ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯
ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন
জনাব নিজাম ও ফিরোজ মামাত-ফুফাত ভাই। ফিরোজ আল-কোরআনের বিধান মোতাবেক জীবন পরিচালনা করে না। পার্থিব জীবনের সুখ-শান্তি ও সফলতাই তার জীবনের মূল লক্ষ্য। দু জনের সাক্ষাতে এক পর্যায়ে ফিরোজের জীবনের হতাশার কথা ব্যস্ত করে। পক্ষান্তরে নিজাম আল-কোরআনের বিধান মোতাবেক সৎ জীবন-যাপন করে। দু জনের আলাপচারিতায় নিজাম ফিরোজকে বলল, আল-কোরআনের বিভিন্ন সূরায় মানবজীবনের সকল বিষয়ের বর্ণনা করা হয়েছে, এমনকি গাভীর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
- ক)(1)
আন-নূর শব্দের অর্থ কী?
- খ)(2)
আল-কুরআনকে ফুরকান বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত নিজামের আলাপচারিতায় আল-কুরআনের কোন সূরার বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে ফিরোজের চিন্তা-ভাবনাকে সঠিক বলে তুমি মনে কর কি? তোমার পাঠ্য বইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আন-নূর (النور) শব্দের অর্থ 'আলো' বা 'জ্যোতি'।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আল-কুরআনকে 'ফুরকান' (সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী) বলা হয় কারণ এই গ্রন্থটি সত্য ও মিথ্যার মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য নির্ণয় করে দেয়। আল-কুরআনের মাধ্যমে কোনটি সঠিক পথ এবং কোনটি ভ্রান্ত পথ, কোনটি ন্যায় এবং কোনটি অন্যায়—তা স্পষ্ট হয়ে যায়। মানুষের পথপ্রদর্শনে হক ও বাতিলের সুস্পষ্ট বিভাজনকারী হিসেবে এর নাম 'ফুরকান'।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত নিজামের আলাপচারিতায় আল-কুরআনের সর্ববৃহৎ সূরা 'সূরা আল-বাকারাহ'-এর বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে।
'বাকারাহ' (البقرة) শব্দের অর্থ গাভী। বনি ইসরাইল জাতির একটি গাভী জবেহ সংক্রান্ত ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ থাকার কারণে এই সূরার নামকরণ করা হয়েছে 'সূরা আল-বাকারাহ'। এ সূরায় মানবজীবনের প্রায় সকল দিক—যেমন বিশ্বাস, পারিবারিক আইন, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অনুশাসন, ইবাদত এবং পূর্ববর্তী জাতিসমূহের ইতিহাস বিশদভাবে আলোচনা করা হয়েছে।
উদ্দীপকে নিজাম বলেছে যে কুরআনের বিভিন্ন সূরায় জীবনের সকল বিষয় এমনকি গাভীর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে, যা স্পষ্টতই সূরা বাকারাহর বিষয়বস্তুর প্রতি ইঙ্গিত করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ফিরোজের চিন্তা-ভাবনাকে আমি সঠিক বলে মনে করি না। কারণ তার চিন্তা-ভাবনা বস্তুবাদী এবং ইসলামের মৌলিক আকীদার পরিপন্থী।
ইসলামের দৃষ্টিতে মানুষের জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য কেবল পার্থিব ভোগ-বিলাস ও সুখ-শান্তি অর্জন নয়। বরং দুনিয়ার জীবন হলো আখিরাতের শস্যক্ষেত্র (আদ-দুনয়া মাজরাআতুল আখিরাহ)। যে ব্যক্তি আল-কুরআনের দিকনির্দেশনা ত্যাগ করে কেবল দুনিয়ার পেছনে ছোটে, তার জীবনে মানসিক শান্তি থাকে না এবং চূড়ান্তভাবে সে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে, যা ফিরোজের ক্ষেত্রে ঘটেছে।
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ঘোষণা করেছেন যে, যে আমার স্মরণ থেকে বিমুখ হবে, তার জীবনযাপন হবে সংকুচিত ও দুর্দশাগ্রস্ত (সূরা ত্বা-হা: ১২৪)। অতএব, দুনিয়া ও আখিরাতের প্রকৃত সফলতা ও মানসিক শান্তি পেতে হলে কুরআনের বিধান অনুসারে জীবন পরিচালনা করাই একমাত্র সঠিক পথ। ফিরোজের ইহজাগতিক লক্ষ্য তাকে হতাশায় নিমজ্জিত করেছে, যা তার চিন্তার অসাড়তা প্রমাণ করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও