অর্থনীতি ২য় পত্র • খাদ্য নিরাপত্তা • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৯
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
আয়তনের তুলনায় বাংলাদেশের জনসংখ্যা অনেক বেশি। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর খাদ্যের সংস্থান দেশটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সরকার অভ্যন্তরীণ খাদ্য উৎপাদন বাড়ানোর জন্য কৃষি ও পল্লী উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। যার অংশ হিসেবে কৃষি কার্ড বিতরণ, ভর্তুকি প্রদান, বায়োটেকনোলজির ব্যবহার, তথ্য ও প্রযুক্তির সম্প্রসারণ, কাবিখা, ভিজিএফ, বয়স্কভাতা, বেকার ভাতাসহ প্রয়োজনে খাদ্য আমদানিরও ব্যবস্থা রয়েছে।
- ক)(1)
পুষ্টিকর খাদ্য কী?
- খ)(2)
"জনসংখ্যা বৃদ্ধি খাদ্য সমস্যা সৃষ্টি করে"- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
খাদ্য নিরাপত্তার জন্য যেসব বিষয়কে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে তা উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব কি শুধু সরকারের? উত্তরের সপক্ষে তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যেসব খাদ্যে দেহের বৃদ্ধি, পুষ্টি সাধন, রোগ প্রতিরোধ ও শক্তি উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য উপাদানসমূহ (যেমন- শর্করা, আমিষ, স্নেহ, ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানি) সঠিক অনুপাতে বিদ্যমান থাকে, তাকে পুষ্টিকর খাদ্য বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেলে খাদ্যের চাহিদাও দ্রুত বৃদ্ধি পায়, কিন্তু সীমাবদ্ধ জমি ও অন্যান্য উৎপাদন উপাদানের কারণে খাদ্য উৎপাদন সেই অনুপাতে বাড়ানো সম্ভব হয় না। ম্যালথাসের জনসংখ্যা তত্ত্ব অনুযায়ী, জনসংখ্যা বাড়ে জ্যামিতিক হারে এবং খাদ্য উৎপাদন বাড়ে গাণিতিক হারে। ফলে ক্রমেই খাদ্য ঘাটতি তৈরি হয় এবং দেশে খাদ্য সমস্যার সৃষ্টি হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে খাদ্য নিরাপত্তার প্রধান তিনটি দিক—খাদ্যের প্রাপ্যতা, খাদ্যের উপযোগিতা ও খাদ্যের ক্রয়ক্ষমতা বা অভিগম্যতা নিশ্চিত করার বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
প্রথমত, অভ্যন্তরীণ খাদ্য উৎপাদন বাড়ানোর মাধ্যমে 'খাদ্যের সহজলভ্যতা বা প্রাপ্যতা' বৃদ্ধির জন্য কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন, কৃষি কার্ড বিতরণ, কৃষি উপকরণের ওপর ভর্তুকি প্রদান, আধুনিক বায়োটেকনোলজির ব্যবহার এবং তথ্যপ্রযুক্তির সম্প্রসারণকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে ঘাটতি মেটাতে খাদ্য আমদানির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
দ্বিতীয়ত, দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত জনগোষ্ঠীর 'খাদ্যের অভিগম্যতা বা ক্রয়ক্ষমতা' নিশ্চিত করার জন্য সরকার সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচির আওতায় কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য), ভিজিএফ (ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং), বয়স্কভাতা ও বেকার ভাতার মতো কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। এর মাধ্যমে জনগণের খাদ্য প্রাপ্তি ও পুষ্টি নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব কেবল সরকারের একার নয়, বরং এর সাথে দেশের প্রতিটি নাগরিক, কৃষক, ব্যবসায়ী এবং বেসরকারি খাতের সমন্বিত ভূমিকা জড়িত।
উদ্দীপকে দেখা যায়, সরকার খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি, ভর্তুকি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে কেবল সরকারি নীতি প্রণয়ন বা সহায়তা প্রদানই যথেষ্ট নয়।
১. কৃষক ও উৎপাদকদের দায়িত্ব: আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সঠিক প্রয়োগ, উচ্চফলনশীল জাত চাষ এবং ফসলের অপচয় রোধ করা।
২. ব্যবসায়ী ও মজুদদারদের দায়িত্ব: কৃত্রিম খাদ্য সংকট বা খাদ্য মজুদ না করা, খাদ্যে ভেজাল না মেশানো এবং সঠিক বাজারমূল্যে সরবরাহ বজায় রাখা।
৩. ভোক্তাদের সচেতনতা: সুষম খাদ্য গ্রহণ, খাদ্যের অপচয় রোধ ও স্বাস্থ্যসম্মত অভ্যাস গড়ে তোলা।
৪. বেসরকারি ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা: কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ এবং জলবায়ু সহনশীল জাত উদ্ভাবন।অতএব, খাদ্য নিরাপত্তা একটি সামগ্রিক প্রক্রিয়া। সরকারের পাশাপাশি সাধারণ জনগণ, কৃষক, ব্যবসায়ী এবং বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই একটি দেশের টেকসই খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও