ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র • অংশীদারি ব্যবসায় • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৬
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র প্রশ্ন
কণা ও তমা ১০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগে একটি অংশীদারি প্রতিষ্ঠান স্থাপন করে। অতিরিক্ত মূলধনের প্রয়োজনে ঘনিষ্ঠ বান্ধবী মুনাকে অংশীদার হিসেবে গ্রহণ করেন এ শর্তে যে, মুনা ৬ লক্ষ টাকা দিবে তবে ব্যবসায় পরিচালনায় অংশগ্রহণ করবে না। ২০১৫ সালে আদালত মুনাকে দেউলিয়া ঘোষণা করে। দুর্ভাগ্যবশত অল্পদিন পরে সড়ক দুর্ঘটনায় কণা মৃত্যুবরণ করে।
- ক)(1)
অংশীদারি ব্যবসায়ের সংজ্ঞা দাও।
- খ)(2)
আচরণে অনুমিত অংশীদার বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
মুনা কোন ধরনের অংশীদার? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
প্রতিষ্ঠানটির পরিণতি সম্বন্ধে তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৩২ সালের অংশীদারি আইনের ৪ ধারা অনুযায়ী, সকলের দ্বারা বা সকলের পক্ষে একজনের দ্বারা পরিচালিত ব্যবসায়ের মুনাফা নিজেদের মধ্যে বণ্টনের উদ্দেশ্যে চুক্তিবদ্ধ ব্যক্তিবর্গের মধ্যকার সম্পর্ককে অংশীদারি ব্যবসায় বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো ব্যক্তি যদি ব্যবসায়ের অংশীদার না হয়েও কথায় বা আচরণে নিজেকে অংশীদার হিসেবে প্রকাশ করে বা পরিচয় দেয়, তবে তাকে আচরণে অনুমিত অংশীদার বলে।
এরূপ ক্ষেত্রে ব্যবসায়ের অন্য কোনো অংশীদার যদি তার উক্ত প্রকাশকে অস্বীকার না করে নীরব থাকে, তবে তৃতীয় পক্ষের নিকট উক্ত ব্যক্তি একজন অংশীদার হিসেবে গণ্য হয়। এর ফলে কোনো তৃতীয় পক্ষ যদি তাকে অংশীদার মনে করে কারবারের সাথে লেনদেন বা ঋণ প্রদান করে, তবে সেই ঋণের জন্য উক্ত ব্যক্তি দায়বদ্ধ থাকে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত মুনা হলেন একজন 'ঘুমন্ত' বা 'নিষ্ক্রিয়' অংশীদার (Sleeping or Dormant Partner)।
যে অংশীদার ব্যবসায়ে চুক্তি অনুযায়ী মূলধন বিনিয়োগ করেন এবং লাভ-লোকসানের অংশ ভোগ করেন, কিন্তু চুক্তি অনুসারে ব্যবসায়ের দৈনন্দিন বা প্রত্যক্ষ পরিচালনায় অংশ নেন না, তাকে ঘুমন্ত বা নিষ্ক্রিয় অংশীদার বলে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, অতিরিক্ত মূলধনের প্রয়োজনে কণা ও তমা তাদের বান্ধবী মুনাকে ৬ লক্ষ টাকা মূলধন প্রদানের শর্তে অংশীদার করে। তবে স্পষ্ট শর্ত ছিল যে, মুনা ব্যবসায়ের পরিচালনায় অংশগ্রহণ করবে না। সুতরাং, মূলধন জোগান ও মুনাফা প্রাপ্তির অধিকার থাকলেও পরিচালনায় অংশগ্রহণ না করায় মুনা একজন ঘুমন্ত বা নিষ্ক্রিয় অংশীদার।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানটির অনিবার্য পরিণতি হলো এটি আইনের দৃষ্টিতে বিলোপসাধন বা অবসান ঘটবে।
১৯৩২ সালের অংশীদারি আইন অনুযায়ী, সাধারণ অংশীদারি ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে কোনো অংশীদার দেউলিয়া হলে বা মৃত্যুবরণ করলে এবং অংশীদারের সংখ্যা ন্যূনতম আইনগত সীমার (২ জন) নিচে নেমে গেলে ব্যবসায়ের বিলোপসাধন ঘটে। তবে চুক্তিতে ভিন্ন কিছু উল্লেখ থাকলে অবশিষ্ট অংশীদাররা চাইলে কারবার চালিয়ে নিতে পারে।
উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানে সদস্য ছিল তিনজন— কণা, তমা এবং মুনা। ২০১৫ সালে আদালত মুনাকে দেউলিয়া ঘোষণা করায় তিনি অংশীদারিত্বের যোগ্যতা হারান। অবশিষ্ট থাকে দুজন— কণা ও তমা। দুর্ভাগ্যবশত সড়ক দুর্ঘটনায় কণার মৃত্যু হলে প্রতিষ্ঠানে অবশিষ্ট সদস্য সংখ্যা দাঁড়ায় মাত্র একজনে (তমা)। অংশীদারি ব্যবসায়ে ন্যূনতম দুইজন সদস্যের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। যেহেতু একজন ব্যক্তি দ্বারা অংশীদারি ব্যবসায় চলতে পারে না, সেহেতু কারবারটি আইনগতভাবেই অবলুপ্তির সম্মুখীন হয়।
অতএব, কণার মৃত্যুর পর সদস্যসংখ্যা একজনের নিচে নেমে যাওয়ার কারণে ১৯৩২ সালের অংশীদারি আইন মোতাবেক প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ হওয়া বা বিলোপসাধন ঘটা অনিবার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও