সাধারণ জ্ঞান • Literature, arts and culture • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬
সাধারণ জ্ঞান প্রশ্ন
যে-কোনো একটি বিষয় অবলম্বনে প্রবন্ধ রচনা করো :
12.1.
জাতীয় উন্নয়নে তথ্যপ্রযুক্তি;
12.2.
পরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকার;
12.3.
গাছ লাগাও পরিবেশ বাঁচাও;
12.4.
মাদকাসক্তি ও তার প্রতিকার;
12.5.
প্রাকৃতিক নৈসর্গে বাংলাদেশ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকার
ভূমিকা:
মানুষ ও প্রকৃতির পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করেই গড়ে উঠেছে মানবসভ্যতা। আমাদের চারপাশের মাটি, পানি, বায়ু, উদ্ভিদ ও জীবজগৎ নিয়ে আমাদের পরিবেশ। সুস্থ ও সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্য একটি নির্মল পরিবেশের বিকল্প নেই। কিন্তু সভ্যতার অগ্রগতির সাথে সাথে মানুষ নিজের অজান্তেই তার আশ্রয়স্থল পরিবেশকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। বর্তমানে পরিবেশ দূষণ বিশ্বব্যাপী এক মারাত্মক সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে।
পরিবেশ দূষণের কারণ:
পরিবেশ দূষণের অন্যতম প্রধান কারণ হলো অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও দ্রুত শিল্পায়ন। কলকারখানার বিষাক্ত বর্জ্য ও ক্ষতিকর গ্যাস বাতাস ও পানিকে দূষিত করছে। অতিরিক্ত জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে বনভূমি উজাড় করা হচ্ছে। এছাড়া অপরিকল্পিত আবর্জনা নিষ্কাশন, প্লাস্টিক ও পলিথিনের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার, এবং কৃষিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের প্রয়োগ পরিবেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য পুরোপুরি বিনষ্ট করছে।
বিভিন্ন প্রকার দূষণ:
১. বায়ু দূষণ: যানবাহন ও শিল্প-কারখানার নির্গত কালো ধোঁয়া, ইটভাটার ধোঁয়া বাতাসে কার্বন ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড ইত্যাদি বাড়িয়ে বায়ুমণ্ডলকে দূষিত করে।
২. পানি দূষণ: গৃহস্থালি ও কারখানার অপরিশোধিত বর্জ্য, পয়ঃপ্রণালির জল এবং কৃষি রাসায়নিক নদী ও জলাশয়ের পানিতে মিশে জলজ বাস্তুতন্ত্র ধ্বংস করছে।
৩. মাটি দূষণ: অপচনশীল প্লাস্টিক, রাসায়নিক বর্জ্য ইত্যাদি সরাসরি মাটিতে ফেলায় মাটির স্বাভাবিক উর্বরতা ও গুণাগুণ নষ্ট হচ্ছে।
৪. শব্দ দূষণ: যানবাহনের তীব্র হর্ন, লাউডস্পিকার এবং কারখানার বিকট শব্দ মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক বিরূপ প্রভাব ফেলছে।
পরিবেশ দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব:
পরিবেশ দূষণের ফলে পৃথিবীতে জলবায়ু পরিবর্তন দেখা দিচ্ছে। এর ফলে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং মেরু অঞ্চলের বরফ গলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘনঘন খরা, বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সংখ্যা বাড়ছে। দূষণের প্রভাবে মানুষের মধ্যে ক্যান্সার, শ্বাসকষ্টসহ জটিল ব্যাধির বিস্তার ঘটছে এবং বহু প্রাণী ও উদ্ভিদের প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে।
দূষণ প্রতিকারের উপায়:
পরিবেশ দূষণ রোধে পরিকল্পিত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।
১. বনায়ন বৃদ্ধি করতে হবে এবং নির্বিচারে গাছ কাটা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
২. কলকারখানার বর্জ্য পরিশোধনের জন্য বাধ্যতামূলকভাবে ইটিপি (Effluent Treatment Plant) স্থাপন করতে হবে।
৩. জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার হ্রাস করে সৌরশক্তি ও বায়ুশক্তির মতো নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে।
৪. একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিক বর্জন করে পরিবেশবান্ধব পাটের ব্যাগ ব্যবহার করতে হবে।
৫. পরিবেশ সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিদ্যমান আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
উপসংহার:
পরিবেশ বাঁচলে বাঁচবে পৃথিবী, আর পৃথিবী বাঁচলেই টিকে থাকবে মানবজাতি। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য সুন্দর পৃথিবী রেখে যেতে হলে পরিবেশ দূষণ রোধে কেবল সরকারের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, বরং ব্যক্তিপর্যায় থেকে প্রতিটি নাগরিককে সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও