহিদার দাম স্থিতিস্থাপকতা (EdE_d) = −ΔQΔP×P1Q1-\frac{\Delta Q}{\Delta P} \times \frac{P_1}{Q_1} (পরম মান বিবেচনায়)

    এখানে,
    প্রাথমিক দাম, P1=১০P_1 = ১০ টাকা
    পরিবর্তিত দাম, P2=১৫P_2 = ১৫ টাকা
    দামের পরিবর্তন, ΔP=P2−P1=১৫−১০=৫\Delta P = P_2 - P_1 = ১৫ - ১০ = ৫ টাকা

    প্রাথমিক চাহিদা, Q1=২০০Q_1 = ২০০ একক
    পরিবর্তিত চাহিদা, Q2=১৫০Q_2 = ১৫০ একক
    চাহিদার পরিবর্তন, ΔQ=Q2−Q1=১৫০−২০০=−৫০\Delta Q = Q_2 - Q_1 = ১৫০ - ২০০ = -৫০ একক

    সূত্রে মান বসিয়ে পাই,
    Ed=∣ΔQΔP×P1Q1∣E_d = \left| \frac{\Delta Q}{\Delta P} \times \frac{P_1}{Q_1} \right|
    =∣−৫০৫×১০২০০∣= \left| \frac{-৫০}{৫} \times \frac{১০}{২০০} \right|
    =∣−১০×০.০৫∣=∣−০.৫∣=০.৫= |-১০ \times ০.০৫| = |-০.৫| = ০.৫

    অতএব, চাহিদার স্থিতিস্থাপকতার মান ০.৫০.৫, যা ১-এর চেয়ে কম (Ed<১E_d < ১)। অর্থাৎ এটি অস্থিতিস্থাপক চাহিদা (Inelastic Demand)।

    ২. দ্রব্যের প্রকৃতি বিশ্লেষণ:
    চাহিদার দাম স্থিতিস্থাপকতার মান যখন এককের চেয়ে কম (Ed<১E_d < ১) হয়, তখন দামের যে হারে পরিবর্তন ঘটে, চাহিদার পরিবর্তন তার চেয়ে কম হারে হয়। সাধারণত মানুষের বেঁচে থাকার জন্য আবশ্যকীয় বা নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের ক্ষেত্রে (যেমন: চাল, ডাল, লবণ, ওষুধ ইত্যাদি) এ ধরনের অস্থিতিস্থাপক চাহিদা দেখা যায়। কারণ এসব দ্রব্যের দাম বাড়লেও মানুষ তার ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে কমাতে পারে না।

    সুতরাং, স্থিতিস্থাপকতার মান ০.৫ হওয়ায় উদ্দীপকের দ্রব্যটি একটি নিত্যপ্রয়োজনীয় বা অত্যাবশ্যকীয় দ্রব্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন