সহপাঠ • নাটক: সিরাজউদ্দৌলা • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫
সহপাঠ প্রশ্ন
তৎকালীন বেশিরভাগ জমিদার ছিল অত্যাচারী, প্রজাপীড়ক। এদের মধ্যে ব্যতিক্রম ছিলেন রাজা কৃষ্ণচন্দ্র। তিনি ছিলেন প্রজাঅন্তঃপ্রাণ। কৃষ্ণচন্দ্র কোমল হৃদয়ের রাজা হলেও দেশের স্বাধীনতার প্রশ্নে ছিলেন আপসহীন।
- ক)(1)
"Victory or death" — কার সংলাপ?
- খ)(2)
"ভীরু প্রতারকের দল চিরকালই পালায়।"— ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকটি 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের সাথে কীভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ? আলোচনা করো।
- ঘ)(4)
"স্বাধীনতার প্রশ্নে আপসহীন" — কথাটির আলোকে উদ্দীপক ও 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটক বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"Victory or death" উক্তিটি দেশপ্রেমিক ফরাসি সেনাপতি সাঁফ্রের।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"ভীরু প্রতারকের দল চিরকালই পালায়" কথাটি দিয়ে স্বার্থপর, কাপুরুষ ও বিশ্বাসঘাতক ইংরেজদের রণক্ষেত্র থেকে পলায়নপর স্বভাবের প্রতি ঘৃণা ও তাচ্ছিল্য প্রকাশ করা হয়েছে।
ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ পতনের পর গভর্নর ড্রেক ও তার সঙ্গীরা যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে জাহাজে আশ্রয় নেয়। তাদের এমন কাপুরুষোচিত আচরণ দেখে নবাবের অনুগত সেনাপতি মানিকচাঁদ এ মন্তব্য করেন। যারা কেবল চক্রান্ত ও শোষণে পারদর্শী, সংকটকালে তারা নিজেদের জীবন বাঁচাতে কাপুরুষের মতো পলায়ন করে— এই সত্যটিই এখানে বোঝানো হয়েছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের প্রজাবাৎসল্য ও দেশপ্রেমের দিকটি 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র নবাব সিরাজউদ্দৌলার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে দেখা যায়, বাংলার তরুণ নবাব সিরাজউদ্দৌলা ছিলেন প্রজাঅন্তঃপ্রাণ ও দেশের স্বাধীনতার প্রশ্নে আপসহীন এক নির্ভীক শাসক। তিনি বাংলার মানুষের মুক্তি ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য ইংরেজ বেনিয়া শক্তির বিরুদ্ধে আমৃত্যু সংগ্রাম করে গেছেন। তিনি প্রজা এবং দেশের স্বার্থকে সর্বদা নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে স্থান দিয়েছেন।
উদ্দীপকের রাজা কৃষ্ণচন্দ্র যেমন সমসাময়িক অত্যাচারী জমিদারদের বিপরীতে প্রজাঅন্তঃপ্রাণ ও দেশের স্বাধীনতার প্রশ্নে আপসহীন ছিলেন, ঠিক তেমনি নবাব সিরাজউদ্দৌলাও চারপাশের স্বার্থপর, চক্রান্তকারী ও বিশ্বাসঘাতকদের মাঝে ছিলেন নিঃস্বার্থ দেশপ্রেমিক ও প্রজাদরদি। তাই প্রজাহিতৈষণা ও স্বদেশপ্রেমের ক্ষেত্রে উদ্দীপকটি 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"স্বাধীনতার প্রশ্নে আপসহীন"— উক্তিটি উদ্দীপকের রাজা কৃষ্ণচন্দ্র এবং 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের নবাব সিরাজউদ্দৌলা উভয়ের ক্ষেত্রেই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও যথার্থ।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে নবাব সিরাজউদ্দৌলা বাংলার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য নানামুখী ষড়যন্ত্রের মধ্যেও কোনো আপস করেননি। ইংরেজদের কূটকৌশল, দরবারের প্রভাবশালী অমাত্যদের বিশ্বাসঘাতকতা এবং আত্মীয়দের বৈরিতা সত্ত্বেও তিনি কখনো নতি স্বীকার করেননি। এমনকি চরম প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তিনি দেশ ও মাতৃভূমির স্বাধীনতা রক্ষায় যুদ্ধ চালিয়ে গেছেন এবং শেষ পর্যন্ত নিজের জীবন বিসর্জন দিয়েছেন, কিন্তু দেশদ্রোহীদের সঙ্গে আপস করেননি।
উদ্দীপকের রাজা কৃষ্ণচন্দ্র একজন কোমল হৃদয়ের প্রজাঅন্তঃপ্রাণ মানুষ হওয়া সত্ত্বেও দেশের স্বাধীনতার প্রশ্নে ছিলেন কঠোর ও আপসহীন। এই বৈশিষ্ট্যটি সিরাজউদ্দৌলার চরিত্রের মূল সুরের সাথে পুরোপুরি মিলে যায়। সিরাজউদ্দৌলাও কোমল হৃদয়ের মানুষ ছিলেন বলেই বারবার মীরজাফরদের বিশ্বাস করেছিলেন এবং ক্ষমা প্রদর্শন করেছিলেন, কিন্তু যখনই বাংলার স্বাধীনতা ও সম্মানের প্রশ্ন এসেছে, তিনি কোনো প্রকার লোভ বা ভয়ের কাছে মাথা নত করেননি।
সুতরাং, দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতাকে যেকোনো মূল্যে রক্ষা করার মানসিকতার দিক দিয়ে উদ্দীপকের কৃষ্ণচন্দ্র ও নাটকের সিরাজউদ্দৌলা অভিন্ন চেতনার ধারক। তাই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও