পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • সরকার কাঠামো ও সরকারের অঙ্গসমূহ • আনন্দ মোহন কলেজ, ময়মনসিংহ • আনন্দ মোহন কলেজ, ময়মনসিংহ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৫
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
শিক্ষক জনাব সুখন আহমেদ ক্লাসে খুব ভালো পড়ান। তিনি অন্যকে যেকোনো বিষয় সুন্দর এবং সহজভাবে বুঝিয়ে দিতে পারেন। একদিন তিনি ক্লাসে রাষ্ট্রের গঠন সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে সরকারের তিনটি বিভাগের কথা উল্লেখ করেন, যার মধ্যে একটি বিভাগ জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত এবং অন্য দুটি বিভাগের কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণের ভূমিকা রাখে। তিনি বলেন, সরকারের অপরিহার্য তিনটি বিভাগের সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি রাষ্ট্রের পরিপূর্ণতা ফুটে উঠে।
- ক)(1)
সংসদীয় ব্যবস্থার সরকারপ্রধান কে?
- খ)(2)
সংসদীয় শাসনব্যবস্থা বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
সুখন স্যারের বক্তব্যে সরকারের যে বিভাগের কথা উঠে এসেছে তার গঠনপ্রণালি আলোচনা কর।
- ঘ)(4)
সরকারের পরিপূর্ণতা শীর্ষক সুখন স্যারের বক্তব্যের যথার্থতা নিরূপণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী হলেন সরকারপ্রধান।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে শাসনব্যবস্থায় শাসন বিভাগ তার সামগ্রিক কার্যক্রমের জন্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে আইনসভার কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকে, তাকে সংসদীয় বা মন্ত্রিসভাশাসিত সরকারব্যবস্থা বলা হয়। এ ব্যবস্থায় একজন নামমাত্র রাষ্ট্রপ্রধান থাকেন এবং প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত মন্ত্রিসভাই প্রকৃত শাসনক্ষমতা পরিচালনা করে। আইনসভার আস্থা হারালে এ সরকারকে পদত্যাগ করতে হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সুখন স্যারের বক্তব্যে সরকারের 'আইন বিভাগ'-এর কথা ফুটে উঠেছে, যা জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত এবং অন্যান্য বিভাগের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। নিচে আইন বিভাগের সাধারণ গঠনপ্রণালি আলোচনা করা হলো:
১. সদস্য নির্বাচন: আইন বিভাগ বা সংসদ মূলত জনগণের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত হয়। দেশের প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে এলাকাভিত্তিক এই প্রতিনিধিরা নির্বাচিত হন।
২. কক্ষের সংখ্যা: বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আইনসভা এককক্ষবিশিষ্ট অথবা দ্বিকক্ষবিশিষ্ট হতে পারে। যেমন—বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ এককক্ষবিশিষ্ট, কিন্তু ভারত, যুক্তরাজ্য বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভা দ্বিকক্ষবিশিষ্ট। দ্বিকক্ষে সাধারণত একটি উচ্চকক্ষ ও একটি নিম্নকক্ষ থাকে।
৩. সংরক্ষিত আসন: অনেক দেশের আইনসভায় নারী বা নির্দিষ্ট অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য সংরক্ষিত আসন বা মনোনয়নের বিশেষ ব্যবস্থা থাকে (যেমন বাংলাদেশে ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন)।
৪. স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার: আইনসভার কাজ পরিচালনার জন্য সদস্যদের মধ্য থেকে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন, যাঁরা সভার সার্বিক শৃঙ্খলা রক্ষা করেন।এভাবেই জনগণের সার্বভৌমিকতার প্রতীক হিসেবে আইন বিভাগ গঠিত হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সুখন স্যারের 'সরকারের অপরিহার্য তিনটি বিভাগের সমন্বয়ের মাধ্যমেই একটি রাষ্ট্রের পরিপূর্ণতা ফুটে উঠে'—বক্তব্যটি অত্যন্ত যথার্থ ও তাৎপর্যপূর্ণ। নিচে এর সপক্ষে বিশ্লেষণ দেওয়া হলো:
সরকারের তিনটি প্রধান অঙ্গ হলো—আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগ। প্রতিটি বিভাগের স্বতন্ত্র এবং পারস্পরিক পরিপূরক ভূমিকা রয়েছে:
১. আইন বিভাগ: জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে দেশের আইন প্রণয়ন, সংশোধন এবং জাতীয় বাজেট পাস করে।
২. শাসন বিভাগ: আইন বিভাগ কর্তৃক প্রণীত আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রের দৈনন্দিন প্রশাসন পরিচালনা করে, দেশের শান্তিশৃঙ্খলা নিশ্চিত করে এবং জনকল্যাণমূলক নীতি কার্যকর করে।
৩. বিচার বিভাগ: আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করে, সংবিধান ও নাগরিক অধিকার রক্ষা করে এবং আইনভঙ্গকারীকে শাস্তির আওতায় আনে। পাশাপাশি আইন ও শাসন বিভাগের অসাংবিধানিক কাজের ওপর চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স হিসেবে কাজ করে।যেকোনো একটি বিভাগের দুর্বলতা বা অন্য বিভাগের ওপর অতিরিক্ত আধিপত্য পুরো রাষ্ট্রের ভারসাম্য বিনষ্ট করে। আইন বিভাগ না থাকলে শাসনের রূপরেখা থাকে না, শাসন বিভাগ না থাকলে আইনের প্রয়োগ হয় না, আর বিচার বিভাগ না থাকলে ন্যায়বিচার বিনষ্ট হয়ে স্বৈরাচার প্রতিষ্ঠিত হয়।
সুতরাং, তিনটি বিভাগের ক্ষমতার পৃথকীকরণ এবং পারস্পরিক কার্যকর ভারসাম্যের মাধ্যমেই একটি রাষ্ট্র পূর্ণাঙ্গ, গণতান্ত্রিক ও কল্যাণমুখী হয়ে ওঠে। তাই সুখন স্যারের উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও