যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৫

যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন

জামাল সাহেব একটি জরিপ কাজের জন্য কোনো একটি গ্রামের মানুষকে শিক্ষিত, মেধাবী, পরিশ্রমী, ধনী, দরিদ্র ইত্যাদি শ্রেণিতে বিভক্ত করলেন। অপরদিকে, সামাদ সাহেব একটি গবেষণাকর্মের জন্য উক্ত গ্রামের মানুষকে শিক্ষিত ও অশিক্ষিত এই দু'ভাগে বিভস্ত করলেন।

  1. ক)

    যৌক্তিক বিভাগ কী?

    (1)
  2. খ)

    অতিব্যাপক বিভাগ অনুপপত্তি কেন ঘটে?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে জামাল সাহেবের কাজটি কোন প্রকারের যৌক্তিক বিভাগ নির্দেশ করেছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে জামাল সাহেব ও সামাদ সাহেবের কাজে নির্দেশিত যৌস্তিক বিভাগের মধ্যে তুলনামূল বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো একটি নীতি বা সূত্রের ভিত্তিতে একটি উচ্চতর শ্রেণি বা জাতিকে তার অন্তর্গত অপেক্ষাকৃত নিম্নতর বা সমমানের উপজাতিগুলোতে বিভক্ত করার প্রক্রিয়াকে যৌক্তিক বিভাগ বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যৌক্তিক বিভাগের একটি নিয়ম হলো বিভাজ্য উপজাতিগুলোর ব্যক্ত্যর্থ বা সমষ্টি মূল জাতির ব্যক্ত্যর্থের ঠিক সমান হতে হবে। এই নিয়ম লঙ্ঘন করে কোনো জাতিকে তার অন্তর্গত উপজাতিসমূহে বিভক্ত করার সময় যদি উপজাতিগুলোর সম্মিলিত ব্যক্ত্যর্থ মূল জাতির ব্যক্ত্যর্থের চেয়ে বেশি হয়ে যায়, তবে যে ত্রুটি বা অনুপপত্তি ঘটে তাকে অতিব্যাপক বিভাগ অনুপপত্তি বলে। যেমন- মানুষকে সৎ, অসৎ ও চতুস্পদ এই তিন ভাগে ভাগ করলে মূল 'মানুষ' জাতির পরিধি থেকে বিভাগের পরিধি বেশি হয়ে যায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে জামাল সাহেবের কাজটি যৌক্তিক বিভাগের দ্বিতীয় নিয়ম লঙ্ঘনজনিত 'পরস্পরাঙ্গী বা সংকর বিভাগ' (Cross Division) অনুপপত্তি নির্দেশ করেছে।

    যৌক্তিক বিভাগের দ্বিতীয় নিয়ম অনুসারে, একটিমাত্র মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে কোনো জাতিকে উপজাতিসমূহে বিভক্ত করতে হবে। অর্থাৎ, কোনো একটি নির্দিষ্ট সময়ে একটির বেশি মূলনীতি গ্রহণ করা যাবে না।

    উদ্দীপকে জামাল সাহেব গ্রামের মানুষকে বিভক্ত করার সময় একই সাথে একাধিক মূলনীতি (শিক্ষা, মেধা, পরিশ্রম ও আর্থিক অবস্থা) গ্রহণ করেছেন। তিনি একই সাথে শিক্ষিত, মেধাবী, পরিশ্রমী, ধনী ও দরিদ্র ইত্যাদি শ্রেণিতে ভাগ করায় শ্রেণিগুলো পরস্পর স্বতন্ত্র হতে পারেনি; বরং একটির সাথে অন্যটি জড়িয়ে গেছে (যেমন: একজন ব্যক্তি একই সাথে শিক্ষিত, মেধাবী ও ধনী হতে পারেন)। ফলে এখানে সংকর বা পরস্পরাঙ্গী বিভাগ অনুপপত্তি ঘটেছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে জামাল সাহেব ও সামাদ সাহেবের কাজের মধ্যে যথাক্রমে 'সংকর বিভাগ অনুপপত্তি' এবং নিয়মমাফিক 'দ্বিকোটিক বিভাগ' (Dichotomy) নির্দেশিত হয়েছে। নিচে এদের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. নীতিগত পার্থক্য: জামাল সাহেব যৌক্তিক বিভাগের নিয়ম ভঙ্গ করে একই সাথে একাধিক নীতি প্রয়োগ করেছেন (শিক্ষা, মেধা, অর্থনৈতিক অবস্থা ইত্যাদি)। পক্ষান্তরে, সামাদ সাহেব একটিমাত্র নীতি (শিক্ষা) এবং বৈপরীত্যের নিয়ম (Law of Contradiction) অনুসরণ করে মানুষকে 'শিক্ষিত' ও 'অশিক্ষিত'—এই দুটি পরস্পরবিরোধী উপজাতিতে ভাগ করেছেন।

    ২. বিভাগের ধরন: জামাল সাহেবের কাজটি সংকর বিভাগজনিত অনুপপত্তিযুক্ত। অন্যদিকে, সামাদ সাহেবের কাজটি হলো 'দ্বিকোটিক বিভাগ' (Dichotomy), যা একটি বিধিসম্মত ও নির্ভুল যৌক্তিক প্রক্রিয়া।

    ৩. শ্রেণিগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক: জামাল সাহেবের বিভক্ত শ্রেণিগুলো পরস্পর অপবর্জক (mutually exclusive) নয়; একজন ব্যক্তি একই সঙ্গে পরিশ্রমী ও ধনী হতে পারেন। কিন্তু সামাদ সাহেবের বিভক্ত শ্রেণি দুটি সম্পূর্ণ পরস্পরবিরোধী ও অপবর্জক; কারণ কেউ একই সঙ্গে শিক্ষিত ও অশিক্ষিত হতে পারে না।

    ৪. ব্যক্ত্যর্থের সমতা: জামাল সাহেবের বিভাগে ব্যক্ত্যর্থের স্পষ্টতা নষ্ট হয় এবং একাধিক শ্রেণি তৈরি হয়। অথচ সামাদ সাহেবের ক্ষেত্রে 'শিক্ষিত' ও 'অশিক্ষিত' মিলে সমগ্র মানুষের ব্যক্ত্যর্থকে সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করে।

    সুতরাং, জামাল সাহেবের কাজটি নিয়মবহির্ভূত ও ত্রুটিপূর্ণ হলেও সামাদ সাহেবের কাজটি যৌক্তিক বিভাগের সুনির্দিষ্ট নিয়মানুগ একটি নিখুঁত দ্বিকোটিক বিভাগ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন