যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৫

যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন

দৃষ্টান্ত-১: বিদ্যা হলো জীবনের আলো। দৃষ্টান্ত-২: "মানুষ হলো এমন জীব যাদের দুটি হাত, দুটি পা, দুটি চোখ আছে। তারা জ্বানন্দে হাসে, দুঃখে কান্না করে।"

  1. ক)

    নঞর্থক সংজ্ঞা কী?

    (1)
  2. খ)

    মৌলিক গুণের সংজ্ঞা দেওয়া সম্ভব নয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    দৃষ্টান্ত-১ এ কোন ধরনের সংজ্ঞাজনিত অনুপপত্তি ঘটেছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    দৃষ্টান্ত-২ এ নির্দেশিত বিষয়ের সাথে যৌক্তিক সংজ্ঞার তুলনামূলক আলোচনা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো পদের সংজ্ঞায় ইতিবাচক বা সদর্থক ভাষা ব্যবহারের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও যখন নেতিবাচক বা নঞর্থক ভাষার মাধ্যমে সংজ্ঞা দেওয়া হয়, তখন তাকে নঞর্থক সংজ্ঞা বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মৌলিক বা সরল গুণের যৌক্তিক সংজ্ঞা দেওয়া সম্ভব নয়, কারণ এদের কোনো বিভেদক লক্ষণ এবং আসন্নতম জাতি থাকে না।

    যৌক্তিক সংজ্ঞার প্রধান শর্ত হলো সংজ্ঞেয় পদের আসন্নতম জাতি ও বিভেদক লক্ষণ নির্দেশ করা। কিন্তু মৌলিক গুণগুলো (যেমন: লাল রং, তিক্ত স্বাদ, সুখ, বেদনা ইত্যাদি) এতই সরল ও অবিভাজ্য যে এদের বিশ্লেষণ করে কোনো সাধারণ জাতি বা পৃথক লক্ষণ নির্ণয় করা যায় না। এগুলো কেবল প্রত্যক্ষ অনুভূতির সাহায্যে জানা যায়, যুক্তির দ্বারা সংজ্ঞায়িত করা যায় না। তাই মৌলিক গুণের সংজ্ঞা দেওয়া সম্ভব নয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃষ্টান্ত-১ এ 'রূপক সংজ্ঞাজনিত অনুপপত্তি' ঘটেছে।

    যৌক্তিক সংজ্ঞার নিয়ম অনুসারে, যে পদের সংজ্ঞা দেওয়া হবে তা যেন সবসময় স্পষ্ট ও সহজবোধ্য ভাষায় ব্যক্ত করা হয়। সংজ্ঞায় কোনো রূপক, অলংকারিক বা দুর্বোধ্য ভাষা ব্যবহার করা যাবে না। এই নিয়ম লঙ্ঘন করে সংজ্ঞায় রূপক ভাষা প্রয়োগ করলে 'রূপক সংজ্ঞাজনিত অনুপপত্তি' সৃষ্টি হয়।

    উদ্দীপকের দৃষ্টান্ত-১ এ বলা হয়েছে: 'বিদ্যা হলো জীবনের আলো'। এখানে বিদ্যাকে সহজ-সরল ভাষায় সংজ্ঞায়িত না করে 'আলো' শব্দের মাধ্যমে রূপক বা অলংকারিক অর্থে উপস্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে বিষয়টি স্পষ্ট না হয়ে আরও অস্পষ্ট রূপ নিয়েছে। সুতরাং, সংজ্ঞার নিয়ম লঙ্ঘনের কারণে এখানে 'রূপক সংজ্ঞাজনিত অনুপপত্তি' ঘটেছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃষ্টান্ত-২ এ নির্দেশিত বিষয়টি হলো একটি 'বর্ণনা', যা যৌক্তিক সংজ্ঞা থেকে মৌলিকভাবে পৃথক। নিচে এদের তুলনামূলক আলোচনা তুলে ধরা হলো:

    ১. বিষয়বস্তুর প্রকৃতি: যৌক্তিক সংজ্ঞায় একটি পদের কেবল অপরিহার্য ও মৌলিক গুণাবলি অর্থাৎ সম্পূর্ণ জাত্যর্থ (আসন্নতম জাতি ও বিভেদক লক্ষণ) প্রকাশ করা হয়। পক্ষান্তরে, বর্ণনায় কোনো বিষয়ের জাত্যর্থের পাশাপাশি বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য, উপলক্ষণ বা অবান্তর লক্ষণের উল্লেখ থাকে। দৃষ্টান্ত-২ এ মানুষের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ('দুটি হাত, দুটি পা, দুটি চোখ') এবং আবেগ ('হাসে, কান্না করে') উল্লেখ করা হয়েছে, যা মানুষের বাহ্যিক আকৃতি ও উপলক্ষণ মাত্র।

    ২. সুনির্দিষ্টতা ও যথার্থতা: যৌক্তিক সংজ্ঞা একটি পদের নির্দিষ্ট ও অপরিবর্তনীয় স্বরূপ নির্ধারণ করে (যেমন: মানুষ হলো বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন জীব)। কিন্তু দৃষ্টান্ত-২ এর মতো বর্ণনামূলক পরিচয় কেবল বাহ্যিক ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য তথ্য দেয়, যা কোনো পদের সুনির্দিষ্ট ও সুসংহত যৌক্তিক পরিচয় নয়।

    ৩. বৈজ্ঞানিক মূল্য: যৌক্তিক সংজ্ঞা বিজ্ঞানসম্মত, সুনির্দিষ্ট এবং সার্বজনীন। পক্ষান্তরে, দৃষ্টান্ত-২ এ উপস্থাপিত বর্ণনা মূলত কোনো বস্তুকে চেনার একটি সাধারণ উপায় হলেও তা যৌক্তিক সংজ্ঞার মর্যাদা পায় না।

    অতএব, দৃষ্টান্ত-২ হলো মানুষের একটি বাহ্যিক বর্ণনা বা অবান্তর লক্ষণের প্রকাশ, যা যৌক্তিক সংজ্ঞার জাত্যর্থভিত্তিক কাঠামোর সাথে সংগতিপূর্ণ নয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন