অর্থনীতি ২য় পত্র • জনসংখ্যা ও মানব সম্পদ • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৫

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    মানবসম্পদ উন্নয়ন কী?

    (1)
  2. খ)

    'শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ আত্মকর্মসংস্থানের দুটি প্রধান উপাদান'- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপক অনুসারে P,Q এবং R বিন্দুর অসামঞ্জস্যের পরিমাণ নির্ণয় করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে N বিন্দুতে কাম্য জনসংখ্যা হতে পারে কি না? ব্যাখ্যা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উপযুক্ত শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবা ও সুযোগ-সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে দেশের জনগণকে দক্ষ, কর্মক্ষম ও উৎপাদনশীল মানবসম্পদে রূপান্তর করার প্রক্রিয়াকে মানবসম্পদ উন্নয়ন বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আত্মকর্মসংস্থান বলতে নিজস্ব অর্থ ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে নিজের কর্মসংস্থান নিজে সৃষ্টি করাকে বোঝায়।

    শিক্ষা মানুষের অন্তর্নিহিত গুণাবলি ও জ্ঞানের বিকাশ ঘটায়, যা একজন ব্যক্তিকে নতুন সুযোগ চিহ্নিত করতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণ ব্যক্তিকে কোনো নির্দিষ্ট কাজে ব্যবহারিক দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা প্রদান করে। উপযুক্ত শিক্ষা ছাড়া সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করা যায় না এবং প্রশিক্ষণ ছাড়া কাজে দক্ষতা আসে না। তাই স্বকর্মসংস্থান বা আত্মকর্মসংস্থানের ভিত্তি সফলভাবে গড়ে তোলার জন্য শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দুটি অপরিহার্য উপাদান।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে কাম্য জনসংখ্যা তত্ত্বে জনসংখ্যার অসামঞ্জস্যের মাত্রা নির্ণয় করতে ডাল্টনের সূত্রটি ব্যবহৃত হয়:
    অসামঞ্জস্যের পরিমাণ, M=A−OOM = \frac{A - O}{O}
    এখানে,
    MM = অসামঞ্জস্যের পরিমাণ (Degree of Maladjustment)
    AA = প্রকৃত জনসংখ্যা (Actual Population)
    OO = কাম্য জনসংখ্যা (Optimum Population)

    চিত্রানুযায়ী, মাথাপিছু আয় সর্বোচ্চ (৩,১০০ ডলার) হয় Q বিন্দুতে। সুতরাং কাম্য জনসংখ্যা, O=১৪O = ১৪ কোটি।

    ১. P বিন্দুতে অসামঞ্জস্যের পরিমাণ:
    প্রকৃত জনসংখ্যা A=৭A = ৭ কোটি।
    MP=৭−১৪১৪=−৭১৪=−০.৫M_P = \frac{৭ - ১৪}{১৪} = \frac{-৭}{১৪} = -০.৫
    যেহেতু M<0M < 0, তাই P বিন্দুতে নিম্ন জনসংখ্যা বা কম জনসংখ্যা বিদ্যমান।

    ২. Q বিন্দুতে অসামঞ্জস্যের পরিমাণ:
    প্রকৃত জনসংখ্যা A=১৪A = ১৪ কোটি।
    MQ=১৪−১৪১৪=০১৪=০M_Q = \frac{১৪ - ১৪}{১৪} = \frac{০}{১৪} = ০
    যেহেতু M=0M = 0, তাই Q বিন্দুতে কাম্য জনসংখ্যা নির্দেশ করে এবং কোনো অসামঞ্জস্য নেই।

    ৩. R বিন্দুতে অসামঞ্জস্যের পরিমাণ:
    প্রকৃত জনসংখ্যা A=২১A = ২১ কোটি।
    MR=২১−১৪১৪=৭১৪=+০.৫M_R = \frac{২১ - ১৪}{১৪} = \frac{৭}{১৪} = +০.৫
    যেহেতু M>0M > 0, তাই R বিন্দুতে অতিরিক্ত জনসংখ্যা বা জনাধিক্য বিদ্যমান।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লেখিত N বিন্দুটি কাম্য জনসংখ্যা হতে পারে। নিচে এর সপক্ষে যুক্তি ও বিশ্লেষণ তুলে ধরা হলো:

    যে পরিমাণ জনসংখ্যা দেশের প্রাপ্ত প্রাকৃতিক ও অন্যান্য সম্পদের সাথে সমন্বিত হয়ে সর্বোচ্চ মাথাপিছু উৎপাদন বা আয় নিশ্চিত করে, তাকে কাম্য জনসংখ্যা বলে। উদ্দীপকের চিত্রে দেখা যায়, বর্তমান অবস্থায় জনসংখ্যা যখন ১৪ কোটি (Q বিন্দু), তখন মাথাপিছু আয় সর্বোচ্চ ৩,১০০ ডলার। ফলে বর্তমান প্রযুক্তি ও সম্পদ কাঠামোর ভিত্তিতে Q বিন্দুই হলো কাম্য জনসংখ্যা বিন্দু।

    চিত্রের N বিন্দুটি নির্দেশ করে এমন একটি অবস্থান, যেখানে জনসংখ্যা ১৪ কোটির চেয়ে বেশি (২১ কোটি বা তার কাছাকাছি) এবং মাথাপিছু আয়ও ৩,১০০ ডলারের কাছাকাছি বা সমপর্যায়ের উচ্চ স্তরে বিদ্যমান।

    কাম্য জনসংখ্যা কোনো স্থির বা চিরন্তন ধারণা নয়, এটি একটি পরিবর্তনশীল বা গতিশীল ধারণা। যদি কোনো দেশে:
    ১. বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও কারিগরি ক্ষেত্রে ব্যাপক অগ্রগতি সাধিত হয়,
    ২. নতুন প্রাকৃতিক সম্পদ আবিষ্কৃত হয় এবং সম্পদের সদ্ব্যবহার বৃদ্ধি পায়,
    ৩. মূলধন গঠন ও আধুনিক উৎপাদন ব্যবস্থার প্রসার ঘটে, এবং
    ৪. মানবসম্পদের দক্ষতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়,

    তবে দেশের উৎপাদন সম্ভাবনা রেখা তথা মাথাপিছু আয় রেখাটি ওপরের দিকে এবং ডানদিকে স্থানান্তরিত (shift) হবে। ফলস্বরূপ, অধিক জনসংখ্যার জন্যও উচ্চতর মাথাপিছু আয় অর্জন করা সম্ভব হবে। অর্থাৎ, পরিবর্তিত ও উন্নত আর্থ-সামাজিক ও প্রযুক্তিগত পরিস্থিতিতে উদ্দীপকের N বিন্দুটি নতুন কাম্য জনসংখ্যা বিন্দুতে রূপান্তরিত হতে পারে।

    সুতরাং, উপযুক্ত অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে উদ্দীপকের N বিন্দুতে কাম্য জনসংখ্যা অর্জন করা সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন