যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৫
যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন
দৃশ্যকল্প-১:বিখ্যাত বিজ্ঞানী কোপার্নিকাস মনে করেন সূর্য স্থির। পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘোরে। দৃশ্যকল্প-২: অতি প্রাকৃতিক ও অলৌকিক শক্তিকে দেবশক্তি বলে। এই শক্তির উপাসনা করলে বিপদ নাশ হয়।
- ক)(1)
ব্যাখ্যা কী?
- খ)(2)
মৌলিক বা পরম নিয়মকে ব্যাখ্যা করা যায় না কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে দৃশ্যকল্প-১ এ কোন ব্যাখ্যার প্রতিফলন ঘটেছে? ব্যাখ্যা করো?
- ঘ)(4)
পাঠ্যপুস্তুকের আলোকে দৃশ্যকল্প-১ ও দৃশ্যকল্প-২ এর পার্থক্য আলোচনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো জটিল, দুর্বোধ্য, অস্পষ্ট বা বিভ্রান্তিকর বিষয় বা ঘটনাকে সহজ, সরল ও বোধগম্য করে প্রকাশ করার মানসিক প্রক্রিয়াকে ব্যাখ্যা বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ব্যাখ্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা হলো মৌলিক বা পরম নিয়মকে ব্যাখ্যা করা যায় না। ব্যাখ্যা করার অর্থ হলো কোনো ঘটনা বা নিয়মকে তার চেয়ে অধিকতর ব্যাপক বা উচ্চতর কোনো নিয়মের অধীনে অন্তর্ভুক্ত করা। কিন্তু প্রকৃতির পরম বা মৌলিক নিয়মগুলো (যেমন- অভিকর্ষ নিয়ম বা শক্তির নিত্যতা নীতি) স্বয়ম্ভু এবং সবচাইতে ব্যাপক; এদের অন্তর্ভুক্ত করার মতো অন্য কোনো উচ্চতর বা ব্যাপকতর নিয়ম নেই। তাই কোনো অধিকতর ব্যাপক নিয়মের অধীনে আনা যায় না বলেই মৌলিক বা পরম নিয়মকে ব্যাখ্যা করা যায় না।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১ এ 'বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা'র প্রতিফলন ঘটেছে।
যে ব্যাখ্যায় প্রকৃতির নিয়ম আবিষ্কার, কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয় এবং ঘটনাসমূহের মধ্যকার অন্তর্নিহিত সম্বন্ধের ভিত্তিতে কোনো বিষয়কে যৌক্তিকভাবে বিশ্লেষণ করা হয়, তাকে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা বলে। বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার ভিত্তি হলো পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষণ ও প্রাকৃতিক নিয়ম।
দৃশ্যকল্প-১ এ বলা হয়েছে- বিখ্যাত বিজ্ঞানী কোপার্নিকাস মনে করেন সূর্য স্থির এবং পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘোরে। এটি সৌরজগতের গঠন এবং গ্রহগুলোর গতি সম্পর্কিত একটি বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার ও প্রতিষ্ঠিত মহাজাগতিক সত্য। কোপার্নিকাস সৌরজগতের কেন্দ্র সম্পর্কিত বাস্তব ও বৈজ্ঞানিক নিয়মের আলোকেই পৃথিবীর পরিক্রমণ ব্যাখ্যা করেছিলেন, যা অলৌকিক বা ব্যক্তিগত বিশ্বাসের ওপর নয় বরং পর্যবেক্ষণমূলক বিজ্ঞানের ওপর প্রতিষ্ঠিত। সুতরাং, এটি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার দৃষ্টান্ত।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পাঠ্যপুস্তকের আলোকে দৃশ্যকল্প-১ হলো 'বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা' এবং দৃশ্যকল্প-২ হলো 'লৌকিক ব্যাখ্যা'। এদের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য নিচে আলোচনা করা হলো:
১. ধারণাগত ভিত্তি: দৃশ্যকল্প-১ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার ওপর প্রতিষ্ঠিত, যা প্রাকৃতিক নিয়ম ও কার্যকারণ সম্পর্কের মাধ্যমে কোনো বিষয়ের যথার্থ কারণ তুলে ধরে। অন্যদিকে, দৃশ্যকল্প-২ লৌকিক ব্যাখ্যার উদাহরণ, যেখানে প্রাকৃতিক ঘটনাকে অতিপ্রাকৃতিক শক্তি, দৈবশক্তি বা অন্ধবিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে ব্যাখ্যা করা হয়।
২. কার্যকারণ সম্পর্ক: বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় (দৃশ্যকল্প-১) ঘটনার অন্তর্নিহিত বাস্তব কার্যকারণ সম্বন্ধ অনুসন্ধান করা হয় (সূর্য স্থির ও পৃথিবী তার চারদিকে ঘোরে)। পক্ষান্তরে লৌকিক ব্যাখ্যায় (দৃশ্যকল্প-২) কোনো বাস্তব কারণ খোঁজার চেষ্টা না করে অলৌকিক সত্তা বা দেবশক্তির প্রতি অন্ধ বিশ্বাস স্থাপন করা হয়।
৩. যাচাইযোগ্যতা ও বস্তুনিষ্ঠতা: দৃশ্যকল্প-১ এ উপস্থাপিত সত্যকে বাস্তব পর্যবেক্ষণ ও বৈজ্ঞানিক প্রমাণের সাহায্যে যাচাই করা সম্ভব এবং তা সর্বজনীন। কিন্তু দৃশ্যকল্প-২ এর অলৌকিক বা দৈব ধারণাকে বাহ্যিক কোনো পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণ বা যাচাই করা সম্ভব নয়; এটি ব্যক্তিবিশেষের বিশ্বাস ও অনুভূতির বিষয়।
৪. কুসংস্কারমুক্ততা: লৌকিক ব্যাখ্যা কুসংস্কার ও কল্পনাপ্রসূত ভাবাবেগে আচ্ছন্ন, যা কুসংস্কার দূরীকরণে ব্যর্থ। পক্ষান্তরে, কোপার্নিকাসের মতো বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার মানুষকে যুক্তিবাদী করে এবং সমাজের ভুল ধারণা ও কুসংস্কার দূর করে।
পরিশেষে বলা যায়, দৃশ্যকল্প-১ যুক্তিনির্ভর, বস্তুনিষ্ঠ ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন, পক্ষান্তরে দৃশ্যকল্প-২ ব্যক্তিনির্ভর, অবৈজ্ঞানিক ও লৌকিক বিশ্বাসের বহিঃপ্রকাশ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও