সাহিত্য পাঠ • মানব-বন্দনা • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
“আমি চাই মহত্ত্বের মহৎ পরাণ
মুকুতা মাণিক্য নিধি
আমারে দিওনা বিধি।
চাহিনে এ জগতের রাজত্ব সম্মান।
বাঞ্ছিত পরাণ পেলে
মেখে নেব মনুষ্যত্ব — শ্রেষ্ঠ উপাদান
প্রাণের সাধক আমি, সাধনীয় প্রাণ।”
- ক)(1)
‘প্রতিদান’ কবিতায় কবি কার জন্য কাঁদেন?
- খ)(2)
“দীঘল রজনী তার তরে জাগি’ ঘুম যে হরেছে মোর;” — অন্তর্নিহিত তাৎপর্য উদ্ঘাটন কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকের শেষ দুই পক্তির ভাব ‘প্রতিদান’ কবিতার কোন অংশে প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
“উদ্দীপকের কবির আকাঙ্ক্ষা এবং ‘প্রতিদান’ কবিতার কবির কর্মপন্থা — দুই-ই এক মহত্তম মানবিক দর্শনে সিক্ত।” — মন্তব্যের যাথার্থ্য মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
‘প্রতিদান’ কবিতায় কবি যে তাঁর বুক ভেঙেছে (বা যে কবির ঘর ভেঙেছে/অনিষ্ট করেছে) তার জন্য কাঁদেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
চরণটির অন্তর্নিহিত তাৎপর্য হলো— অনিষ্টকারীর প্রতিও কবির গভীর ক্ষমা, সহানুভূতি ও মঙ্গলকামনা। কবিকে যে ব্যক্তি অনিদ্রার বেদনা উপহার দিয়েছে, অর্থাৎ যে তাঁর জীবনে কষ্ট বা আঘাত হেনেছে, কবি তার প্রতি কোনো আক্রোশ বা প্রতিশোধপরায়ণ মনোভাব পোষণ করেন না। বরং ব্যথিত হয়ে সেই অনিষ্টকারীর মঙ্গল কামনায় সারা রাত জেগে থাকেন। অপকারের বিপরীতে উপকার ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসার এক পরম পরাকাষ্ঠা চরণটিতে প্রকাশ পেয়েছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের শেষ দুই পঙ্ক্তি— “বাঞ্ছিত পরাণ পেলে / মেখে নেব মনুষ্যত্ব — শ্রেষ্ঠ উপাদান / প্রাণের সাধক আমি, সাধনীয় প্রাণ”— এর মূল সুর হলো নিখাদ মনুষ্যত্ব অর্জন এবং জীবের প্রতি অকৃত্রিম মমত্ববোধ।
‘প্রতিদান’ কবিতার যে অংশে কবি নিজের বুক ভাঙা মানুষের জন্য ঘর বাঁধার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছেন এবং বলেছেন:
“আপন করিতে কাঁদিয়া বেড়াই যে মোরে করেছে পর।”
কিংবা সমগ্র কবিতার সামগ্রিক যে মানবিক আদর্শ— যেখানে কবি নিজের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে শত্রুকেও আপন করে নিয়ে পরম মনুষ্যত্বের পরিচয় দিয়েছেন, সেই অংশের ভাবের সাথেই উদ্দীপকের শেষ পঙ্ক্তিদ্বয় প্রতিফলিত হয়েছে। উদ্দীপকের কবির লক্ষ্য যেমন পার্থিব ধনদৌলত নয় বরং মনুষ্যত্বকে বরণ করে প্রাণের সাধনা করা, তেমনি ‘প্রতিদান’ কবিতায় কবিও ক্ষমা ও ক্ষমার মহিমায় সমস্ত বিদ্বেষ ভুলে মানুষকে ভালোবাসার শ্রেষ্ঠ মানবিক ধর্মে নিজেকে সমর্পণ করেছেন। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“উদ্দীপকের কবির আকাঙ্ক্ষা এবং ‘প্রতিদান’ কবিতার কবির কর্মপন্থা — দুই-ই এক মহত্তম মানবিক দর্শনে সিক্ত।” — মন্তব্যটি যথার্থ।
উদ্দীপকের কবি পার্থিব ধন-সম্পদ, মণি-মুক্তা কিংবা ক্ষমতার রাজত্ব চান না; তিনি চান মহৎ একটি হৃদয় এবং শ্রেষ্ঠ উপাদান ‘মনুষ্যত্ব’। প্রাণের পূজারি হিসেবে তিনি মানুষের প্রতি ভালোবাসায় মনুষ্যত্বকে ধারণ করতে ব্যাকুল। অর্থাৎ তাঁর আকাঙ্ক্ষা মানবপ্রেম ও মহত্ত্ব অর্জনের।
অপরদিকে ‘প্রতিদান’ কবিতায় কবি জসীমউদ্দীন এই মনুষ্যত্ব ও মহত্ত্বকে বাস্তবে নিজের কর্মপন্থায় রূপায়িত করেছেন। কবি তাঁর ক্ষতিসাধনকারীকে পরম মমতায় আপন করে নিয়েছেন। যে তাঁর ঘর ভেঙেছে তিনি তার ঘর বেঁধে দেন, যে বিষ দিয়েছে তাকে তিনি কুলভরা ফুল উপহার দেন এবং যে পর করেছে তাকে তিনি আপন করার জন্য ব্যাকুল হন। অর্থাৎ উদ্দীপকের কবি যে মনুষ্যত্ব ও মহৎ হৃদয়ের আকাঙ্ক্ষা করেছেন, ‘প্রতিদান’ কবিতার কবি তাঁর কর্মের মাধ্যমে সেই অহিংসা, ক্ষমা ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসার চূড়ান্ত রূপ প্রদর্শন করেছেন।
সুতরাং দেখা যায়, উদ্দীপকের চেতনাগত আকাঙ্ক্ষা এবং ‘প্রতিদান’ কবিতার কবির বাস্তব কর্মপন্থা— উভয়েরই মূল ভিত্তি হলো স্বার্থহীন মানবপ্রেম ও ক্ষমা। তাই বলা যায়, উভয় দৃষ্টিভঙ্গিই এক অভিন্ন ও মহত্তম মানবিক দর্শনে সিক্ত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও