সমাজকর্ম ২য় পত্র • বাংলাদেশের সামাজিক সমস্যা ও সমাজকর্ম • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২১
সমাজকর্ম ২য় পত্র প্রশ্ন
তিন বছরের ছোট্ট শিশু আবরারের আচরণে নিম্নবর্ণিত বৈশিষ্ট্যগুলো প্রকাশ পায়-→ একই কাজ বার বার করে→ কারো সাথে সহজে মিশতে চায় না→ একা একা খেলতে পছন্দ করে→ কারো সাথে চোখে চোখ রেখে তাকাতে পারে না।
- ক)(1)
'Analyzing Social Problem' গ্রন্থের লেখক কে?
- খ)(2)
সামাজিক পরিবর্তন কীভাবে সামাজিক সমস্যার জন্য দায়ী?
- গ)(3)
আবরার কোন সামাজিক সমস্যায় পতিত? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
জাতীয় জীবনে উক্ত সমস্যার প্রভাব বর্ণনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'Analyzing Social Problem' গ্রন্থের লেখক হলেন সমাজবিজ্ঞানী জন এডলফ বেনটন (John Adolf Benton) অথবা জর্জ এ. লুন্ডবার্গ (George A. Lundberg) ও অন্যান্য পণ্ডিতদের রচিত বিখ্যাত পাঠ্য অনুযায়ী জেমস এ. ব্রিনটন (James A. Brinton) বা Robert K. Merton সম্পর্কিত হলেও সমাজকর্মে বহুল প্রচলিত তথ্য মতে 'Analyzing Social Problem' গ্রন্থের লেখক হলেন Jerome G. Manis (জেরোম জি. ম্যানিস)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সামাজিক পরিবর্তন সমাজের কাঠামোগত, সাংস্কৃতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক রীতিনীতিতে রূপান্তর ঘটায়। পরিবর্তনের এই গতি সমাজের সব ক্ষেত্রে সমান তালে ঘটে না। ফলে মানুষের প্রত্যাশা, মূল্যবোধ এবং সামাজিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ব্যবধান বা সাংস্কৃতিক অসমতা (Cultural Lag) তৈরি হয়। এই অসামঞ্জস্য ও বিশৃঙ্খলা থেকে বেকারত্ব, অপরাধপ্রবণতা, পারিবারিক ভাঙনসহ বহুবিধ সামাজিক সমস্যার জন্ম হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আবরার 'অটিজম' (Autism / অটিজম স্পেকট্রাম ডিজঅর্ডার) সমস্যায় পতিত।
অটিজম হলো মস্তিষ্কের একটি বিকাশজনিত সমস্যা বা স্নায়বিক বৈকল্য, যার কারণে শিশুর স্বাভাবিক সামাজিক বিকাশ, যোগাযোগ দক্ষতা ও আচরণ বাধাগ্রস্ত হয়।
উদ্দীপকে উল্লেখিত আবরারের আচরণগুলো অটিজমের চিরাচরিত লক্ষণ—যেমন: একই কাজ বারবার করা (Stereotyped behavior), মানুষের সাথে সহজে না মেশা, একা খেলাধুলা পছন্দ করা এবং চোখে চোখ না রাখা (Lack of eye contact)। এই আচরণগত বৈশিষ্ট্যগুলোর কারণে স্পষ্ট হয় যে আবরার অটিজম নামক স্নায়বিক ও সামাজিক সমস্যায় ভুগছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জাতীয় জীবনে অটিজমের প্রভাব সুদূরপ্রসারী ও বহুমুখী।
অটিজমে আক্রান্ত শিশুরা যথাযথ পরিচর্যা ও পুনর্বাসন না পেলে জাতীয় জীবনে নানা নেতিবাচক প্রভাব ফেলে:
১. উৎপাদনশীলতায় ঘাটতি: বিপুল সংখ্যক মানুষ অটিজমে আক্রান্ত থাকার কারণে তারা জাতীয় অর্থনীতিতে বা উৎপাদনমূলক কাজে পুরোপুরি অংশ নিতে পারে না। ফলে তারা মানবসম্পদে পরিণত হওয়ার পরিবর্তে পরনির্ভরশীল হয়ে থাকে।
২. স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ব্যয় বৃদ্ধি: অটিস্টিক ব্যক্তিদের বিশেষ যত্ন, থেরাপি এবং দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র ও সমাজের বিপুল পরিমাণ জাতীয় সম্পদ ব্যয় হয়।
৩. পরিবারের কার্যক্ষমতা হ্রাস: অটিস্টিক শিশুর সার্বক্ষণিক পরিচর্যায় পরিবারের সক্ষম সদস্যদের অতিরিক্ত সময় দিতে হয়, যার ফলে তাদের স্বাভাবিক কর্মসংস্থান ও জাতীয় উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ড ব্যাহত হয়।
৪. বিশেষ শিক্ষা ও পুনর্বাসনের চ্যালেঞ্জ: রাষ্ট্রের জন্য বিশেষ শিক্ষাব্যবস্থা, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও অবকাঠামো তৈরিতে বড় ধরনের নীতি ও আর্থিক বরাদ্দের প্রয়োজন হয়।তবে যথাযথ প্রশিক্ষণ, সহানুভূতি এবং সুযোগ প্রদান করলে অটিস্টিক ব্যক্তিদেরও স্বাবলম্বী করে জাতীয় উন্নয়নে অংশীদার করা সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও