বিজ্ঞান • পলিমার • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২০
বিজ্ঞান প্রশ্ন
রহিম সাহেবের কারখানায় যে পদার্থটি উৎপন্ন হয় সেটি সাধারণত সাদা বা হালকা বাদামী রংয়ের হয়। টানলে লম্বা হয়। তার ভাই রহমানের কারখানায় যে পদার্থটি উৎপন্ন হয়, সেটি দাহ্য এবং পুড়লে প্রচুর তাপশক্তি উৎপন্ন হয়।
- ক)(1)
পলিমার কাকে বলে?
- খ)(2)
কেরাটিন দিয়ে তৈরি পোশাক কোন ঋতুর জন্য উপযোগী - ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
রহিম সাহেবের কারখানার উৎপন্ন পদার্থটির ভৌত ধর্ম সম্পর্কে লেখো।
- ঘ)(4)
রহিম ও রহমানের কারখানার উৎপন্ন দ্রব্য দুটির মধ্যে কোনটি পরিবেশের জন্য বেশি ক্ষতিকর বলে তুমি মনে করো? যুক্তিসহ মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
অসংখ্য ছোট অণু (মনোমার) পরস্পর যুক্ত হয়ে যে বৃহৎ অণু গঠন করে, তাকে পলিমার (Polymer) বলে।
- খ)
কেরাটিন একটি প্রোটিন, যা পশম বা উলের প্রধান উপাদান। পশমের আঁশের ফাঁকে বাতাস আটকে থাকে এবং বাতাস তাপের কুপরিবাহী। ফলে শরীরের তাপ বাইরে যেতে পারে না। তাই কেরাটিনের তৈরি পোশাক শীতকালের জন্য উপযোগী।
- গ)
রহিম সাহেবের কারখানার উৎপন্ন পদার্থটি রাবার। সাদা বা হালকা বাদামি রং এবং টানলে লম্বা হওয়ার বৈশিষ্ট্য রাবারের ভৌত ধর্মের সঙ্গে মিলে যায়।
রাবারের ভৌত ধর্মগুলো হলো:
১. প্রাকৃতিক রাবার পানিতে অদ্রবণীয় একটি অদানাদার কঠিন পদার্থ।
২. এটি এসিটোন ও মিথানলে অদ্রবণীয় হলেও টারপেনটাইন, পেট্রোল, ইথার ও বেনজিনে সহজে দ্রবীভূত হয়।
৩. রাবার সাধারণত সাদা বা হালকা বাদামি রঙের হয়।
৪. এটি স্থিতিস্থাপক পদার্থ, অর্থাৎ টানলে লম্বা হয় এবং ছেড়ে দিলে আগের অবস্থায় ফিরে আসে।
৫. বেশিরভাগ রাবারই তাপ সংবেদনশীল, তাপ দিলে গলে যায়। তাপ দিলে অন্য পদার্থের মতো রাবারের আয়তন বাড়ে না, বরং কমে।
৬. বিশুদ্ধ রাবার বিদ্যুৎ ও তাপের কুপরিবাহী।
- ঘ)
আমার মতে, রহিম সাহেবের রাবারের চেয়ে রহমানের কারখানায় উৎপন্ন প্লাস্টিক পরিবেশের জন্য বেশি ক্ষতিকর। উদ্দীপক অনুযায়ী রহমানের পদার্থটি দাহ্য এবং পুড়লে প্রচুর তাপ উৎপন্ন করে, যা প্লাস্টিকের ধর্ম।
রাবার ও প্লাস্টিক উভয়ই পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে, তবে প্লাস্টিকের ক্ষতি তুলনামূলক বেশি।
১. পচনহীনতা: বেশিরভাগ প্লাস্টিক রাসায়নিকভাবে নিষ্ক্রিয় বলে বাতাসের অক্সিজেন ও জলীয় বাষ্পের সঙ্গে বিক্রিয়া করে না এবং পচে না। দীর্ঘদিন মাটি বা পানিতে পড়ে থাকলেও নষ্ট হয় না। অন্যদিকে প্রাকৃতিক রাবার বাতাসের অক্সিজেন ও ওজোনের সঙ্গে বিক্রিয়ায় ধীরে ধীরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।
২. বিষাক্ত গ্যাস: প্লাস্টিক পোড়ালে ক্ষতিকর পদার্থ তৈরি হয়। পিভিসি পোড়ালে হাইড্রোজেন ক্লোরাইড এবং পলিইউরেথেন পোড়ালে কার্বন মনোক্সাইড ও হাইড্রোজেন সায়ানাইডের মতো বিষাক্ত গ্যাস নির্গত হয়।
৩. জলাবদ্ধতা ও নাব্যতা সংকট: নর্দমা ও নালায় প্লাস্টিক জমে পানির প্রবাহ বন্ধ করে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে। নদী-খালে জমে নাব্যতা কমায়।
৪. মাটি ও খাদ্যশৃঙ্খলে ক্ষতি: মাটিতে জমে উর্বরতা নষ্ট করে। পশু ও মাছের দেহে প্রবেশ করে খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে মানুষের শরীরে পৌঁছায় এবং ক্যান্সারের মতো রোগ ঘটাতে পারে।
রাবারও, বিশেষ করে কৃত্রিম রাবার, পচনশীল নয় এবং বর্জ্য হিসেবে একই সমস্যা করে। তবে প্লাস্টিকের ব্যাপক ব্যবহার ও বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে এর ক্ষতির মাত্রা বেশি।
সুতরাং, প্লাস্টিক পরিবেশের জন্য বেশি ক্ষতিকর। তাই এর ব্যবহার কমানো, পুনর্ব্যবহার ও রিসাইক্লিং করা উচিত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও