মনোবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬
মনোবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
দৃশ্যকল্প-১ :
দৃশ্যকল্প-২ : জনাব সালাম একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানে নানা কাজের জন্য তাঁকে অতিরিক্ত সময় প্রতিষ্ঠানে কাটাতে হয়। ফলে কাজের প্রতি তাঁর আগ্রহ কমে গেছে। সামান্য কারণে তিনি বিরক্ত বোধ করেন। অল্পতেই শ্রান্তিবোধ করেন। ফলে তাঁর কর্মদক্ষতা অনেক হ্রাস পেয়েছে।
- ক)(1)
হতাশার সংজ্ঞা দাও।
- খ)(2)
সন্তান সম্পর্কে পিতামাতার উচ্চ প্রত্যাশা কীভাবে মানসিক চাপমূলক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে?
- গ)(3)
দৃশ্যকল্প-১ এ চিহ্নিত দ্বন্দ্বটি উদাহরণসহ ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
দৃশ্যকল্প-২ এ জনাব সালামের সমস্যার সাথে সম্পর্কিত অবস্থাটির প্রকারভেদগুলোর বিবরণ দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দেশ্যমূলক আচরণে কোনো বাধা বা প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হলে ব্যক্তির মধ্যে যে অস্বস্তিকর বা বেদনাদায়ক মানসিক অবস্থার সৃষ্টি হয়, তাকে হতাশা (Frustration) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সন্তানের নিজস্ব সামর্থ্য, আগ্রহ ও মেধার তোয়াক্কা না করে যখন পিতামাতা অতিরিক্ত বা অবাস্তব প্রত্যাশা চাপিয়ে দেন, তখন সন্তানের ওপর প্রচণ্ড মানসিক চাপের সৃষ্টি হয়। প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হওয়ার ভয়, পিতামাতার অসন্তোষের আশঙ্কা এবং অতিরিক্ত পড়ালেখা বা প্রতিযোগিতার কারণে সন্তান তীব্র উদ্বেগ, হীনম্মন্যতা ও নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। ফলে এই চাপযুক্ত পরিবেশ সন্তানের স্বাভাবিক মানসিক অবস্থাকে বিপর্যস্ত করে তুলে মানসিক চাপমূলক পরিস্থিতি তৈরি করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-১ এ প্রদর্শিত চিত্রটি মনোবিজ্ঞানের 'আকর্ষণ-বিকর্ষণ দ্বন্দ্ব' (Approach-Avoidance Conflict)-কে নির্দেশ করে। চিত্রে দেখা যাচ্ছে, ব্যক্তির একদিকে ইতিবাচক (+) দিক বা আকর্ষণ রয়েছে এবং অন্যদিকে নেতিবাচক (-) দিক বা বিকর্ষণ রয়েছে।
যখন কোনো একটি বস্তু, ব্যক্তি বা পরিস্থিতিতে একই সাথে আকর্ষণীয় এবং বিকর্ষণীয় উপাদান বা বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকে এবং ব্যক্তিকে তা গ্রহণ বা বর্জনের সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়তে হয়, তখন তাকে আকর্ষণ-বিকর্ষণ দ্বন্দ্ব বলে।
উদাহরণস্বরূপ: একজন ব্যক্তি একটি লোভনীয় বা উচ্চ বেতনের চাকরি পেলেন, কিন্তু চাকরিটির কর্মস্থল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বা দুর্গম এলাকায়। এখানে আকর্ষণ হলো ভালো বেতন ও ক্যারিয়ার (+) এবং বিকর্ষণ হলো জীবনের ঝুঁকি ও দুর্গম পরিবেশ (-)। ফলে ব্যক্তি চাকরিটি গ্রহণ করবেন কি না তা নিয়ে আকর্ষণ-বিকর্ষণ দ্বন্দ্বে ভোগেন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-২ এ জনাব সালাম অতিরিক্ত কাজের চাপ ও দীর্ঘ সময় কাটানোর ফলে যে অবসাদ, কাজে অনাগ্রহ, বিরক্তি ও কর্মদক্ষতা হ্রাসের শিকার হয়েছেন, তা মনোবিজ্ঞানের ভাষায় ‘ক্লান্তি’ বা ‘শ্রান্তি’ (Fatigue)-কে নির্দেশ করে।
শ্রান্তি বা ক্লান্তিকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায়:
১. শারীরিক শ্রান্তি (Physical Fatigue): অতিরিক্ত কায়িক পরিশ্রম বা দীর্ঘ সময় কাজ করার ফলে মাংসপেশিতে ল্যাকটিক অ্যাসিড জমে এবং শক্তি সঞ্চয় কমে যায়। ফলে পেশি সঞ্চালনে বাধা সৃষ্টি হয় এবং শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে। বিশ্রাম নিলে এ ধরনের শ্রান্তি দ্রুত দূর হয়।
২. মানসিক শ্রান্তি (Mental Fatigue): দীর্ঘ সময় ধরে মনোযোগ দিয়ে কোনো জটিল কাজ করা, মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা বা একঘেয়েমির কারণে মানসিক শ্রান্তি দেখা দেয়। এর ফলে কাজের প্রতি বিরক্তি, মনোযোগের অভাব, উৎসাহের ঘাটতি এবং কর্মদক্ষতা হ্রাস পায়।
এছাড়া কার্যকারণ ভেদে ক্লান্তি আরও দুই প্রকার হতে পারে:
ক. বস্তুগত বা প্রকৃত শ্রান্তি (Objective Fatigue): কাজের পরিমাণ ও উৎপাদন সরাসরি কমে যাওয়ার মাধ্যমে এটি প্রকাশ পায়।
খ. ব্যক্তিনিষ্ঠ শ্রান্তি বা অবসাদ (Subjective Fatigue): ব্যক্তি নিজেই ক্লান্তি ও অনিচ্ছা বোধ করে, সামান্যতেই বিরক্ত হয়—যেমনটি জনাব সালামের ক্ষেত্রে ঘটেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও